সরকার দলীয় সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার,আলহাজ্ব মকবুল হোসেন,জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও সংসদ সদস্য রুহুল আমিন হাওলাদার,বেক্সিমকোর প্রতিষ্ঠাতা ও আওয়ামী লীগ নেতা সালমান এফ রহমান, ওরিয়ন গ্রুপের মালিক এম ওবায়দুল করিমসহ সরকারি ও বেসরকারি ৭ শতাধিক প্রভাবশালী ব্যাক্তি ঢাকা সিটি করপোরেশনকে(ডিসিসি) হোল্ডিং ট্যাক্স  দিচ্ছে না।
তাদের ট্যাক্স বাবদ বকেয়া ৫ শত  কোটি টাকার বেশি। ফলে এই সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আর এই ট্যাক্স আদায়ের জন্য ডিসিসি দফা দফায় চিঠি এবং মালামাল ক্রোকের অভিযান সত্ত্বেও সাড়া দিচ্ছে না এসব ভিআইপিরা।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে পাওনা  প্রায়  সাড়ে ৩ শত  কোটি টাকা এবং  ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পাওনা ২ শত কোটি টাকা।
ট্যাক্স খেলাপিদের মধ্যে  প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এদের কয়েকজন  মামলা করে ঝুলিয়ে রেখেছে ট্যাক্স।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির ১ লাখ ২৪ হাজার হোল্ডিংয়ের মধ্যে ট্যাক্স বকেয়া রয়েছে, সালমান এফ রহমানের প্রায় ২০ কোটি টাকা, হোটেল  রূপসী বাংলার   ১৮ কোটি টাকা, হলি ফ্যামিলি  রেডক্রিসেন্ট হাসপাতাল এবং রেডক্রিসেন্ট  সোসাইটির  ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা, বাংলাদেশ রেলওয়ের  ৫ কোটি,রাজউকের  দেড় কোটি,এজিবি’র ২৪ লাখ টাকা,আইডিবির ৮২ লাখ টাকা,ইস্টার্ন বেঙ্গল ট্যানারির সাড়ে ৬ লাখ টাকা, ফুটবল ফেডারেশনের ৮৬ লাখ টাকা,খিলগাঁয়ের মো.আবদুল সালামর ৪৮ লাখ টাকা, উত্তর গোরানের রাজিয়া বেগমের ৩৪ লাখ টাকা,দি মুসলিম লিমিটেডের ৬১ লাখ টাকা, তরঙ্গ বাংলাদেশ লিমিটেরেডের ২৮ লাখ টাকা,ঢাকা বয়েজ স্কাউট এ্যাসোসিয়েশনের ৩১ লাখ টাকা, সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার মরহুম মোশাররফ হোসেন মজুর ১০ লাখ টাকা, উত্তর কমলাপুরের আওয়ামীলীগ নেতা ফারুকের ৬ লাখ টাকা,ফকিরা পুলে আবদুল হাইয়ের ১৩ লাখ টাকা, সিদ্বেশ্বরীতে দখলে ষ্ট্যামফোর্ড ইউনিভিাসিটি ৩৬ লাখ টাকা, হ্যাপি প্রপাটিজের ২৩ লাখ টাকা, আদদ্বীন হাসপাতালের এবং মেডিকেল কলেজের ১ কোটি ১২ লাখ টাকা,  বাংলাদেশ সোসাইটি অব আল্টাসনোগ্রাফীর ১০ লাখ টাকা,বোরহান উদ্দিন কলেজের ৩৬ লাখ টাকা, লালবাগ মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজের২৯ লাখ টাকা।এছাড়া ঢাকা দক্ষিণে ৫০ হাজার টাকা থেকে ১০লাখ টাকা খেলাপির রয়েছে ৩ শতাধিক নাম।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির উপ প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদার টাইমনিউজবিডিকে বলেন,মালিকদের কাছে দফায় দফায় নোটিশ পাঠাচ্ছি,গত মাসের ২০ তারিখ থেকে মালামালও ক্রোক অভিযান চলছে।
এদিকে, ঢাকা উত্তর সিটিতে ১ লাখ ৪৭ হাজার হোল্ডিংয়ে ট্যাক্স বকেয়া প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা। আর ট্যাক্স খেলাপির শীর্ষে রয়েছে কামাল মজুমদারে এমপি’র নিয়ন্ত্রণাধীন  মনিপুর হাইস্কুলের ১ কোটি ২০ লাখ টাকা, একাপো প্যাকের সাড়ে ১৬ লাখ টাকা, মুক্তবাংলা বহুমুখী কো-অপারেটিভ সোসাইটির ২৫ লাখ  টাকা, মিরপুর মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের সাড়ে ১৪ লাখ  টাকা, কুসুমে বাগদাদ সম্পাদক মো. শাহ আল খানের ৪৩ লাখ টাকা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের ১৪ লাখ টাকা,পিডব্লিউডি নির্বাহী প্রকৌশলীর সেকশন ২,১২ও ১৪এর বকেয়া ২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা,আলনাহিয়ান ট্রাস্টের ১৫ লাখ টাকা, বারিধারর আবদুল হাকিমের সাড়ে ২৩ লাখ টাকা, গুলশানে চলচিত্র প্রতিষ্ঠানের সাড়ে ৩৩ লাখ টাকা , বানিচিত্র প্রতিষ্ঠানের ৬৫ লাখ টাকা,রীনা হুমায়ুনের ৯১ লাখ টাকা, শাহীন আক্তারের ৫৭ লাখ টাকা,ইকবাল আহমেদের ৫৩ লাখ টাকা,বনানীর নির্বাহী প্রকৌশলী উন্নয়ন বিভাগ সাড়ে ২৪ লাখ টাকা,কনফারেন্স এ্যান্ড ডেভলমেন্ট লি. ২৯ লাখ টাকা, আবু ইউসুফের ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, মো, সাহাবুদ্দিনের ৪১ লাখ টাকা,আলহাজ্ব মকবুল হোসেনর ১ কোটি,গোলাম কুদ্দুসের ৩৯ লাখ টাকা,তেজগাঁও এলাকায় ঢাকা রি রোলিং মিলের ১৭ লাখ টাকা,আইডিয়াল কাস্টিং ফ্যাক্টরির ৩৭ লাখ টাকা , জাতীয় পার্টির রুহুল আমিন হাওলাদারের মেটাল প্রোডাক্ট লি.পৌনে ৩ কোটি টাকা, রোকেয়া বেগেমের ৪৫ লাখ টাকা,মিরপুরে মিজানুর রহমানের ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা,মোসলেহ উদ্দিনের ১ কোটি ১২ লাখ টাকা,হযরত শাহআলী মাকের্টের ২ কোটি ২৭ লাখ টাকা, আবদুল করিমের দেড় কোটি টাকা,ন্যাশনাল হার্টফাউন্ডেশনের ৪২ লাখ টাকা,আগা মনসুরের ৩০ লাখ টাকা,গুলশানে ইউনাইটেড হাসপাতালের ২৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা, বাণীচিত্র চলচ্চিত্রের ৮৯ লাখ  টাকা, ওয়েস্টিন হোটেলের৭ কোটি টাকা, লিয়াকত আলী খানের সাড়ে ৩৩ লাখ টাকা,  ইকবাল আহমেদের  ৪৮ লাখ  টাকা, রোকেয়া হোসেনের  ৫৫ লাখ টাকা, ইসমাইল হোসেনের  ৩৬ লাখ টাকা এবং তসলিমা মাহমুদের১৮ লাখ  টাকা পাওনা রয়েছে।মেসার্স পদ্মা প্রিন্টার্স এন্ড কালারের  ৮০ লাখ টাকা, ডেংগু মিয়ার কাছে ৫৩ লাখ ৫২ হাজার ২৫৪ টাকা, মুজিবুর রহমানের  পাওনা ৮১ লাখ ৪৯ হাজার ২৮০ টাকা।
কারওয়ান বাজার এলাকায় এম এ আউয়ালের  ৮১ লাখ  টাকা, জালালাবাদ টেলিকমের সাড়ে ১৭ লাখ টাকা, ফয়জুল্লা সান চৌধুরীর সাড়ে ৭৫ লাখ টাকা, বেল্লাল হোসেনের  ৫৪ লাখ  টাকা পাওনা। এছাড়া ৫০ হাজার টাকা থেকে ১০ লাখ টাকার ট্যাক্স বকেয়ার মালিকদের সংখ্যা ৩ শতাধিক হবে।
ঢাকা উত্তরের উপ প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসীন আলী টাইমনিউজবিডিকে বলেন,হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের জন্য চূড়ান্ত নোটিশ  দেয়ার পর গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে খেলাপিদের মালামাল ক্রোক অভিযান চলছে।
তবে আদালতে মামলার কারণে ট্যাক্স আদায় বন্ধ রয়েছে:গুলমানের এমএ তাহেরের ১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা,ফয়সাল কবির চৌধুরীর ৮৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা,কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের ২৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা,বিটিসিএলর ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা, বিসিএস প্রশাসনের ৪৪ লাখ টাকা আরো বেশ কয়জনের মামলা রয়েছে।
[b]ঢাকা,একে,২০ মার্চ(টাইমনিউজবিডি.কম)//এএইচ[/b]