শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত না থাকলেও শ্রমিকরাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। কারণ, তাদের শ্রম পরোক্ষভাবে জাতির মূল চালিকা শক্তি তথা অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে সেই ঐতিহাসিক কাল থেকেই।

যেকোন জাতির শ্রেষ্ঠত্বের পিছনে রয়েছে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান তথা শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ইতিহাস।

শ্রমিকদের মহান ত্যাগেই আমরা পেয়ে থাকি জীবনধারণের মূল চালিকা শক্তি, জীবনধারণের পাথেয়; খাবার। তাদের শ্রমেই আমরা সুন্দর সুন্দর পোশাক পরিধান করে নিজেদের ব্যক্তিত্ব প্রচারের চেষ্টা চালাই। পাই বসবাসের সেই আলিসান অট্টালিকা। যেখানে মিশে থাকে শ্রমিকের ঘামরূপ রক্তের ফোঁটা।

কিন্তু যেই সুন্দর কারুকার্জখচিত, যতনে গড়া, সুশোভিত অট্টালিকায় আমরা বাস করি সেখানে শ্রমিকের কতো পাওয় না পাওয়ার বেদনা একাকার হয়ে আছে তার খোঁজ আমরা কম লোকেই রাখি।

একটা সুবিশাল অট্টালিকা গড়তে অসংখ্য ইটকে মাটির নিচে যেতে হয়। সেই মাটির নিচেই সুবিশাল অট্টালিকার ভিত্তি রচিত হয়; কিন্তু নিভৃতে থাকা সেই ইটগুলোকে আমরা দেখতে পাই না। তেমনিভাবে দেশের জন্য করা, দশের জন্য করা শ্রমিকের অনেক আত্মত্যাগই মাটির নিচের ভিত্তিপ্রস্তরের মতো আমাদের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়।

হ্যাঁ শ্রমিকদের ইতিহাস এমনই যে, কখনো আবার দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরাতে গিয়ে নিজের মহামূল্যবান জীবন সেই চাকায় পিষ্ট হয়। প্রাণ হারাতে হয় তাকে। যার উদাহরণ আমরা দেখতে পাই বিশ্বের গণ্ডি পেরিয়ে আমাদের খুব কাছে আমাদের দেশের ইতিহাসের পরতে পরতে। যার জ্বলন্ত উদাহরণ ২৪ এপ্রিল ২০১৩ সাল, সাভারের রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি। যা কেড়ে নিল ১১৭৫ টি জীবন, কেড়ে নিল অনেকগুলো স্বপ্ন।

এছাড়াও আশুলিয়ায় ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর তাজরীন ফ্যাশন গার্মেন্টসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সরকারি হিসেবে ১১১ জন পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু।

হ্যাঁ যুগে যুগে শ্রমিকদের ত্যাগের ইতিহাস এমনই মহান যে আজও মানুষ তাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।

শ্রমিকদের এমন ত্যাগের, সংগ্রামের ইতিহাসকে স্মরণ করে তাদের অধিকারের জন্য বিশ্বব্যাপী পালিত হয় 'আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস' যার অন্য নাম 'মে দিবস'।

১লা মে'র এই ইতিহাস এমনই ত্যাগের, গৌরবের একইসাথে সম্মানের। এই ত্যাগের সূচনা হয় আমেরিকার শিকাগো শহরে। শ্রমজীবী মানুষের ঐতিহাসিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করতে ১লা মে বিশ্বব্যাপী পালিত হয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস।

এই আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসকে সচরাচর মে দিবস নামে অভিহিত করা হয়। প্রতি বছর ১লা মে তারিখে বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হয় দিনটি। এটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলনের উদযাপন দিবস।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শ্রমজীবী মানুষ এবং শ্রমিক সংগঠনসমূহ সংগঠিতভাবে মিছিল ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিবসটি পালন করে থাকে। বিশ্বের অনেক দেশে এটি বেসরকারিভাবে পালিত হয়। এছাড়াও বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে ১লা মে জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে ঘোষিত করা হয়।

বিশ্বব্যাপী সমাদৃত এই দিবসে কী ঘটেছিল যার জন্য এই দিবসের এতো গুরুত্ব? আসুন জেনে নেই তার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।

১ মে মহান মে দিবস যাকে অনেকেই আবার আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকে। ১৮৮৬ সালের ১ মে থেকে ৪ মে আমেরিকার শিকাগো শহরে দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে শ্রমিকরা লড়াই করেছিল, জীবন দিয়েছিল। দৈনিক সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টা কাজের দাবি আদায় করেছিল। তার আগে থেকেই অবশ্য এর প্রেক্ষাপট রচিত হয়েছিল।

১৬৮৪ সালে আমেরিকার নিউইয়র্কে ঠেলাওয়ালাদের দাবি আদায়ের জন্য ইউনিয়ন গঠন করা হয়। ঠেলাগাড়ী শ্রমিক ইউনিয়ন শ্রম ঘণ্টা নির্ধারণ, বাঁচার মতো মজুরি, অত্যাচার-নির্যাতন বন্ধ ইত্যাদি দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে। ঠেলাওয়ালাদের ইউনিয়ন দেখে উৎসাহিত হয়ে পিপা প্রস্তুতকারক শ্রমিকরাও ইউনিয়ন গঠন করে। ১৮২৩ সালে আমেরিকায় নারী শ্রমিকরা আন্দোলন করে।

১৮৬৫ সালে আমেরিকায় গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে দাস প্রথার অবসান ঘটিয়ে বিপুল পরিমাণ দাস শিল্প শ্রমিকে পরিণত হয়। ফলে ব্যাপক শিল্পোন্নয়ন ও শ্রমিক সংখ্যা বেড়ে যায়। অনেকগুলো ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে ওঠে।

১৮৬৬ সালে ৬০টি ট্রেড ইউনিয়নের সমন্বয়ে ন্যাশনাল লেবার ইউনিয়ন গঠিত হয়। ন্যাশনাল লেবার ইউনিয়নের পক্ষ থেকেও ৮ ঘণ্টা কাজের দাবি উত্থাপিত হয়। খণ্ড খণ্ড আন্দোলন অগ্রসর হতে থাকে এই আন্দোলন।

১৮৭৫ সালে আমেরিকার আন্দোলনরত কয়লা শ্রমিকদের সংগঠনকে ধ্বংস করতে ১০ জন শ্রমিক ও শ্রমিকনেতাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। সেই পথ ধরেই সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আন্দোলন এগিয়ে যায়। তারই পরিপূর্ণ প্রকাশ মহান মে দিবসের সংগ্রাম।

ধর্মঘট চলাকালীন ৩ মে এক সমাবেশে মঞ্চের কাছে পুলিশ ও মালিকদের গুপ্তচর গুণ্ডারা বোমা বিস্ফোরণ করে ৪ জন শ্রমিককে হত্যা করে, নিহত হয় ৭ পুলিশ।

সেদিন বিশ্ব পুঁজিবাদের ত্রাতাদেশ আমেরিকায় শ্রমিকদের উপর রাষ্ট্রীয় পুলিশ ও মালিক পক্ষের যৌথ ও অমানবিক হামলায় শ্রমিকদের হত্যা করা হয়। শ্রমিক হত্যা করেই তারা খ্যান্ত হয়নি তারা বরং; অসংখ্য শ্রমিককে পিটিয়ে আহত করে। শ্রমিকের রক্তে রঞ্জিত হয় শিকাগো শহরের হে মার্কেট।

ঘটনাস্থলেই গ্রেপ্তার করা হয় শ্রমিকনেতা পার্সনস স্পাইজ ও ফিডলেনকে। পরবর্তীতে গ্রেপ্তার হন শ্রমিকনেতা এঞ্জেল, সাইকেল স্কোয়ার, এডলক কিলার, লুইস লিংগে ও অস্কার নিবে কে।

পরের মাসে অর্থাৎ জুন মাসে বিচারের নামে প্রহসন করে বিনা বিচারের শ্রমিকনেতা এঞ্জেল ও কিশোরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। অন্যান্যদের দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড দেয়া হয়। কারাগারের ভিতরে তরুণ শ্রমিকনেতা লুইস লিংগকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। শিকাগো শহরের এই হত্যা, ফাঁসি ও হত্যাচারের ফলে শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ক্রমেই আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর রূপ ধারণ করে।

যার ফলে ১৯১৯ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও গঠিত হয়। ১৯১৯ সালের এপ্রিল মাসে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)কে স্বীকৃতি দিলে শ্রমিকদের অধিকারসমূহ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পায়। শ্রমিকদের দাবির মুখে আইএলও দৈনিক ৮ ঘণ্টার কর্মদিবস ঘোষণা এবং আইএলও তার সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে শ্রমিকদের জন্য করা নীতিমালা মেনে চলার আহ্বান জানায়।

বাংলাদেশ আইএলও কর্তৃক প্রণীত নীতিমালা স্বাক্ষরকারী দেশ। ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি শাসনামলে পূর্বপাকিস্তান তথা বাংলাদেশে গোপনে মে দিবস পালিত হতো।

মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে সরকারি সাল ঘোষণার মাধ্যমে ১৯৭২ সাল থেকে মহান মে দিবস পালিত হয়। ঐ বছরই ৮ ঘণ্টা শ্রম ঘণ্টা হিসেবে বাংলাদেশ আইএলও কনভেনশনে অনুস্বাক্ষর করেন। আইএলও এর সদর দফতর জেনেভা শহরে অবস্থিত।

কোন কোন স্থানে শিকাগোর হে মার্কেটের আত্মত্যাগী শ্রমিকদের স্মরণে আগুনও জ্বালানো হয়ে থাকে। পূর্বতন সোভিয়েত রাষ্ট্র, চীন, কিউবাসহ বিশ্বের অনেক দেশেই মে দিবস একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। সে সব দেশে এমনকি এ উপলক্ষে সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়।

আমেরিকা, কানাডা, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, বলিভিয়ায় দিনটি পালিত হয় যথায়থ মর্যাদায়।

আমেরিকা ও কানাডাতে অবশ্য সেপ্টেম্বর মাসে শ্রম দিবস পালিত হয়। সেখানকার কেন্দ্রীয় শ্রমিক ইউনিয়ন এবং শ্রমের নাইট এই দিন পালনের উদ্যোগতা।

হে মার্কেটের হত্যাকাণ্ডের পর আমেরিকার তৎকালিন প্রেসিডেন্ট গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড মনে করেছিলেন পয়লা মে তারিখে যে কোন আয়োজন হানাহানিতে পর্যবসিত হতে পারে। সে জন্য ১৮৮৭ সালেই তিনি নাইটের সমর্থিত শ্রম দিবস পালনের প্রতি ঝুঁকে পড়েন।

আর্জেন্টিনায় মে দিবসে সাধারণ ছুটি থাকে এবং সরকারীভাবে উদযাপন করা হয়। প্রধান শহরগুলোতে রাস্তায় শ্রমিক শোভাযাত্রার আয়জন করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন আলচনা সভার আয়োজন করা হয়।

১৮৯০ সালে আর্জেন্টিনায় প্রথম শ্রমিক দিবস পালন করা হয়, একই সময়ে আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলন প্রথমবারের মতো উদযাপন করে। ১৯৩০ সালে সরকারীভাবে ছুটি ঘোষণা করা হয়।

বলিভিয়ায় ১ লা মে কে শ্রমিক দিবস এবং সাধারণ ছুটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রায় সকল শ্রমিক এই দিনটিকে সন্মান করে।

ব্রাজিলে শ্রমিক দিবস সাধারণ ছুটি হিসাবে পালিত হয়। শ্রমিক ইউনিয়নগুলো দিনব্যাপী আলচনা অনুষ্ঠানের আয়জন করে থাকে। এইদিন ঐতিহ্যগতভাবে অধিকাংশ পেশাদার বিভাগের ন্যূনতম বেতনকাঠামো পুনঃনির্ধারণ করা হয়।

কানাডায় সেপ্টেম্বর মাসে পালন করা হয়। ১৮৯৪ সালে প্রধানমন্ত্রী জন স্পারও ডেভিড থমসন সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সোমবার কানাডার সরকারী শ্রমিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। যুক্তরাষ্ট্রেও একই দিনে শ্রমিক দিবস পালন করা হয়।

বাংলাদেশ এবং ভারতেও এই দিনটি যথাযথভাবে পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশ আইএলও নীতিমালা স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস যথাযোগ্য মর্যাদার সহিত পালিত হয়। বাংলাদেশে মে দিবসে সরকারি ছুটি কার্যকর আছে।

রাষ্ট্রীয়ভাবে বেশ উৎসাহ-উদ্দীপনার মাধ্যমে মে দিবস উদযাপিত হয়। মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ বাণী দেন। সুশীল সমাজ সেমিনার সিম্পোজিয়াম ও আলোচনা সভা করেন। শ্রমিক ও পেশাজীবী সংগঠনগুলো সমাবেশ-র্যা লির মাধ্যমে খুব ঘটা করে এ দিবস উদযাপন করেন।

কিন্তু চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পর আজও উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয়নি। ভারতে প্রথম মে দিবস পালিত হয় ১৯২৩ সালে। চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পরও ভারতে ১০ ঘণ্টার কার্জদিবস নির্ধারিত থাকে। আজও বাংলাদেশে আইন থাকলেও বাংলাদেশের মালিকরা আইন অমান্য করে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা এমনকি কখনও আবার ১৬ থেকে ২০ ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য করেন।

শ্রমিকদের অধিকারের স্বীকৃতি আদায়ের ১৩০ বছর গত হলেও আজও তারা শোষণের গ্লানি মুছতে পারে নি। কারণ যখন যারা ক্ষমতায় এসেছে তারাই শ্রমিকদেরকে যথেচ্ছা ব্যবহার করেছে। শ্রমিকদের ব্যবহার করে অনেকে আবার টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছে।

সমাজের কিছু লোক অসহায় শ্রমিকদের ঘাম, রক্তের বিনিময়ে একদিকে কালো টাকার পাহাড় গড়ে তুলছে অপরদিকে একটি মানুষ ধার জ্বালায় রোগে শোকে আহাজারি করে অর্ধাহারে-অনাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে শ্রমিকদের মন ভরিয়েছে অনেকেই; কিন্তু পেট ভরানোর দায় নিতে পারেনি কেউ। আজও শ্রমিকদের অধিকার বলতে শুধু কতিপয় সভা-সেমিনার ছাড়া আর বিশেষ কোন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

রানা প্লাজা ধসের তিন বছর পার হয়ে গেলেও মামলার দৃষ্টিগ্রাহ্য কোন অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। নীরব ঘাতক রানার বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির ব্যাপারে এখনো কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। নিয়তির নির্মম পরিহাসে অনেক শ্রমিক পায়নির তাদের ক্ষতিপূরণ। অনেকেই আবার পাচ্ছেন না যথাযথ চিকিৎসা।

এছাড়াও যারা শ্রমিকদের ঐক্যের পক্ষে কথা বলবে সেই শ্রমিক নেতারা গোপনে নিজের সিদ্ধির জন্য অন্যের দালালি করে যাচ্ছে। তাই কোন আন্দোলন ফলপ্রসূ হচ্ছে না। বাস্তবায়িত হচ্ছে না যুগোপোযোগী শ্রমনীতি।

এ দেশের শ্রমিকরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে থেকে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করে। সারা বিশ্বে বাংলাদেশকে প্রচার করার জন্য একটা কার্যকরি মাধ্যম হলো আমার দেশের এ সোনার মানুষগুলো, যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখে। তাট একটি কথা বলতে পারি, শ্রমিক বাঁচলে বাঁচবে দেশ।

সরকারের একটু সুনজর এবং শ্রমিক উইনিয়নগুলোর যথাযথ পদক্ষেপই এদেশের শ্রমিকদের বাঁচাতে পারে। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে পারে।

তাই এবারের শ্রমিক দিবসে এই কামনা রইলো, শ্রমিকরা ফিরে পাক তাদের ন্যায্য অধিকার, বেঁচে থাক মানুষের জন্য, দেশের জন্য।

এমআইএস/ওএফ