আজ ২৬ জানুয়ারি। আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস। ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন (ডব্লিউসিও)২০০৯ সাল থেকে দিবসটি ঘোষণার পর বাংলাদেশসহ এর সদস্যভুক্ত ১৭৯টি দেশ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করছে।এবারের দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘ডিজিটাল কাস্টমস : প্রোগ্রেসিভ এনগেজমেন্ট’।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিবসের সফলতা কামনা করে পৃথক বাণী দিয়েছেন। তারা তাদের বাণীতে কাস্টমস বিভাগের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং কর প্রদানকারী ব্যক্তি ও কোম্পানি পর্যায়ে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, এ বছরে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল কাস্টমস : প্রোগ্রেসিভ এনগেজমেন্ট’ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সময়োপযোগী। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকারমূলক উন্নয়ন কৌশল। এ লক্ষ্যে সরকার তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপকভিত্তিক ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করছে।
প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনয়নসহ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং সর্বোপরি আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাস্টমস বিধি-বিধান ও আনুষ্ঠানিকতা সহজকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কাস্টমস বিভাগ নিরলস প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেছেন, সরকারের ন্যায়সঙ্গত রাজস্ব আহরণ, দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অংশগ্রহণ, বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশি পণ্যের প্রসার, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের কোনো বিকল্প নেই।
এ কার্যক্রমের মূল সীমান্ত প্রহরী কাস্টমস বিভাগ। আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রমকে সহজ, স্বচ্ছ ও গতিশীল করার জন্য বাংলাদেশ কাস্টমসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা এবং ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সুসংহত যোগাযোগ স্থাপন অপরিহার্য।
দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) শোভাযাত্রা ও সেমিনারসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার সকালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা মাধ্যমে দিবস উদ্বোধন করা হবে।
সকাল সাড়ে ১০টায় অফিসার্স ক্লাবে দিবসটি উপলক্ষে এক সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ড. এম. আবদুর রাজ্জাক এবং এফবিসিসিআই’র সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমেদ উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় কাস্টমস হাউসের সামনে থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়।
বর্ণাঢ্য এই শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বারেকবিল্ডিং মোড় ঘুরে পুনরায় কাস্টমস হাউসের সামনে গিয়ে শোভাযাত্রা শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য সদস্য (আয়কর: লিগ্যাল এন্ড এনফোর্সমেন্ট) ড.মাহবুবুর রহমান, আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস-২০১৬ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া, চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার হোসেন আহমদ, অতিরিক্ত কমিশনার আজিজুর রহমানসহ কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নিয়েছেন।
এবারের কাস্টমস দিবস উপলক্ষ্যে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। নগরীর বিমানবন্দর থেকে সিটি গেইট পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে। বিভাগীয় শহর ও জেলা পর্যায়েও দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় ও সচেতনতামূলক বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন লাগানো হয়েছে।
সকাল সাড়ে ১০টায় কাস্টমস হাউসের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন কাস্টমস কমিশনার হোসেন আহমদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আ জ ম নাছির উদ্দিন।
সংসদ সদস্য এমএ লতিফ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (আয়কর: লিগ্যাল এন্ড এনফোর্সমেন্ট) ড.মাহবুবুর রহমান, চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার সভাপতি খলিলুর রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
সভায় এবারের বিশ্ব কাস্টমস দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘ডিজিটাল কাস্টমস: প্রোগ্রেসিভ এনগেজম্যান্ট’ বিষয়ে মূল প্রবদ্ধ উপস্থান করবেন সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া।
এমকে/এমএম





