১৫ মার্চ ২০১৬ মঙ্গলবার বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস। এ দিবস উপলক্ষে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) যৌথ উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
কনজুমার্স ইন্টারন্যাশনালের (সিআই) উদ্যোগে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১২০টি দেশে ২৪০টিরও বেশি সংস্থা এ দিবসটি বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উদ্যাপন করে থাকে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘এন্টিবায়োটিকযুক্ত খাদ্যকে না বলুন’।
আমরা সবাই কোনো না কোনো পণ্য বা সেবার ভোক্তা বা গ্রহীতা। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্য অপেক্ষা অধিক মূল্যে কোনো পণ্য, ঔষধ বা সেবা বিক্রয় করা এমনকি বিক্রয়ের প্রস্তাব করা অপরাধ।
জেনেশুনে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এমন ভেজাল মিশ্রিত অথবা নকল পণ্য, সেবা অথবা ঔষধ বিক্রয় বা বিক্রয়ের প্রস্তাব করা একটা বড় অপরাধ। মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বা ঔষধ জীবনের জন্য কত ক্ষতিকর তা একমাত্র ভুক্তভোগীরাই বলতে পারবেন।
এসিড বিক্রেতা মনের হরষে এসিড বিক্রি করছে আইনের তোয়াক্কা না করে। কিন্তু যদি এমন হয়-কখনও নিজের বাসা থেকে টেলিফোন আসে কোনো এক সন্ত্রাসী তার মেয়েকেই এসিড মেরেছে এবং একটু পরে যখন আরও বুঝতে পারে যে সেই সন্ত্রাসী তার দোকান থেকেই এসিড কিনেছিল তখন সে হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করবে সে কী ভুল করেছিল।
বিশিষ্ট পরিবেশবাদী ও ভোক্তাদের অধিকার বিষয়ে আন্দোলনে সোচ্চার কর্মী মালয়েশিয়ার আনোয়ার ফজল কর্তৃক এ দিবস পালনের রূপকার হিসেবে পরিচিতি হয়েছেন। ১৫ মার্চ, ১৯৮৩ তারিখে তিনি ভোক্তা সংগঠনগুলোর মাধ্যমে ভোক্তাদের মৌলিক অধিকার সম্বন্ধে সচেতনতার উদ্দেশ্য বৈশ্বিকভাবে উদযাপনের আহ্বান জানান।
১৫ মার্চ, ১৯৬২ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডি কংগ্রেসে ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে বক্তৃতা দেন। নিরাপত্তার অধিকার, তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার, পছন্দের অধিকার এবং অভিযোগ প্রদানের অধিকার - ভোক্তাদের এ চারটি মৌলিক অধিকার সম্পর্কে তিনি আলোকপাত করেন যা পরবর্তীতে ভোক্তা অধিকার আইন নামে পরিচিতি পায়।
১৯৮৫ সালে জাতিসংঘের মাধ্যমে জাতিসংঘ ভোক্তা অধিকার রক্ষার নীতিমালায় কেনেডি বর্ণিত চারটি মৌলিক অধিকারকে আরো বিস্তৃত করে অতিরিক্ত আরো আটটি মৌলিক অধিকার সংযুক্ত করা হয়।
এরপর থেকেই কনজুমার্স ইন্টারন্যাশনাল এ সকল অধিকারকে সনদে অন্তর্ভূক্ত করে। কেনেডি'র ভাষণের দিনকে স্মরণীয় করে রাখতে ১৫ মার্চকে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস হিসেবে বৈশ্বিকভাবে উদযাপন করে আসছে।
দেশব্যাপী এই দিবসটি উদ্যাপনের মাধ্যমে দেশের আপামর জনগণ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ সম্পর্কে আরো বেশি আগ্রহী হবে এবং তাদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে এগিয়ে আসবে।
এমবি





