বিচারপতিদের অপসারণ বা অভিসংশনের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের কাছে দেয়ার বিষয়টি পুণ:বিবেচনার জন্য উদ্যোগ নিতে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।

আজ (সোমবার) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. ইউনুচ আলী আকন্দ এ মর্মে রাষ্ট্রপতির কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।

অ্যাডভোকেট ইউনুচ আলী টাইমনিউজবিডিকে জানান, তিনি রেজিস্ট্রি ডাক ও ফ্যাক্সের মাধ্যমে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে এই আবেদন পাঠিয়েছেন।

আবেদনে, সংবিধানের৮০(৩)/১৪২(খ) অনুচ্ছেদঅনুযায়ী১৬তম সংশোধনী পুন:বিবেচনার জন্য জাতীয় সংসদে ফেরত দিতে মহামান্য রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপের প্রার্থনা জানানো হয়।

সংবিধানের ১৪২(ক)(অ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিলটি  নিয়ে সংসদে দীর্ঘ  আলোচনা করা হয়নি বা জনগনের মতামতও নেয়া হয়নি বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া সংসদে বলা হয়েছে- তারা ১৯৭২ সালের সংবিধানে ফিরে যাচ্ছি, ১৯৭২ সালের সংবিধানে বিচারপতিদের বয়স ৬২ বছর ছিল। কিন্তু  বর্তমানে বিচারপতিদের বয়স ৬৭ বছর। উক্ত বিলে বিচারপতিদের বয়স ৬২ বছর করা হয়নি। সুতরাং বলা যাবেনা তারা ১৯৭২ সালের সংবিধানে ফিরে যাচ্ছি। বিলটি সম্পূর্নরূপে সংসদে পেশ বা পাশ করা হয়নি।এছাড়া ১৫তম সংশোধনী অনুযায়ী ৭ (খ) অনুচ্ছেদ সন্নিবেশিত/যুক্ত করা হয় যাহা ১৯৭২ সালের সংবিধানে ছিল না।

অনুচ্ছেদ ২২-রাষ্ট্রের নির্বাহী অঙ্গসমূহ হতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন। যেখানে অনুচ্ছেদ ৭০ আছে বিচারপতিদের অপসারণ ক্ষমতা সংসদে থাকলে বিচারপতিরা স্বাধীন থাকতে পারেন না।

এতে উল্লেখ আছে- নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরুপে মনোনীত হয়ে কোন ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি-

ক- উক্ত দল হতে পদত্যাগ করেন অথবা

খ- সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে তাহার আসন শূন্য হবে।

বর্তমান সংসদে ১৫৩ জন সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদন্ধীতায় নির্বাচিত। তারা জনগনের ভোটে সরাসরি নির্বাচিত নয়। অনুচ্ছেদ ৭(১) অনুযায়ী সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। সুতারাং জনগণের গণভোট ছাড়া উক্ত সংশোধনী অসাংবিধানিক হবে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পূর্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বা জাতীয় পার্টি বা অন্য কোন দলই এইরুপ কোন মেনুফেষ্টো ঘোষণা করে নাই যে নির্বাচিত হলে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফেরত নেওয়া হবে।

সুতরাং সংবিধানের ১৬ তম সংশোধনীতে জনগণ তাদের ম্যান্ডেট দেয়নি এবং এই সংশোধনীর অনুচ্ছেদ ৭(১) ধারায় সাংঘর্ষিক। এ ছাড়া সংবিধানের অনু: ৮০(৩)এবং ১৪২(খ) সাংঘর্ষিক।

প্রতিবেশী দেশ ভারত ২৯টি রাজ্য নিয়ে গঠিত। অনুরুপভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৫০ টি রাজ্য নিয়ে গঠিত। তারা যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার এবং আমাদের দেশ একটি রাষ্ট্র এবং এককেন্দ্রিক সরকার। সুতারাং তাদের সংবিধান  ও আমাদের সংবিধান এক হবে না। সেদেশের সুপ্রিমকোর্ট আলাদা এবং হাইকোর্ট আলাদা। আমাদের দেশে সুপ্রিমকোর্টেরই একটি হাইকোর্ট বিভাগ এবং অন্যটি আপিল বিভাগ।

সুতরাং সংবিধানের ১৬ তম সংশোধনী অগণতান্ত্রিক এবং সংবিধানের প্রস্তাবনা ও অন্যান্য অনুচ্ছেদের সাথে সাংঘর্ষিক। 

বিচারপতিদের নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি, সংসদ সদস্য দ্বারা নয়। সুতরাং নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ ব্যতিত তার নিচের কোন পদাধিকারী বিচারপতিদের অপসারণ করতে পারবে না।

সংসদে যে আলোচনা হয়েছে তাতে- রাষ্ট্রপতির চাকুরি ও সংসদ সদস্যরা অভিসংশনের মাধ্যমে অপসারণ করে থাকেন।

এ ক্ষেত্রে আমি বলতে চাই তাদের সাথে বিচারপতিদের তুলনা হবে না। বিচারপতিরা স্বাধীন যা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো এবং ২২ অনুচ্ছেদে ম্যান্ডেট দেয়া আছে।

সংসদে আরো বলা হয়েছে- রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ছাড়া কোন বিচারপতির অপসারণ হবে না। সংবিধানের ৮০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিলটি রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য প্রেরণ করা হয়। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিলে অপসারণ হবে এবং না দিলেও হবে না।

৮০(৩)(৪) অনুচ্ছেদ মতে- ৭ দিন বা ১৫ দিন অতিবাহিত হলে বিলটি রাষ্ট্রপতি সম্মতি দান করেছেন বলে গন্য হবে।

কিন্তু সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউিন্সল অনুচ্ছেদ ৯৬(৬) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে অপসারিত হবে।

সংবিধানের ৪৮(৩)অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাজ হবে প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতির নিয়োগ দেয়া। এছাড়া সকল দায়িত্ব পালনে তিনি প্রধান মন্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণ করবেন।

সবশেষে আইনজীবী রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেন -সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৮০(৩)/১৪২(খ) অনুযায়ী বিচারপতিদের অপসারণ তথা সংবিধানের ১৬তম সংশোধনী পুন: বিবেচনার জন্য জাতীয় সংসদে ফেরত পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য।

ঢাকা, কেএ , ২২ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, কেবি