দ্বিতীয় দফা উপজেলা নির্বাচনে সহিংসতা নিরসন ও সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি না হলেও অনেকটাই ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিভিন্ন মহল। এর ফলে গোটা জাতিকে এর কুফল ভোগ করতে হচ্ছে বলেও অভিমত তাদের।
অথচ অবাধ, সুষ্ট ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে সাংবিধানিকভাবে স্বাধীন করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়ম অনুযায়ী কমিশনের অধীনে থাকেন।
বাংলাদেশ সংবিধানের ১১৮ (৪) ধারায় বলা হয়েছে "নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকিবেন এবং কেবল এই সংবিধান ও আইনের অধীন হইবেন।"
প্রথম ধাপের নির্বাচনে কমিশনের কিছুটা সফলতা থাকলেও দ্বিতীয় দফায় তা অম্লান হয়ে গেছে ব্যাপক সহিংসতার কারণে। পরবর্তী ধাপগুলোতে এ সহিংস ঘটনা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করছেন খোদ নির্বাচন কমিশনই।
কমিশনার শাহ নেওয়াজ টাইম নিউজবিডিকে বলেন, নির্বাচনে এখন আর উৎসব মুখোর পরিবেশ দেখা যায় না। কারণ প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে ভোট চাওয়ার পরিবর্তে কেন্দ্র দখল করাকেই মুখ্য হিসেবে নিচ্ছেন।
কমিশনের শত ইচ্ছা থাকা সত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অসহযোগীতার কারণে সহিংস ঘটনা কমানো যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রার্থীদের সহযোগীতা প্রয়োজন। কারণ তারা যদি কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা না করেন তাহলে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করা সম্ভব নয়।
এছাড়া এ নির্বাচনে সহিংসতার দায়ভার এড়াতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদ দেড় মাসের ছুটিতে আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছেন গত সোমবার। তাঁর এই আকম্মিক সফরে প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন মহল।
দ্বিতীয় ধাপের ১১৫ উপজেলা নির্বাচনে একজন যুবক নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন আরো অনেকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় ভোট কেন্দ্র দখলসহ ভুয়া ভোটের খবর পাওয়া গেছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়।
এছাড়া এ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনে ১৩ উপজেলায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তাৎক্ষনিকভাবে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন ছিল অনেকটাই উদাসীন।
তবে নির্বাচন কমিশন এসব সহিংসতার জন্য একটি উপজেলাসহ শতাধিক ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করেন ভোটের দিন। তাছাড়া ব্যাপক পরিমান নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘনের খবর পাওয়া গেছে এ নির্বাচনে।
একারণে বিরোধী দল বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে অথর্ব এবং অকর্মন্য বলেও আখ্যায়িত করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) শাখাওয়াত হোসেন বলেন, নির্বাচন কমিশনের অবাধ ক্ষমতা থাকা সত্বেও নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে না পারা কমিশনের ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছু না।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন উপজেলা নির্বাচনের মত তুলনামূলক কম গুরুত্ব পূর্ন একটি নির্বাচনে এধরণের সহিংস ঘটনা জাতির জন্য অশনিসংকেত। এর জন্য জাতিকে চরম মূল্য দিতে হবে।
[b]ঢাকা, ০৪ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি [/b]
টাইম ফোকাস
ইসির ব্যর্থতায় ভুগছে জাতি
দ্বিতীয় দফা উপজেলা নির্বাচনে সহিংসতা নিরসন ও সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি না হলেও অনেকটাই ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিভিন্ন মহল। এর ফলে গোটা জাতিকে এর কুফল ভোগ করতে হচ্ছে বলেও অভিমত তাদের।





