গবেষণা হোক কিংবা ইন্জিনিয়ারিং, বিজনেস হোক কিংবা আর্টস যে কোনো বিষয়েই যুক্তরাষ্ট্রের ডিগ্রি বিশ্বমানের। আর তাই উন্নত প্রযুক্তির স্বাদ নিতে অধিকাংশ শিক্ষার্থীরই প্রথম প্রছন্দ যুক্তরাষ্ট্র। তার সাথে রয়েছে স্কলারশিপ ও পার্টটাইম চাকরির সুযোগ, যা আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশের শিক্ষার্থীদের সুবিধার পাশাপাশি আগ্রাহও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশ থেকেও প্রতিবছর বেশ কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে আমেরিকায় পাড়ি জমান। উচ্চ শিক্ষার এই রাজ্যে পড়তে হলে কিছু নিয়ম-কানুন জানা দরকার:
লেখাপড়ার ভাষা ও যোগ্যতা:
যুক্তরাষ্ট্র্রে লেখাপড়ার ভাষা ইংরেজি। তবে ভাষার ওপর দক্ষতা ও যোগ্যতা যাচাই করার জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন ফ্যাকাল্টি তাদের পছন্দ অনুযায়ী টেস্ট নিয়ে থাকে। যেমন: SAT, ACT, GMAT, GRE, IELTS, TOEFL, TSE ইত্যাদি। যারা অনার্স করতে চান, তাদের অবশ্যই SAT অথবা ACT পরীক্ষা দিতে হবে। বর্তমান মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য GRE টেস্টের নাম্বারটা গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়। এসব টেস্টের ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করতে পারেন:
http://sat.collegeboard.org/home
শিক্ষা ব্যবস্থা:
এখানকার উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের সময়কাল আমাদের দেশের মতোই। ব্যাচেলর কোর্স করতে ৩-৪ বছর আর মাস্টার্স করতে ২ বছর লাগে। তবে পিএইচডি'র সময়সীমা রিসার্চের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে। তাছাড়া এখানে নন- ডিগ্রি প্রোগ্রামেরও আয়োজন করা হয়।
পড়ার বিষয়:
প্রায় সব বিষয়েই যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চতর ডিগ্রি নেয়া যায়। তবে অধিকাংশ শিক্ষার্থী সেখানে গবেষণামূলক বিষয় বা ইঞ্জিনিয়ারিং করতে যায়। উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় হলো- ফিজিক্স, ম্যাথ, কেমিস্ট্রি, বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন, আর্টস, সোশ্যাল সায়েন্স, আইন, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রভৃতি। এছাড়া মেডিক্যাল সায়েন্সের নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের ওপর গবেষণা করা যায়।
খরচ:
যুক্তরাষ্ট্রে লেখাপড়ার মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি খরচ অনেক বেশি। চার বছরের কোর্স করতে টিউশন ফি ১৫-২০ লাখ টাকা। তাছাড়া মাস্টার্স কোর্স করতে টার্ম প্রতি প্রায় ৩০-৭০ হাজার টাকা মত লাগবে।
স্কলারশিপ ও পার্টটাইম জব:
টাকার খরচ দেখে অনেকে হয়তো ঘাবড়ে যেতে পারেন। কিন্তু চিন্তার কিছু নেই, কেননা সেখানে আছে পার্টটাইম চাকরির সুযোগ। আছে ৭৫% পর্যন্ত স্কলারশিপ পাওয়ার ব্যবস্থা। এক্ষেত্রে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে তাদের সর্বশেষ স্কলারশিপের ব্যাপারে জানতে পারেন। বিস্তারিত জানতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসেও যোগাযোগ করতে পারেন। তবে স্কলারশিপের জন্য অবশ্যই বিগত পরীক্ষার ফলাফল ও ভর্তির আগে তারা যেসব পরীক্ষা নেবে তাতে নির্দিষ্ট মার্কস পেতে হবে। এ সংক্রান্ত কিছু লিংক-
www.educationusa.info/pages/students/finance.php
www.nafsa.org/students.sec/financial_aid_for_study
www.graduateshotline.com/costs.html
ভর্তি এবং অতপর:
আপনি যদি অনার্স কোর্স করতে যেতে চান, তবেSATঅথবা ACTপরীক্ষার পর আপনার পছন্দের কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে ভর্তিফরম সংগ্রহসহ যাবতীয় নিয়ম জেনে নিন। আর আপনি যদি গবেষণার কোনো বিষয়ে মাস্টার্স বা পিএইচডি কোর্সে ভর্তি হতে চান, তাহলে যার অধীনে আপনি গবেষণা করতে আগ্রহী, তাকে নিজের যোগ্যতা, দক্ষতা, থিসিস দিয়ে মোটিভেশান চালান। স্টেটমেন্ট অব মোটিভেশান সিভি পাঠান। ঘরে বসেই তাদের সাথে ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ বাড়ান। অত:পর সেখান থেকে সাড়া পেলে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থেকে ভিসা সংগ্রহ করুন।
থাকার ব্যবস্থা:
ভর্তির পর অবশ্যই ক্লাস শুরুর আগেই সেখানে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব হোস্টেল আছে, তারপরও অনেকেই মাসিক ব্যয়, যাতায়াত খরচ ও যাবতীয় সুবিধা বিবেচনা করে হোটেল, মোটেল, যুব হোস্টেল, আন্তর্জাতিক হাউজিং, এমনকি সেখানকার স্থানীয় ফ্যামিলির সাথেও থাকেন। আরো বেশি জানতে নিচের লিঙ্কে ভিজিট করুন-
www.educationusa.info/pages/students/housing.php
সেরা বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ:
মনে রাখা ভালো, যেহেতু বিদেশে প্রচুর প্রতিযোগিতা, তাই নিজের যোগ্যতা অনুযায় বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই করতে হবে। নিম্নে কিছু বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট দেয়া হলো। আগ্রহীরা ভিজিট করতে পারেন।
ডিগ্রী সমূহ:
আমেরিকার উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে নিম্নলিখিত ডিগ্রীগুলো প্রদান করা হয়:
* এসোসিয়েট ডিগ্রী
* ব্যাচেলর ডিগ্রী
* মাষ্টার্স ডিগ্রী
* পি,এইচ,ডি বা ডক্টরেট ডিগ্রী
সেমিষ্টার:
* স্প্রিং সেমিষ্টার: জানুয়ারী থেকে মে পর্যন্ত
* সামার সেমিষ্টার: মে থেকে জুলাই পর্যন্ত
* ফল সেমিষ্টার: আগষ্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত
আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির জন্য নিম্নলিখিত আবেদন প্রক্রিয়া অনুসরন করতে হবে:
* আপনার কাঙ্খিত বিভাগে আবেদনপত্র জমা দেয়ার শেষ সময়সীমা প্রথমে যাচাই করুন।
* আবেদন ফরম ও অন্যান্য তথ্যের জন্য সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডমিশন অফিস বরাবর লিখুন।
* বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকেও আপনি আবেদন ফরম ডাউনলোড করতে পারেন।
* অ্যাডমিশন অফিস আপনাকে ভর্তি সংক্রান্ত সব ধরনের তথ্য জানাবে।
* কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ভর্তির পদ্ধতি চালু আছে।
* আপনি অন্তত: ১ বৎসর সময় হাতে রেখে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়াটি শুরু করুন।
* বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাধারণত ৬ থেকে ৮ মাসের মধ্যে তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
* পূরণকৃত আবেদনপত্র
* আবেদন ফি পরিশোধের প্রমানপত্র
* পূর্বতন শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের ইংরেজী সংস্করন। শুধুমাত্র অনুমোদিত যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রতিলিখন সম্পন্ন হতে হবে।
* স্কুল/কলেজের ছাড়পত্র
* টোফেল পরীক্ষার ফলাফলের সনদ
* প্রয়োজন সাপেক্ষে জি আর ই, স্যাট বা জি-ম্যাট এর ফলাফলের সনদ।
* পাসপোর্টের ফটোকপি
ঢাকা, ৯ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ





