একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে আমাদের শ্রেষ্ঠতম অর্জন স্বাধীনতা। লাখো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি এই সোনার বাংলাদেশ। মুক্তিপাগল বাঙালী দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে ছিনিয়ে আনে মহান বিজয়। বহু রক্তের বিনিময়ে বিশ্ব মানচিত্রে স্থান পায় স্বাধীন সার্বভৌম এই বাংলাদেশ। কালের আবর্তে আমাদের মাঝে বারবার ফিরে আসে সেই আত্মত্যাগের স্মৃতিময় দিনগুলি। স্মরণ করিয়ে দেয়, বাংলার দামাল ছেলেরা কখনো শত্রুর কাছে মাথা নোয়ায় না।

৪২ বছর আগের ২ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালে ডিসেম্বর মাস যতই এগিয়ে যায় মুক্তিযুদ্ধের বিজয় যেন ততই বাঙালীর দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। পরাজয় সুনিশ্চিত জেনে চরম নিষ্ঠুরতা ও বর্বরতায় মেতে ওঠে হিংস্র পাক হানাদার বাহিনী। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহের দিকেই পাকিস্তান সেনাবাহিনীরা পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান জেনারেল নিয়াজি তার বাহিনীকে দেশের চারদিকে ছড়িয়ে দেয়। চলতে থাকে নিষ্ঠুরতা। তখনও হানাদার বাহিনী বুঝতে পারেনি তাদের পতন সন্নিকটে।

একাত্তরের এই দিনে গেরিলা আক্রমণ থেকে সম্মুখযুদ্ধের গতি বাড়ে। অপ্রতিরোধ্য বাঙালীর বিজয়রথে পাকবাহিনীর সব পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে থাকে। পরাজয়ের আভাস পেয়ে তৎকালীন পাকিস্তানী প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান এদিন মরিয়া হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সনকে একটি চিঠি পাঠান। ইয়াহিয়া তার চিঠিতে যুদ্ধকালীন সাহায্যের আশায় ১৯৫৯ সালের পাক-মার্কিন দ্বিপক্ষীয় চুক্তির এক অনুচ্ছেদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। সীমান্ত এলাকায় পাক জান্তারা সমরসজ্জা বৃদ্ধি করে।

এদিকে বীর বাঙালীর গেরিলা আক্রমণে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে পাক সৈন্যরা। সময় যতই গড়াচ্ছিল গেরিলা আক্রমণ ততই প্রবল হতে থাকে। পাক সৈন্যদের হাতে তখনও আধুনিক অস্ত্র-গোলাবারুদ মজুদ থাকায় মুক্তিযোদ্ধারা গেরিলা আক্রমণের মাধ্যমে পরাস্ত করতে থাকে। মুক্তিপাগল বাঙালীর অকুতোভয় লড়াইয়ে পাক হানাদারদের রাতে চলাফেরাও কঠিন হয়ে পড়ে। পাকিস্তানী সৈন্যরা বুঝতে পারে, এবার বড় ধরনের কিছু করতে না পারলেই নয়। তাই মার্কিন সাহায্য নিশ্চিত, নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি, রাজাকার-আলবদর-আলশামসসহ এ দেশীয় স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তিকে নিয়ে ব্যাপক নিধনযজ্ঞ চালানোর পরিকল্পনা আঁটতে থাকে তারা। মাঠে চলতে থাকে যুদ্ধ। (চলবে)

এমআর