স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরুদ্ধে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে এবার ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবস পালন করতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। পাশাপাশি প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ১৭ এপ্রিল যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদযাপনে দলটির পক্ষ থেকে নেয়া হচ্ছে নানা কর্মসূচি।
এছাড়া, বিএনপি নেতারা দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি নিয়ে যে প্রশ্ন তুলেছে তার সমুচিত জবাব দিতে চায় দলটির নেতাকর্মীরা।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এ বছর এমন একটি সময় দিবসটি পালন করছেন, যখন বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তার পুত্র তারেক রহমান দেশের প্রথম রাষ্টপতি হিসেবে জিয়াউর রহমানকে দাবি করছেন। এ কারণেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এবারের মুজিব নগর দিবসটি ভিন্ন আঙ্গিকে পালন করবেন।
আওয়ামী নেতাদের এবারের মূল লক্ষ্য ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবসটি সম্পর্কে যুবসমাজসহ দেশের প্রতিটি নাগরিককে অবগত করা এবং  দেশের সঠিক ইতিহাস জনগণের সামনে তুলে ধরা। তারা মনে করেন, দেশের মানুষ সঠিক ইতিহাস জানতে পারলেই সেটা হবে বিএনপির দাবির সমুচিত জবাব।
এ লক্ষ্যেই গত ৫ এপ্রিল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সভায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিমকে সর্বসম্মতিক্রমে মুজিবনগর উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যানের দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
এরপর ৯ এপ্রিল  ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে একটি প্রস্তুতি বৈঠক করা হয়েছে। দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য, খুলনা বিভাগের অন্তর্গত আওয়ামী লীগের সকল জেলা শাখার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং আওয়ামী লীগ দলীয় বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে মুজিব নগর দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি সম্পর্কে বিভিন্ন আলোচনা হয়েছে। এ সভায় সভাপতিত্ব করেন মুজিব নগর দিবস উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নাসিম। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ঐতিহাসিক এ মুজিবনগর দিবসটি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শুধু ঢাকা ও মুজিব নগর নয়, সরাদেশে পালন করা হবে।
এছাড়া দিবসটি উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ এবং মুজিব নগরে আলোচনা সভায় লোক সমাগমসহ দিবসটি সু-সম্পন্ন করার নানান দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গৃহীত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে: ওইদিন (১৭ এপ্রিল) ভোর ৬ টায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭ টায় ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। ৭. ২০ মিনিটে বনানী করবস্থানে ৪ জাতীয় নেতার কবরে পুস্পার্ঘ অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন।
এছাড়া মুজিব নগরের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে: ভোর ৬ টায় দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ১১টায় মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ। এরপর 'গার্ড অব অনার' প্রদান করা হবে।
এরপর মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন 'শেখ হাসিনা মঞ্চে' আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সভাপতিত্ব করবেন মুজিব নগর দিবস উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নাসিম।
বুধবার শেখ হাসিনার ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি বৈঠক শেষে কমিটির চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোহাম্মাদ নাসিম বলেছেন, ১৭ এপ্রিল বাঙ্গালী জাতির জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা আম্রকাননে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে সরকার গঠন করা হয়। তখন ওই সরকারের পক্ষ থেকে এর নাম দেয়া হয় মুজিব নগর সরকার। এই সরকারের নেতৃত্বেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূর্য উদিত হয়েছে। তাই এ দিনটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ইনশা আল্লাহ আগামী ১৭ এপিল ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবস শুধু ঢাকা ও মুজিব নগরে নয়; সারাদেশে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ-সংগঠন যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করবে। এখান থেকে দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাধীনতা বিরোধী ও একাত্তরের ঘাতকদের বিচার সু-সম্পন্ন করা হবে এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের দোসর বেগম জিয়ার দলকে মাঠে পরাজিত করবো।
এ বিষয়ে আওয়ামী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার, আলবদর ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে জাতিকে আবারও ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। আর সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। ১৭ই এপ্রিল মুজিব নগর দিবস পালনের মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরুদ্ধে জাতিকে এক প্লাটফর্মে আনার চেষ্টা করছি।
[b]ঢাকা, এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)// কেবি[/b]