নির্বাচনী কৌশল পাল্টাচ্ছে আওয়ামী লীগ। এ জন্যে ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের কাজে লাগাতে চায় তারা। পাশাপাশি ১৪ দলের ইমেজ ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মাঠে নামিয়ে প্রচারনায় আনতে চায় নতুনত্ব।  নির্বাচনী ইমেজ নিজের পক্ষে রাখতে মাঠে প্রান্তরে নতুন নতুন কৌশল নিয়ে মাঠ চাঙ্গা রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন নেতা কর্মীরা।  উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে তারা নানা ধরনের পরিকল্পনা নিচ্ছেন।
সূত্র জানায়, প্রথম ধাপের ফলাফল খারাপ হওয়ায় দলীয় প্রধান ইতোমধ্যেই বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীদের শাসিয়েছেন। আর বাতলে দিয়েছেন আগামীর জন্যে কলাকৌশল।  প্রথম ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পরাজয়ের পর সামনের নির্বাচনগুলোতে  সতর্কতার সঙ্গে পা বাড়াতে চায় ক্ষমতাসীন দল।
ইতোমধ্যে দলটির হাইকমান্ড প্রথমদফা নির্বাচনে কমসংখ্যক চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে । গঠন করা হয়েছে বিপর্যয় উতরানো বেশ কয়েকটি টিম। তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করে ফলাফল দেয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী ধাপের নির্বাচনগুলোতে বিপর্যয় কাটাতে নতুন করে  কিছু কৌশল নিয়ে এগুনোর পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে। এ বিষেয়ে আওয়ামী লীগের নেতা ওবায়দুল কাদের  বলেন, “প্রথম দফা নির্বাচনের ফলাফলে আমরা সন্তুষ্ট নই। যেমন ফলাফল আশা করেছিলাম তেমন হয়নি। সামনের নির্বাচনগুলোতে দলীয় কোন্দল ও সাংগঠনিক অবস্থা মজবুত করে এবং অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।”
যে সব কৌশল থাকছে :
সংশ্লিষ্টরা জানায়, সরকারের ভাল ভাল কাজ ও সফলতা নিয়ে প্রচার প্রপাগাণ্ডা চালানো।  নির্বাচনী প্রচারণায় জোর দেয়া। এই ক্ষেত্রে যেখানে যে ভাবে বুঝানো সম্ভব সেখানে সেভাবে বুঝাতে হবে।
বিদ্রোহী প্রার্থীদের বুঝিয়ে বসিয়ে দেয়া, তাদের সঙ্গে নিবিরভাবে যোগাযোগ করা। প্রয়োজনে শীর্ষ নেতাদের কাছে তাদের কার্যক্রম তুলে ধরে সমস্যার সমাধান করা।
এ ছাড়া তাদের ভাষায় বিএনপি জামায়াতের ‘ধ্বংসাত্মক’ কর্মকাণ্ড সাধারণ ভোটারদের সামনে তুলে ধরা, তাদের আমলের  কীর্তি  ও নানামুখী ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দেয়া। জামায়াত অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ব্যাপক  প্রচারণা চালিয়ে জনগনকে বুঝানোর কাজে নুতন নতুন জনবল নিয়োগ করা।
দলটির একজন শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন  প্রথম ধাপের নির্বাচনে প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে যে সব আসনে পরাজিত হয়েছেন দলীয় প্রার্থীরা ওইসব এলাকায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের ঠেকাতে কার্যকর কোনো উদ্যোগই দেখা যায়নি। ফলে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাদের ওপর আস্থা হারান খোদ নিজ দলের কর্মী-সমর্থকরাও। তাই আগামী নির্বাচনগুলোতে প্রভাবশালী নেতাদের উপজেলাগুলো থাকবে বিশেষ দৃষ্টিতে। নানা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের সেভাবে ঢেলে সাজাতেও প্রস্ততি নিচ্ছে  দলটি।
যেসব উপজেলায় এখনো বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে দলের স্বার্থে তাদের নির্বাচন না করতে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে হাইকমান্ড থেকে। প্রথম দফা নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের আঁটঘাট বেঁধে মাঠে নামারও নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে বলেও আওয়ামী লীগ সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকেই উপজেলাভিত্তিক তালিকা ধরে প্রয়োজনীয় নিদের্শনা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে। আগামী নির্বাচনগুলোতে কোনোভাবেই হারতে চায় না আওয়ামী লীগ। এর জন্যে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফল বের হওয়ার আগ পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের মাঠে থাকতে কঠোর নির্দেশনা আসছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, দলীয় কোন্দল, একাধিক প্রার্থী এবং জোটের সঙ্গে সমন্বয় না হওয়ায় এই পরাজয়ের কারন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে দলটির নেতারা। যে কারনে সামনের নির্বাচনগুলোতে এই ধরনের ভুল আর হতে দেবে না। যেকোনো মূল্যে এই নির্বাচনে বেশিসংখ্যক উপজেলায় দল-সমর্থিত প্রার্থীকে জয়ী করতে চায় শাসক দল। এর জন্যে বিভিন্ন পেশাজীবি নেতা, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সুশীল সমাজের লোকদের সাথে নিয়ে কাজ করতেও বলা হচ্ছে। তাছাড়া মাদ্রাসার শিক্ষক, ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের কাজে লাগাতে বিশেষ উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, বিভিন্ন জেলায় দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে কোন্দল রয়েছে। অনেক এলাকায় নেতা-কর্মীদের ক্ষোভ থাকায় বিরোধী পক্ষের প্রার্থীর কাজ করেছে দলীয় নেতা-কর্মীরা। তাছাড়া দল ক্ষমতায় থাকায় অনেকেই মনে করেন প্রার্থী হতে পারলেই হয়ত জয়ী হওয়া যাবে। কিন্তু তারা মানুষের মনের ভাষা বুঝতে পারছেন না।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এক নেতা বলেন, ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে সমন্বয় না করে নির্বাচন করা হয়েছে। যেটি ছিল বড় ধরনের ভুল। কিছু কিছু জায়গায় দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী একজন আবার ১৪ দলের শরিক দলের প্রার্থী একজন। এসব উপজেলায় বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী অনায়াসে জিতে যাচ্ছে। আগামীতে যাতে এই ধরনের ভুল না হয় সেদিকে আমরা খেয়াল রেখেই কাজ করবো।আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক টাইম নিউজকে বলেন, উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপে ৯৭ টি উপজেলায় নির্বাচন হয়েছে। এসব এলাকায় আমাদের বিদ্রাহী প্রার্থী থাকার কারনে কিছু কম প্রর্থী নির্বাচিত হয়েছে। তবে আমাদের ভুল ত্রুটিগুলো সনাক্ত করে আগামী নির্বাচনে জয়ের লক্ষে কাজ করছি।
ঢাকা, এএম, ২২ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // এসআর//এমআর//এসএইচ