অন্ধকারে মানবেতর জীবন যাপন করছে অবরুদ্ধ গাজাবাসী। ইসরায়েলি বর্বর হামলায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত গাজা তীরে এখনোও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। দিনতো দূরের কথা রাতের বড় একটি অংশও তাদের থাকতে হচ্ছে অন্ধকারে।
সম্প্রতি ওই হামলায় গাজার পাওয়ার প্ল্যান্ট ধ্বংসের পর জনগণের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যুৎ।
এদিকে ফিলিস্তিনের জাতীয় জোট সরকার তাদেরকে অন্তত ১৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত তার বাস্তবায়ন দেখা মেলেনি। গাজার বাসা-বাড়ি, স্কুল এমনকি হাসপাতালেও দিন-রাত মিলে মাত্র ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি এক শিশু বলেন, 'আমি একটি হাইস্কুলে পড়ি। এই ইস্যুটি আমার জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলছে। যতটুকু পাড়ি আমাকে পড়তে হয়।
আরেক ফিলিস্তিনি বলেন, 'গাজাবাসীর প্রধান উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে বিদ্যুৎ। আমি ১২ তলায় থাকি, বিদ্যুতের সময়সূচির সঙ্গে আমার জীবন একীভূত হয়ে গেছে'।
ইহুদিবাদি ইসরাইলের পঞ্চাশ দিনের ওই বর্বর হামলায় দুই হাজার ১শ' ৪০ এর অধিক গাজাবাসি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন সাধারণ নাগরিক।
এছাড়াও ১১ হাজারেরও বেশি নাগরিক আহত হয়েছেন। এসময় বিশেরও অধিক ইসরাইলি নাগরিক নিহত হয়েছে।
জাতিসংঘের মতে, ইসরাইলের ব্যাপক হামলায় অবরুদ্ধ গাজার একমাত্র পাওয়ার প্ল্যান্টসহ হাজার হাজার ভবন ধ্বংস হয়েছে। এছাড়াও গাজায় জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুলসহ অন্তত ২২৩ স্কুল ধ্বংস হয়েছে।
পাওয়ার প্ল্যান্ট পরিচালনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত 'গাজা পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি' ওই প্ল্যান্টের বিকল হওয়া যন্ত্রাশ পরিবর্তন করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে। তাছাড়া ইসরাইল ওই প্ল্যান্টের প্রয়োজনীয় জ্বালানি দূরে অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সাল থেকে গাজা অবরুদ্ধ। নিম্নমুখী জীবন-যাপনের মান, নজিরবিহীন বেকারত্বের মাত্রা এবং দারিদ্রের তীব্রতা হচ্ছে এ অবস্থার জন্য দায়ী।সূত্র: পিসটিভি
এআর





