২০ দলীয় জোটের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলাকালীন সময়ে গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছে সুনামগঞ্জবাসীর। প্রায় প্রতিদিনই গ্রেফতার করা হচ্ছে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের এবং সাধারণ সমর্থকদের। পুলিশ বলছে নাশকতার অভিযোগে তাদের আটক করা হচ্ছে। তাই কখন যে কে নাশকতার অভিযোগে আটক হয় তা কেউ বলতে পারছে না। তাই এখন বাড়ি ছাড়া বিরোধী দলের অনেক নেতাকর্মী।
নাশকতার অভিযোগে এ মাসে আটক হয়েছে প্রায় দই শতাধিক নেতাকর্মী। গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে আজ বুধবার ভোর পর্যন্ত সুনামগঞ্জে অবরোধে নাশকতার অভিযোগে জামায়াত ও বিএনপির কর্মী সমর্থকসহ ২৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।এর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির জেলা সমাজসেবা সম্পাদক জুনাব আলী এবং ছাত্রদলের যুগ্নআহবায়ক তোফাজ্জল হোসেন।
নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে ১৩ জানুয়ারি হরতাল পালন করেছে ২০ দল। এছাড়া হরতালের মধ্যে গাড়ির ধাক্কায় মারা যায় শিবির কর্মী শরিফুল ইসলাম। পুলিশ বলেছিল পিকেটিংয়ের সময় গাড়ির ধাক্কায় সে মারা যায়।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, 'এ সরকার জনগণের সাংবিধানিক অধিকার হরণ করে পুরো দেশকে কারাগারে পরিণত করেছে।'
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. হারুন অর রশিদ জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও নাশকতা রোধে তাদের আটক করা হয়েছ। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এছাড়া সুনামগঞ্জে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের নামে যে কোনো ধরনের নাশকতা ও অপতৎপরতা রোধে পুলিশ নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জেলা সদর ও বিভিন্ন উপজেলায় সদরে সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দা পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপুর্ণ স্থাপনা ও এলাকাসমূহে গোপন নজরদারি অব্যাহত রয়েছে তাদের। এ জন্য পুলিশের ডিবি ও ডিএসবির একটি বিশেষ টিম কাজ করছে।
এ ছাড়া নাশকতার আগাম তথ্য সংগ্রহ করতে চৌকোস গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সমন্বরেয় গঠিত বিশেষ টিম মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। নাশকতা সৃষ্টি করতে পারে এমন সন্দেহভাজনদের গোপনে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে তারা।
ইআর





