কিডনি মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীরে তৈরি বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান বের করে, রক্ত ও ভিটামিন ডি তৈরি করে, এসিড-ব্যাজের ভারসাম্য ঠিক রেখে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখে। কিছু ওষুধ রয়েছে যেগুলো কিডনির সমস্যা করতে পারে। সাধারণত কারা কিডনির ওষুধ দিয়ে বেশি আক্রান্ত হয় :
১. ৫০ বছরের বেশি বয়স্ক মানুষ।
২. ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগী।
৩. হার্টের রোগীরা।
৪. বিভিন্ন জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত ব্যক্তি।
৫. শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলে ওষুধ দিয়ে বেশি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
ওষুধ কীভাবে কিডনি নষ্ট করে:
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের কিডনির নিজস্ব রক্ত সরবরাহ বিঘ্ন ঘটিয়ে জিএফআর (GFR) কমিয়ে দেয়। কিডনির অটোরেগুলেশন নষ্ট হয়, কিডনির প্যারেনকাইমা সেল নষ্ট হয়ে, নেফ্রন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যায়। ফলে কিডনি অকার্যকর হয়ে পড়ে।
সাধারণত যে ধরনের ওষুধ কিডনিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে
১. ব্যথানাশক ওষুধ।
২. হেরোইন, কোকেন, ইয়াবার মতো নেশাজাতীয় মাদক।
৩. মদ।
৪. উচ্চ রক্তচাপের কিছু কিছু ওষুধ।
৫. অ্যামাইন গ্লাইকোসাইটের মতো কিছু কিছু অ্যান্টিবায়োটিক।
৬. লিথিয়াম।
৭. অ্যান্টিভাইরাল কিছু ওষুধ।
৮. কেমোথেরাপির কিছু কিছু ওষুধ।
কিডনি বাঁচাতে যা করবেন:
১. যে কোনো ধরনের ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাবেন না।
২. ওষুধের দোকানি, পরিচিত বন্ধু দিয়ে উৎসাহিত হয়ে কোনো ওষুধ খাবেন না।
৩. এমআরআই, কোলনোস্কপিসহ যে ধরনের পরীক্ষা করতে ডাই বা রং ব্যবহার করা হয়, এ ধরনের ওষুধ ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৪. দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ শুরু ও শেষ করার পর কিডনির কার্যক্ষমতা অবশ্যই পরীক্ষা করান।
৫. প্রায়ই কিডনি কেমন কাজ করছে সেই পরীক্ষা করান।
৬. কিডনিতে ক্ষতি করে এ ধরনের ওষুধ সম্পর্কে ধারণা রাখুন এবং খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
৭. যে কোনো ওষুধ খাওয়ার আগে ও পরে প্রচুর পানি খান।
৮. ওষুধ শুরু করার আগে কিডনি রোগের ঝুঁকিগুলো নির্ণয় করুন। এরপর সেটির সমাধান করে ওষুধ খান।
এমই





