'ব্রিটিশ পরিবার' থেকে বিচ্ছ্ন্নি না হতে স্কটিশদের কাছে ভিক্ষা চেয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। বুধবার পার্লামেন্টে স্কটিশদের প্রতি এ আকুতি জানান ক্যামেরন।
স্কটল্যান্ডকে ফেরাতে শেষ সময়ের প্রচেষ্টা হিসেবে তিনি এ অনুরোধ জানালেন। ১৮ সেপ্টেম্বর দেশটিতে স্বাধীনতার পক্ষে-বিপক্ষে গণভোট হবে। গণভোটে দেশটি স্বাধীন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে এখন পর্যন্ত হওয়া জরিপগুলো থেকে জানা গেছে। খবর ওয়ার্ল্ডবুলেটিনের।
বুধবার পার্লামেন্টে সাপ্তাহিক প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে এ অনুরোধ জানান ক্যামেরন। গণভোটে স্বাধীনতার পক্ষে ভোট পড়লে ৩০৭ বছরের ব্রিটিশ ইউনিয়ন ভেঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে স্কটিশরা। ফলে ব্রিটেন আয়তনে অনেক ছোট হয়ে যাবে এবং এর প্রভাব পড়বে ব্রিটেনের সবক্ষেত্রেই।
এক বক্তৃতায় ক্যামেরন বলেন, "আমরা চাই না আমাদের পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ুক। ইউনাইটেড কিংডম (যুক্তরাজ্য) খুবই মূল্যবান এবং স্পেশাল একটি দেশ।"
তিনি আবেগপ্রবণ ভাষায় বলেন, "ব্রিটেন যদি ভেঙ্গে পড়ে তাহলে তা চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে।"
উল্লেখ্য, ক্যামেরনের কনজারভেটিভ পার্টি স্কটল্যান্ডে খুবই অজনপ্রিয়। যদি স্কটল্যান্ড স্বাধীন হয়ে যায় তাহলে কনজারভেটিভ পার্টিকে এর মাসুল দিতে হবে আগামী বছরের নির্বাচনে।
স্কটল্যান্ড যদি স্বাধীন হয়েই যায় তাহলে অনেক বিষয় নিয়ে বিপাকে পড়তে হবে দু'দেশকে। এসব বিষয়ের নিষ্পত্তি করতে ব্রিটেন ও স্কটল্যান্ডের মধ্যে ১৮ মাসব্যাপী কেবল আলোচনাই চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্কটল্যান্ডের সমুদ্র উপকূলেই রয়েছে ব্রিটেনের নর্থ সি অয়েল খনিগুলো, সেগুলো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করতে হবে। এ ছাড়া স্কটল্যান্ডকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্যপদ দেয়া হবে কি না তা নিয়েও আলোচনা হবে। ব্রিটেনের প্রধান পরমাণু সাবমেরিন বেসলাইন 'ফাসলেন'-ও স্কটল্যান্ডে অবস্থিত।
শুধু তাই নয় স্কটল্যান্ড স্বাধীন হলে যুক্তরাজ্যের গঠন নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে; ভাবতে হবে দেশটির প্রতীক 'ইউনিয়ন জ্যাক' পতাকার কী হবে; এ ছাড়া রাজতন্ত্রের ভূমিকা নিয়েও ভাবতে হবে।
গণভোটকে সামনে রেখে স্কটল্যান্ডও দু'ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। রাস্তা-ঘাট, দোকানপাট সবজায়গাতেই ছোট ছোট জনসভা হচ্ছে; হচ্ছে তর্ক-বিতর্ক। গণভোটের ব্যাপারে ৬ পৃষ্ঠার একটি বিশাল খোলা পত্র প্রকাশ করেছে স্কটল্যান্ডের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক 'স্কটসম্যান'। বের হয়েছে স্বাধীনতার পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন গাইড-পুস্তিকা।
স্বাধীনতার পক্ষে-বিপক্ষের উভয় দলেরই রয়েছে যুক্তি। পক্ষের এরা বলছেন স্কটিশরা সম্পূর্ণ আলাদা এক জাতি এবং তাদের রয়েছে আলাদা এক ভূখন্ড ও জাতিসত্তা। তাদের ভাষাও আলাদা। তাই তাদের অনেক আগেই স্বাধীন হওয়া উচিত ছিল। এ ছাড়া স্কটল্যান্ডকে বরাবরই অবজ্ঞার চোখে দেখে আসছে লন্ডন। তাদের দাবি, স্বাধীন স্কটল্যান্ড হবে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ একটি দেশ।
অন্যদিকে, স্বাধীনতার বিপক্ষের লোকেরা বলছেন, দীর্ঘদিনের যুক্তরাজ্যের ভাঙ্গনে ব্রিটেন ও স্কটল্যান্ড উভয়েরই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা দেবে।
উল্লেখ্য, ১৭০৭ সাল থেকে স্কটল্যান্ড ব্রিটেনের একটি অঙ্গরাজ্য হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হয়। আজকের 'ইউনাইটেড কিংডম অব গ্রেট ব্রিটেন এন্ড নর্দার্ন আয়ার্যান্ড', সংক্ষেপে যা গ্রেট ব্রিটেন নামে পরিচিত; এর অন্তর্ভূক্ত রাজ্যগুলো হলো- ইংল্যান্ড, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলস। সূত্র: ওয়ার্ল্ডবুলেটিন
ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমএ





