শিশু শ্রমের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের প্রধান দায়িত্ব যাদের সেই মিডিয়াই শিশুদের ব্যবহার করছে ব্যবসায়ীক স্বার্থে। দেশের সকল ধরনের বাণিজ্যিক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে শিশু শ্রম আইনত নিষিদ্ধ। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে যারা সোচ্চার করবেন সেই মিডিয়াই তাদের ব্যবহার করছে।
চট্টগ্রাম শহরের সর্বত্র খুবই অল্প বয়সী শিশুদেরকে প্রতিনিয়ত পত্রিকা হাতে দৌঁড়াতে দেখা যায়। মূল সড়কে চলমান গাড়িকে উপেক্ষা করে জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে গ্রাহকদের কাছে পত্রিকা বিক্রির জন্য ছোটছুটি তাদের নিত্যদিনের ব্যাপার।
সরজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিশুদের পত্রিকা বিক্রিতে প্রথম নিয়োজিত করে ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকাটি। ২ টাকা দামে পত্রিকাটি বিক্রি হতো কেবল শিশুদের হাতে হাতে। পরবর্তীতে তাদের অনুকরণে বাংলাদেশ প্রতিদিন এই পথ অনুসরণ করে। তারাও ৩ টাকা দামে পত্রিকাটি বিক্রিতে শিশুদের নিয়োগ দেয়।
পর্যায়ক্রমে দৈনিক সরেজমিনসহ বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিক এই পথ অনুসরণ করে শিশুদের দ্বারা পত্রিকা বিক্রি অব্যাহত রাখে। চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকাটি শুরুতে ৩ টাকা দামে বিক্রি করতে গিয়ে শিশু শ্রমকেই বেছে নেয়। বর্তমানে পত্রিকাটির দাম ৫ টাকা করা হলেও নগরের পথে প্রান্তরে শিশুদের দিয়েই তা বিক্রি করা হচ্ছে।
মারাত্মক ঝুঁকির মাথায় শিশুদের পত্রিকা বিক্রিতে নিয়োগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের দৈনিক পূর্বদেশের বিজ্ঞাপন ও বিপনন কর্মকর্তা শেখ মোঃ আরিফ বলেন, পথ শিশুদেরকে কেউ কোনরূপ সহযোগিতা করেনা। তাই আমরা সহজ ও হালকা এ কাজ দিয়ে তাদের আয় রোজগারের পাশাপাশি পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করছি। এখন শিশুরা কারো মুখাপেক্ষী না হয়ে তাদের পরিবারকে সহযোগিতার পাশাপাশি পড়া লেখা চালিয়ে নিতে পারছে।
এদিকে আগ্রাবাদে পত্রিকা বিক্রিরত শিশু শুক্কুর আলী (৮) ও জামাল (৫)- এর সাথে কথা বলে জানা যায়, শুক্কুর আলীর বাবা নেই। মা সহ প্রতিদিন দু'জনে পত্রিকা বিক্রি করে ১০০/১৫০টাকা পান।
তারা আরও জানায়, তারা পড়ালেখা করে না। সারাদিন পত্রিকা বিক্রি করে যা আয় হয় তা মায়ের হাতে তুলে দেন। আগে তারা পুরোনো কাগজ, ভাঙ্গারি সংগ্রহ করে বিক্রি করত। এখন পত্রিকা বিক্রি করে দিন কাটায়।
এমন অমানবিক শিশু শ্রম রোধে এখনই যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে বলে নগরবাসীর ধারণা। আবার অনেকে শিশুদের দিয়ে পত্রিকা বিক্রিকে প্রিন্টিং মিডিয়ার দৈন্যদশা বলে মন্তব্য করেছেন।
কেএইচ





