খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য কক্সবাজারের বালুখালি ক্যাম্প থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে ১৫ রোহিঙ্গাকে। পোপের কাছে নিজেদের দাবিগুলো তুলে ধরতে চান তারা।
সেখানে বিদেশি মিডিয়াকর্মী এক রোহিঙ্গা নারীকে প্রশ্ন করেন- রোহিঙ্গা বলাটা কেন গুরুত্বপূর্ণ? উত্তরে রোহিঙ্গা নারী বলেছেন, “আমার দাদা রোহিঙ্গা। আমার দাদী রোহিঙ্গা। আমার বাবা রোহিঙ্গা। আমিই রোহিঙ্গা। এটাই আমার পরিচয়।” উল্লেখ্য, মিয়ানমার সফরে পোপ ফ্রান্সিস একবারও ‘রোহিঙ্গা’শব্দটি উচ্চারণ করেননি।
আজ (শুক্রবার) কাকরাইল গীর্জা প্রাঙ্গনে বাংলাদেশ ক্যাথলিক মন্ডলী আয়োজিত সর্বধর্মীয় সমাবেশে অপেক্ষা করছেন তারা।
হাজারা খাতুন নামের এক রোহিঙ্গা বলেন, রাখাইনে তাদের ওপর এমন কোন নির্যাতন নাই যে করা হয় নি। তারা প্রাণ ভয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। এবং তারা রাখাইনে নিজ বাড়িঘরে ফিরে যেতে চান।
মোহাম্মদ নুরুল্লাহ নামের অপর এক রোহিঙ্গা বলেন, নাগরিকত্ব নিয়ে তারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে চান। পোপের কাছে এমন দাবিই তারা জানাবেন।
বিদেশি এক মিডিয়াকর্মী নুরুল্লাহকে প্রশ্ন করেছিলেন, তাদের রোহিঙ্গা বলাটা কেন গুরুত্বপূর্ণ? এর জবাবে নুরুল্লাহ বলেন, “আমার দাদা রোহিঙ্গা। আমার দাদী রোহিঙ্গা। আমার বাবা রোহিঙ্গা। আমিই রোহিঙ্গা। এটাই আমার পরিচয়।”
মিয়ানমারে তিনদিনের সফরে পোপ ফ্রান্সিস দেখা করেছেন দেশটির নেত্রী অং সান সুচি এবং সেনা বাহিনী প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং এর সঙ্গে। কিন্তু এই সফরের সময় কোন বৈঠক কিংবা ভাষণে একবারও ‘রোহিঙ্গা’শব্দটি উচ্চারণ করেননি খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস।
এরপর গতকাল বৃহস্পতিবার তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে আসেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস ঢাকায় এসেও এই রিপোর্ট লেখার আগপর্যন্ত একবারও ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ করলেন না পোপ।
উল্লেখ্য, বুধবার (২৯ নভেম্বর) কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের (আরআরআরসি) মো. আবুল কালাম জানান, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নিপীড়নের মুখে ২৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ৬ লাখ ৩৫ হাজার। এছাড়া, আগের ২ লাখ ৪ হাজার ৬০ জন মিয়ানমার নাগরিক বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলেও জানান তিনি।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ উগ্রপন্থিরা রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর গণহত্যা,নারী ধর্ষণ ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ফলে রোহিঙ্গারা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয় বলে অভিযোগ করেছে রোহিঙ্গারা।
এমবি





