আজ ৪ নভেম্বর সংবিধান দিবস। ১৯৭২ সালের এই দিনে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত হয়। সে বছরই ১৬ ডিসেম্বর সংবিধান কার্যকর হয়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন হিসেবে এই সংবিধানকে বিবেচনা করা হয়।
কোন শাসনব্যবস্থার মূলগ্রন্থ সংবিধান, যাতে স্বায়ত্তশাসিত কোন রাজনৈতিক সত্তার কর্তব্য নির্ধারণের মৌলিক নিয়ম ও সূত্রসমূহ লিপিবদ্ধ থাকে।
কোন দেশের ক্ষেত্রে এই শব্দ সেদেশের জাতীয় সংবিধানকে বোঝায় যা রাজনৈতিক মৌলিক নিয়ম ও সরকারের পরিকাঠামো, পদ্ধতি, ক্ষমতা ও কর্তব্যকে প্রতিস্থাপিত করে।
একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য কিছু বিধিমালার প্রয়োজন। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে থাকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা, যাকে 'সংবিধান' বা Constitution বলা হয়।
সংবিধান একটি রাষ্ট্রের দর্পণস্বরূপ। রাষ্ট্র পরিচালনার মূল চালিকাশক্তিই হলো সংবিধান। প্রতিটি রাষ্ট্রেরই সংবিধান রয়েছে।
সাংবিধানিক ইতিহাসে বাংলাদেশের সংবিধান সৃষ্টির ইতিহাস সত্যিই গুরুত্ববহ বিষয়। কেননা স্বাধীনতার মাত্র ৩২৫ দিন পর এই দেশের জনগণ একটি পূর্ণাঙ্গ সংবিধান লাভ করে।
বাংলাদেশের সংবিধান তৈরির উদ্দেশ্যে ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ অস্থায়ী সাংবিধানিক আদেশ জারি করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ জারি করেন।
১৯৭০ সালের ডিসেম্বর ও ১৯৭১ সালের জানুয়ারি মাসে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ সদস্যরা গণপরিষদের সদস্য বলে বিবেচিত হন। গণপরিষদের সদস্য ছিলেন ৪৩০ জন। বাংলাদেশ সংবিধান রচনা কমিটির সদস্য ছিলেন ৩৪ জন।
সংবিধান রচনা কমিটির প্রধান ছিলেন তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন। সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য বেগম রাজিয়া বানু। সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য ছিলেন সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত।
সংবিধান রচনা কমিটি ভারত ও যুক্তরাজ্যের সংবিধানের আলোকে বাংলাদেশের সংবিধান রচনা করে। সংবিধান লেখার সময় খসড়া পর্যালোচনার জন্য ড. আনিসুজ্জামানকে আহ্বায়ক, সৈয়দ আলী আহসান এবং মযহারুল ইসলামকে ভাষা বিশেষজ্ঞ হিসেবে একটি কমিটি গঠন করে পর্যালোচনার ভার দেয়া হয়।
তত্কালীন গণপরিষদ ভবন যা বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সেখানে সংবিধান প্রণয়ন কমিটির বৈঠকে সহযোগিতা করেন ব্রিটিশ আইনসভার খসড়া আইনপ্রণেতা আই গাথরি।
সংবিধানের খসড়া সর্বপ্রথম গণপরিষদে উত্থাপিত হয় ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর। ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশের সংবিধানের খসড়া গণপরিষদে গৃহীত হয়।
এ জন্য ৪ নভেম্বর 'সংবিধান দিবস' হিসেবে পালিত হয়।গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর বা প্রবর্তিত হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২।
এসএইচ





