মিয়ানমারে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানলো। এতে রাজধানী ঢাকাসহ কেঁপে উঠেছে পুরো দেশ। কেঁপে উঠেছে ভারত, পাকিস্তান, ভুটানসহ দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ দেশ। যদিও এতে এখনো পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে সারা দেশের মানুষের মাঝে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। কারণ বাংলাদেশ ভূকম্পন প্রবণ এলাকার মধ্যে রয়েছে রেড অ্যালার্টে। যেকোনো সময় ভূমিকম্পে বড় ধরনের বিপর্যয় হতে পারে দেশে। আর তাই ভূমিকম্প হওয়ার সময় কী করতে হবে তা সবারই জেনে রাখা উচিৎ।
ভূমিকম্পের সময় করণীয়:-
ভূকম্পন অনুভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাসার বিদ্যুৎ ও গ্যাস লাইন বন্ধ করে ফেলুন।
ঘরে হেলমেট থাকলে সঙ্গে সঙ্গে মাথায় পরে নিন।
এক মিনিট সময়ের মধ্যে বাসা থেকে বের হয়ে পড়ুন। আর সম্ভব না হলে তখনই মজবুত টেবিল, খাটের নিচে কিংবা পিলারের সঙ্গে অবস্থান করুন। মাথা রক্ষার জন্য বালিশ হাতের কাছে রাখতে পারেন।
বাসা থেকে বের হওয়ার সময় খাবার পানি ও শুকনো খাবার থাকলে সেগুলো সঙ্গে নিয়ে বের হবেন।
বাসা থেকে বের হয়ে যতটা সম্ভব খোলা জায়গায় গিয়ে অবস্থান করুন।
বের হওয়ার সময় লিফট ব্যবহার না করাই ভালো। বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটতে পারে। তখন লিফট হয়ে উঠতে পারে মরণফাঁদ।
ভবন থেকে বের হওয়ার সময় সিঁড়ি ব্যবহার করুন। কিন্তু ভুল করেও সিঁড়িতে আশ্রয় নেবেন না। ভবন ধসে পড়লে সবার আগে সিঁড়ি ধসে পড়ার শঙ্কাই বেশি থাকে।
তাড়াহুড়ো করবেন না। যথাসম্ভব মাথা ঠাণ্ডা রাখুন।
গাড়িতে থাকলে যথাসম্ভব নিরাপদ স্থানে থাকুন। আশপাশে বড় ভবন নেই এমন জায়গায় গাড়ি পার্ক করতে পারেন। কখনো সেতুর ওপর গাড়ি থামাবেন না।
টাকা বা অলঙ্কারের মতো কোনো কিছু সঙ্গে নেওয়ার জন্য অযথা সময় নষ্ট করবেন না। মনে রাখবেন, জীবনটাই সবচেয়ে বড় সম্পদ। অধিকাংশ ভূমিকম্পই মাত্র কয়েক সেকেন্ডে ভয়ংকর সর্বনাশ ঘটাতে পারে।
বড় ভূমিকম্পের পর পরই আরেকটা ছোট ভূমিকম্প (আফটার শক) হতে পারে। তাই একবার ভূমিকম্প থেমে গেলেই নির্ভার হবেন না। সতর্ক থাকুন এবং বেশ কিছু সময় পর্যন্ত নিরাপদ স্থানে অবস্থান করুন।
ঘটনার পর চিহ্নিত মিলিত স্থানে অবস্থান করুন, যাতে করে যেকোনো সমস্যা একসাথে মোকাবিলা করতে পারেন।
যদি ভবন ধসে আটকাও পড়েন, বেরিয়ে আসার কোনো পথ খুঁজে না পান, আশা হারাবেন না। সাহস রাখুন। সাহস আর আশাই আপনাকে বাঁচিয়ে রাখবে। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন। উদ্ধারকারী পর্যন্ত আপনার চিৎকার বা সঙ্কেত পৌঁছানো যায় কী করে, ভাবতে থাকুন।
এআই





