বিদেশি ঋণদাতাদের সঙ্গে বিবাদের পর আর্থিক বিশৃঙ্খলার মুখে এসে দাঁড়িয়েছে গ্রিস। পরিস্থিতির চাপে দেশটির ব্যাংকিং খাত বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে সরকার।
এ পরিস্থিতিতে গত সোমবার দেশটির প্রায় লাখ খানেক মানুষ বিদেশি ঋণদাতাদের কঠিন আর্থিক পুনর্গঠনের শর্তে সহায়তা (বেইল আউট) প্রস্তাব প্রত্যাখান করার সরকারি সিদ্ধান্তের সমর্থনে সমাবেশ করেছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঋণের বেইল আউটের মেয়াদ শেষ হয়। ইউরোজোনের নতুন বেইল আউট প্রস্তাবে কঠোর ব্যয় সঙ্কোচনের শর্ত থাকায় গ্রিসের বামপন্থী সরকার তাতে সায় দেয়নি। ফলে ইউরোজোনোর সঙ্গে গ্রিসের সর্বশেষ বৈঠক কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়।
অপরদিকে বেইল আউটের মেয়াদ বাড়ানোর গ্রিসের প্রস্তাবেও রাজি হয়নি ঋণদাতারা। এ অবস্থায় নতুন বেইল আউটের প্রস্তাব নিয়ে গণভোটের ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সি সিপ্রাস। দেশটির পার্লামেন্টও প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবের পক্ষে সায় দিয়েছে।
গ্রিসের পার্লামেন্টও এই গণভোটের প্রস্তাব সর্মথন করেছে। আগামী ৫ জুলাই গণভোটের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
কয়েকশ’ কোটি ইউরোর বেইল আউট তহবিল নেয়ার জন্য ঋণদাতাদের দেয়া কঠোর শর্তগুলো গ্রহণ নাকি প্রত্যাখ্যান করা হবে, আগামী রোববারের গণভোটে সেই সিদ্ধান্তই জানাবে দেশের মানুষ।
গণভোটের ফলাফলের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন বললেও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছেন সিপ্রাস। তিনি জানিয়েছেন, ‘পুরো মেয়াদের জন্য ব্যয়সঙ্কোচন’ নীতি তদারক করতে নিয়োজিত একটি সরকার পরিচালনা করবেন না তিনি।
গ্রিস একক মুদ্রা ইউরোতে গ্রিসের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভোট গ্রহণ করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইউরোপীয় নেতা ও কৌশল প্রণেতারা।
ইউরোজোনের অংশীদাররা গ্রিসের গণভোটের ঘোষণার সমালোচনা করেছে এবং আগামী ৩০ জুনের মধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ১৬০ কোটি ইউরো ঋণ অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে অথবা দেশটিকে একক মুদ্রা ও ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকির মুখে পড়তে হবে।
এই ঋণ পরিশোধ করার জন্য গ্রিস ইউরোপের অর্থ সাহায্য পেতে পারে, কিন্তু এর শর্ত হিসেবে দেশটিকে সরকারি ব্যয়ে ব্যাপক কাটছাঁট করতে হবে। ওই প্রস্তাবে গ্রিসের সরকার রাজি হচ্ছে না।
আইএমএফ প্রধান ক্রিস্টিন লগার্দ বলেছেন, গ্রিসের গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত অর্থহীন। কারণ মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর ওই গণভোটের সিদ্ধান্ত কোনো ভূমিকা রাখতে পারবে না।
ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছে গ্রিসের ৩৪০ বিলিয়নের বেশি ঋণ রয়েছে। ফলে অথনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য অর্থ না পেলে দেশটির ব্যাংকিং খাতে ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে।
গ্রিসের অর্থমন্ত্রী ইয়ান্নিস ভারুফাকিস বলেছেন, ইসিবি যদি গ্রিসের ব্যাংকগুলোকে সহায়তা দেওয়া বন্ধ করে দেয় তাহলে তা হবে ইউরোপের অর্থনৈতিক সংযুক্তির নীতির লঙ্ঘন, এবং এতে প্রমাণ হবে ইউরোপ ব্যর্থ হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আলেক্সিস সিপ্রাস আগেই বলেছেন, অর্থ সাহায্য দেওয়ার ক্ষেত্রে ঋণদাতারা যে আলটিমেটাম দিয়েছে তা অপমানজনক। তিনি গণভোটে ওই প্রস্তাবের প্রতি 'না' রায় দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এরপর ইউরোজোনের দেশগুলো আর্থিক সহায়তার মেয়াদ বাড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলছে, গ্রিস একতরফাভাবে আলোচনা ভেঙে দিয়েছে।
অস্ট্রিয়ার অর্থমন্ত্রী হ্যান্স ইয়র্ড শেলিং বলছেন, ইউরোজোন থেকে গ্রিসের বেরিয়ে যাওয়া প্রায় অবধারিত হয়ে পড়েছে।
এরই মধ্যে সপ্তাহজুড়ে ব্যাংকগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার, এটিএম বুথে থেকে অর্থ তোলার সীমা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে, সোমবার দেশটির পুঁজিবাজার বন্ধ রেখেছে।
সার্বিক অনিশ্চয়তার মুখে গ্রিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যাংক থেকে অর্থ তোলার পাশাপাশি সুপারমাকেটগুলোতে লম্বা লাইন দিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে মজুদ করার চেষ্টা করছে সাধারণ মানুষ।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ১৬০ কোটি (১ দশমিক ছয় বিলিয়ন) ইউরো ঋণ নেয়।
এসএইচ





