সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও চরম মানবেতর দিন কাটাচ্ছে কয়েকটি অঞ্চলের বাসিন্দারা। দেশটির অন্তত ১৮টি অঞ্চলের ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৭০০ মানুষ অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
এদের মধ্যে অন্তত আড়াই লাখ শিশু অনাহারে মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে। এরা পশুর খাবার খেতে বাধ্য হচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক শিশুবিষয়ক সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’।
সংস্থাটির মতে এসব শিশু ‘খোলা কারাগারে’বসবাস করছে। খবর দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের।
জাতিসংঘ বলছে, সিরিয়ায় ১৮টি অঞ্চলে হয়তো সরকার, নয়তো বিরোধীদের হাতে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে প্রায় ৫ লাখ মানুষ। তারা খাবারের জন্যও কোথাও চলতে ফিরতে পারে না, ওষুধ পায় না।
কিছু কিছু দাতব্য সংস্থার মতে, এমন মানুষের প্রকৃত সংখ্যা ১৯ লাখের মতো হবে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এসব অঞ্চলে স্থিতিশীলতা আসবে বলে আশা করা হয়েছিল।
বিভিন্ন অবরুদ্ধ অঞ্চলে এরই মধ্যে অনেক দাতব্য সংস্থা ত্রাণ নিয়ে গেছে। এ পর্যন্ত দেড় লাখ মানুষের কাছে তারা পৌঁছাতে পেরেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রধান নির্বাহী তানইয়া স্টিলি বলেন, ‘শিশুরা ক্ষুধার্ত থাকছে এবং অসুস্থ হয়ে মারা যাচ্ছে।
বাড়ি থেকে খাবারের খোঁজে সামান্য দূরত্বে বের হওয়াও তাদের কাছে আতংকজনক। এই লজ্জাজনক পরিস্থিতির এখনই অবসান ঘটানো দরকার।’
বুধবার প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, সিরিয়ার কয়েকটি অঞ্চলে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশু একবেলা না খেয়েও পুরো দিন কাটিয়ে দিচ্ছে। সেখানকার ১২৬ জন বাসিন্দার সাক্ষাৎকার নিয়েছে সেভ দ্য চিলড্রেন।
এদের মধ্যে এক-চতুর্থাংশই জানিয়েছে, শিশুরা খাবারের অভাবে মারা যাচ্ছে। দামেস্ক থেকে মাত্র কয়েক মাইল দূরে মোয়াদামিয়েতে তিনজন সদ্যোজাত শিশু চিকিৎসা সুবিধার অভাবে মারা গেছে।
ওএফ





