হামাস নয়, হামাসের রকেট হামলাও নয় বরং ইসরাইলের গাজা আগ্রাসনের পিছনে রয়েছে এক অন্য কারণ। গত গ্রীষ্মে গাজায় চালানো ৫৩ দিনের ইসরাইলি আগ্রাসন নিয়ে অনুসন্ধানী এক লেখনীতে তাই ফুটিয়ে তুলেছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিক ও বিশেষজ্ঞ নাফিজ আহমেদ।

তিনি জানিয়েছেন, গাজার ভূঅভ্যন্তরের গ্যাস মজুদ নিয়ন্ত্রণে নেয়াই ছিল ইসরাইলের ওই অভিযানের উদ্দেশ্য। উল্লেখ্য, গাজা ছোট্ট ভূখন্ড হলেও এর মাটির নিচে মজুদ রয়েছে এক দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস, যার বাজার মূল্য প্রায় ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার।

তবে, গাজা আগ্রাসনের কারণ হিসেবে ইসরাইল যে দাবি করেছে তা ভুল ও বিভ্রান্তিকর বলেও জানান তিনি। উল্লেখ্য, ইসরাইল দাবি করেছে, গাজা থেকে হামাসের রকেট হামলা বন্ধ করতে এবং সীমান্তে হামাসের তৈরি গোপন টানেলগুলো ধ্বংস করতেই এই অভিযান চালানো হয়।

কিন্তু নাফিজ আহমেদ জানান, গ্যাস বিক্রির অর্থ দিয়ে যেন গাজার অধিবাসীরা আর্থিকবাবে লাভবান না হতে পারেন এজন্যই অভিযান চালানো হয়। এ ছাড়া ইসরাইলের ভয় গ্যাস বিক্রির এ অর্থ হামাসের হাতে যায়।

গাজা অভিযানে ইসরাইলের উদ্দেশ্য আরো স্পষ্টভাবে জানা যায় ইসরাইলেরই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ইকোলজিস্ট রিপোর্ট থেকে। প্রতিবেদনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, গাজার গ্যাস মজুদ হামাসের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করা ইসরাইলের সামরিক পরিকল্পনায় রয়েছে।

ইসরায়েলি মন্ত্রীসভা হামাস নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়, বরং ফিলিস্তিনের গ্যাস মজুদ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের আশংকা ফিলিস্তিনের গ্যাসের মজুদ দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নে যোগান দিবে। আর অর্থনৈতিকভাবে অগ্রগতি একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে আরো ফলপ্রসূ হিসেবে কাজ করবে।

ইসরাইলের অধিকৃত ফিলিস্তিনি এলাকায় তেল-গ্যাসের মজুদের সন্ধান পাওয়ার পর থেকেই মূলত ইসরাইল আরো বেশি আগ্রাসী মনোভাব গ্রহণ করে।

সাংবাদিক নাফিজ আহমেদ জানান, ইসরাইল জ্বালানি সংকটে পড়েছে। ২০১২ সালে ইসরাইলের বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সমুদ্র উপকূলীয় ইসরাইলের তেল-গ্যাসের মজুদ আগামী ৪০ বছরের মধ্যে নিঃশেষ হয়ে যাবে। যদিও উপকূলীয় লেভান্ট বেসিন প্রভিন্স এলাকায় তেল-গ্যাসের প্রচুর মজুদ রয়েছে কিন্তু এলাকাটির উপর সিরিয়া, সাইপ্রাস, লেবানন ও গাজার দাবি রয়েছে। ফলে এলাকাটির উপর একচ্ছত্র অধিকার পাচ্ছে না ইসরাইল। সূত্র: ওয়ার্ল্ডবুলেটিন

এমএ