শ্রীলঙ্কার সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধরা সংখ্যালঘু মুসলিমদের উপর হামলা চালিয়েছে। এতে আহত হয়েছেন কমপক্ষে পাঁচ জন। ভাংচুর করা হয়েছে মসজিদ ও কিছু দোকান-পাট।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, আজ (মঙ্গলবার) দেশটির পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে। তবে, সংঘর্ষের ঘটনা গতকালের। দেশটির পূর্বাঞ্চলের শহর আমপারাতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশের মুখপাত্র রাওয়ান গুনাসেকারা জানান, গতকাল (২৬ ফেব্রুয়ারি) সিংহলিরা হামলা চালিয়ে একটি মসজিদ, ৪টি দোকান এবং কিছু যানবাহন ভাংচুর করে। এই ঘটনায় পাঁচ জন আহত হয়।
সোমবারের ওই সংঘর্ষের পর আমপারা শহরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কুটনৈতিকরা গত বছর মুসলিমদের উপর সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছিলেন এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার ও ধর্মপালনের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।
দেশটির প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা এবং প্রধানমন্ত্রী রাণিল বিক্রমাসিংঘে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করার প্রতিশুতি দিলেও মুসলিমদের ওপর হামলা প্রায়ই ঘটছে।
উল্লেখ্য, গত বছর থেকেই মুসলিম এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্রমাগত উত্তেজনা বাড়ছে। কট্টরপন্থী বৌদ্ধ গ্রুপগুলোর অভিযোগ- “মুসলিমরা জোরপূর্বক অন্যদের ধর্মান্তরিন্ত করছে এবং বৌদ্ধদের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো ভাংচুর করছে” এ থেকে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। শ্রীলঙ্কার মোট জনসংখ্যার মধ্যে ৯ শতাংশ মুসলিম, ৭০ শতাংশ বৌদ্ধ এবং ১৩ শতাংশ হিন্দু।
এদিকে মিয়ানমারেও সেনাবাহিনী ও উগ্র-বৌদ্ধদের অব্যাহত ধর্ষণ-গণহত্যার শিকার হচ্ছে রাখাইনের রোহিঙ্গা মুসলমাররা। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী গত বছরের ২৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ৬ লাখ ৮০ হাজার। তার আগে বিভিন্ন সময় সেনাবাহিনী ও উগ্র-বৌদ্ধদের নির্যাতনে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়ে আছে ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এর অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, বর্মী সৈন্যরা গ্রামবাসীদের সাথে নিয়ে কিভাবে রোহিঙ্গাদের উপর গণহত্যা চালিয়েছে।
রয়টার্স বলছে, রাখাইনের উত্তরাঞ্চলীয় ইন দিন গ্রামে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর গণহত্যার ঘটনা ঘটেছিলো। এই গ্রামে ১০ জন রোহিঙ্গাকে হত্যার বিষয়ে তাদের দুই সাংবাদিক ওয়া লো এবং চ সো উ-কে সেখানে তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করে।
রয়টার্সেরঅনুসন্ধানে বলা হয়, ওই গ্রামে অভিযানের সময় রোহিঙ্গা পুরুষদের একটি দল নিজেদের জীবন বাঁচাতে একটি জায়গায় গিয়ে জড়ো হয়। তখন ওই গ্রামের কয়েকজন বৌদ্ধ পুরুষ একটি কবর খনন করার নির্দেশ দেন। তারপর ওই ১০ জন রোহিঙ্গা পুরুষকে হত্যা করা হয়। বৌদ্ধ গ্রামবাসীরা অন্তত দু’জনকে কুপিয়ে এবং বাকিদেরকে সেনাবাহিনী গুলি করে হত্যা করেছে।
মুস্তাঈন





