যারা এক সময় আত্মহত্যার কথা ভেবেছিলেন তাদের মধ্যে বেশিরভাগ আজ বেঁচে আছেন বলে খুশী। এই ব্যাপারে তাদের মতামত হচ্ছে, তারা আসলে জীবন শেষ করে দিতে চায়নি- শুধু যন্ত্রণাটা দূর করতে চেয়েছিল বলে মত প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
কাউন্সেলিং এবং যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে কাউকে আত্মহত্যার পথ থেকে ফেরানো সম্ভব। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, অতিমাত্রায় বিষন্নতায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা আত্মহত্যার দিকে ধাবিত হন। তরুণ প্রজন্ম সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার ঝুঁকিতে রয়েছে।
কারো মধ্যে আত্মঘাতী প্রবণতা দেখা দিলে বুঝতে হবে সম্ভবত ক্লিনিক্যাল ডিজঅর্ডার, সিজোফ্রেনিয়া, প্রসবজনিত অবসাদ, পিটিএসবি অথবা এমন কোনো রোগে ভুগছেন, অর্থাৎ এমন কোনো সমস্যা থাকলে ভাবতে হবে প্রকৃতপক্ষে মস্তিষ্কে কেমিক্যাল ভারসাম্যহীনতা রয়েছে এবং এ কারণেই সম্ভবত সোজাসুজি কিছু ভাবতে পারছেন না। এটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
তাকে বোঝাতে হবে যে, সে দুর্বল নয়। তার কেবলমাত্র কিছু চিকিৎসা প্রয়োজন। তাকে কখনো একা ভাবার সুযোগ দেয়া যাবে না। ভালো কিছু চিন্তা করার দিকে ধাবিত করতে হবে। তাকে বোঝাতে হবে অন্ধকার তাড়িয়ে এক সময় সূর্য্য উঠবেই। অতএব তাদের মধ্যে প্রত্যাশা থাকতে হবে। সন্তান আত্মহত্যার কথা বললেই সতর্ক হতে হবে। এমন কিছু বলা ঠিক হবে না যেন সে আত্মহত্যায় প্ররোচিত হয়, কেবল মঙ্গল চাইলেই হবে না তাকে বুঝতে হবে।
তরুণ-তরুণীরা তাৎক্ষণিক আবেগতাড়িত হয়ে আত্মহত্যা করে। আবেগ কী করে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা যায় সে বিষয়ে স্কুল-কলেজ কিংবা সামাজিক প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন মনোবিজ্ঞানীরা। তাদের স্মরণ করিয়ে দিতে হবে জীবনের চেয়ে কোনো কিছুই গুরুত্বপূর্ণ নয়, কিছুই না।
আজ ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশও নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশে গড়ে প্রতিদিন ২৮ জন ব্যক্তি আত্মহত্যা করে। অথচ আত্মহত্যা প্রতিরোধ্য। বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে আত্মহত্যা প্রতিরোধ সম্ভব।
অষ্ট্রেলিয়া, অষ্ট্রিয়া, কানাডা, কলম্বিয়া, ফিজি, ঘানা, হংকং, ভারত, আয়ারল্যান্ড, ইতালী, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, পাকিস্তান, স্কটল্যান্ড, শ্রীলংকা, সুদান, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ আত্মহত্যা প্রতিরোধে বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস প্রতিপালনসহ আত্মহত্যা প্রতিরোধে নানাবিধ জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করলেও আমাদের দেশে তা করা হচ্ছে না।
২০১৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের আত্মহত্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ। তথ্যে জানা যায়, আত্মহত্যায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১০ম। যা ২০১১ সালে ছিল ৩৮তম।
পুলিশ সদর দফতরের হিসাবে, গত ছয় বছরে সারা দেশে ৫৯ হাজার ৭৬০টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু আত্মহত্যা প্রতিরোধে তেমন কোনো জনসচেতনতামূলক পদক্ষেপ এখনো গৃহীত হয়নি।
আত্মহত্যাপ্রবণ বেশিরভাগই ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী। ২০১৩ সালে শুধু বিষপান আর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা ১০২৯টি।
বাংলাদেশে প্রতি এক লাখে সাত ৭.৮জন আত্মহত্যা করে। এর মধ্যে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যাই বেশি।
যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের জন্য আত্মহত্যা প্রতিরোধের লক্ষে গড়ে তোলা সামাজিক সংগঠন ব্রাইটার টুমরোর উদ্যোগে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সকাল ১১টায় প্রেসক্লাবের ভিইপি লাউঞ্জে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।
এ বছর, দিনটির থিম হল 'প্রিভেন্টিং সুইসাইড : রিচিং আউট অ্যান্ড সেভিং লাইভস।'
অর্থাৎ যারা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়ার ঝুঁকিতে আছেন তাদের কাছে আগেভাগে পৌঁছে গিয়ে সেই মূল্যবান জীবনগুলোকে রক্ষা করাই হবে আজকের দিনটির মূল উদ্দেশ্য।
কেএইচ





