পাহাড়িদের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে চাইলে সেটা কাল হয়ে দাড়ায় বাঙ্গালীদের জীবনে। শুধু বাঙ্গালী নয় পাহাড়িদেরও নির্যাতনের শিকার হতে হয়।বাঙ্গালী কোন ছেলে মেয়ে যদি প্রেম ভালোবাসায় জড়িয়ে পড়ে তাহলে তাদের খুন,  গুম, ধর্ষণ ও বিশাল অংকের চাঁদা গুনতে হয়।

আর বাঙালিদের সাথে মেলামেশা বা বিয়ে করলে পাহাড়ি তরুণীদের সর্বনিম্ন শাস্তি গণধর্ষণ। আয়না চাকমা, রেটিনা চাকমা, দ্বীপা ত্রিপুরাদের যৌন নির্যাতন ও গণধর্ষণসহ বিভিন্ন সময় সংঘটিত হওয়া এমন পাশবিক ঘটনা এর স্বাক্ষী বহন করে।

অজ্ঞাত কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি তরুণীরা প্রেমিক বা স্বামী হিসেবে পছন্দ করে বাঙালী যুবকদের। আমাদের সংবিধানও আন্ত:ধর্মীয় বিয়ের ক্ষেত্রে কোনো বাধা প্রদান করে না। কিন্তু এ আইনের তোয়াক্কা করে না পাহাড়ের বিচ্ছিন্নতাবাদি সংগঠনগুলো।

কোন পাহাড়ী তরুণী কোনো বাঙালী যুবককে বিয়ে বা তার সঙ্গে মেলামেশা করলে ভোগ করতে হয় করুণ পরিণতি। শাস্তি স্বরুপ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিকার হতে হয় অপহরণ, দল বেঁধে যৌন নির্যাতন, গণধর্ষণ, এসিড নিক্ষেপ ও হত্যার।

ভুক্তভোগী ও মামলা সূত্রে জানা যায়, চাকমা কিশোরী এ বছর এসএসসি পাস করেছে। উচ্চ মাধ্যমিকে অনলাইনে আবেদনের জন্য গত ২৯ মে বিলাইছড়ি বাজারের শিহাবের কম্পিউটারের দোকানে যায় সে। এ সময় স্থানীয় সুনীতিময় চাকমা (৩০)সহ ১৫ থেকে ২০ জন পাহাড়ী দোকানের মধ্যেই আটকে ফেলে তাকে।

বাঙালী ছেলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক আছে দাবি করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে নিয়ে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়।পরে মেয়েটি বাদি হয়ে বিলাইছড়ি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৭/১০/১৩ ধারায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলা নং ১/৫/১৬।

গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, এর আগে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারির দিকে ভালোবেসে এক বাঙালী ছেলেকে বিয়ে করার অপরাধে খাগড়াছড়ির গুইমারার উমাচিং মারমা (১৮) নামে এক মারমা তরুণী ও তার পরিবারকে নির্যাতনসহ মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে হয়। তাকে একটি কক্ষে বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়।

২০১৫ সালের শুরুর দিকে ভালোবেসে চাকমা মেয়েকে বিয়ে করাই কাল হয় প্রথম আলোর সাবেক স্টাফ আলোকচিত্র সাংবাদিক সৈকত ভদ্র’র। তাকে হারাতে হয় প্রথম আলোর আকর্ষণীয় চাকরি। অপরদিকে ভালোবাসার মানুষকে ভুলে যেতে স্ত্রী রেটিনা চাকমার উপর চলে মধ্যযুগীয় বর্বরতা। তোলা হয় নিলামে। যা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে গণমাধ্যমে।

অপহরণের পর একটি ঝুম ঘরে আটক করে দীপা ত্রিপুরাকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে পিসিপি’র স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী। এভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালী মুসলিম ছেলেকে ভালোবেসে মাটিরাঙার সোনাবি চাকমা, রাঙামাটির কুতুকছড়িতে রিনা ত্রিপুরা, রামগড়ের মণিকা ত্রিপুরাসহ এরকম আরো অসংখ্য পাহাড়ী মেয়েকে অপহরণ, গণধর্ষণ, হত্যাসহ বিভিন্ন নারকীয় অভিজ্ঞতার শিকার হতে হয়েছে।

সম্প্রতি পাহাড়ী তরুণীদের নিজ জাতি-গোষ্ঠীর লোকদের হাতে এরুপ নির্বিচারে গণধর্ষণের শিকার হওয়া নিয়ে গবেষণাধর্মী উপন্যাস বের করেন লেখিকা রোকেয়া লিটা। চলতি বছরের শুরুর দিকে ‘ডুমুরের ফুল’ নামে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এ বইটি বের করলে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়া হয় তাকে।

 

মাহমুদ