কবি যতিন্দ্র মোহন বাগচী তার কাজলা দিদির কবিতায় লিখেছেন বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ঐ। মাগো আমার শোলক বলা কাজলা দিদি কই? কবির বাশবাগান গুলো এখন শুধুই স্মৃতি হয়ে আছে। গাইবান্ধা জেলায় ধিরে ধিরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বাঁশবাগান। আগে এই এলাকার বিভিন্ন গ্রামে আনাচে কানাচে প্রচুর বাঁশবাগান দেখা যেত। কিন্তু গ্রাম এলাকার সেই চির চেনা চিত্র এখন আর চোখে পড়ে না।

দিন বদলের সাথে সাথেই গ্রাম বাংলার চিত্র গুলোও বদলে যাচ্ছে। সে সময় গ্রামের মানুষ ঘর বাড়ী গবাদি পশু বাসস্থান, নদী পারাপারের সাকো তৈরি ছাড়াও গৃহস্থালীর নানা কাজে বাশের তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী ব্যবহার করত বর্তমানে সময়ের সাথে তার মিলিয়ে চলতে মানুষের চিন্তা ধারারও আমূল্য পরিবর্তন এসেছে। মানুষ এখন প্রয়োজনের তাগিতেই নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারে অভ্যস্থ হচ্ছে। বাঁশ দিয়ে ঘর বাড়িসহ নানা স্থাপনা নির্মান করা হবে এমন পরিকল্পনা এখনও করতে পারচ্ছেন না গ্রাম বাংলার মানুষ।

সময় ও সমাজ পরিবর্তনের সাথে সাথেই বাঁশের জায়গা দখল করছে ইট পাথর সহ রড সিমেন্টের খুঁটি। রড সিমেন্টের ও ইট পাথরের মূল্য বেশি হওয়ায় সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং অধিক টেকসই নিরাপত্তার কারণে মানুষ ঘর বাড়ী নির্মাণের আর বাশের ব্যবহার তেমন করছে না। ফলে ঐ সব কাজে বাশের গুরুত্ব বৃদ্ধমান মানুষের কাছে আগের মত না থাকলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে বাঁশের কদর একবারে কমেনি। এক সময় গ্রাম এলাকার প্রায় প্রতি কৃষকের বসত ভিটার কোন না কোন জায়গায় বাঁশ বাগান ছিল কিন্তু এখন নেই বললেই চলে কয়েক বছর আগেও গ্রাম অঞ্চলের প্রান্ত এলাকার আনাচে কানাচে বড় বড় বাঁশ বাগান দেখা গেছে।

ঐ সব বাঁশ বাগান ছিল ঘন, বাঁশগুলো ছিল লম্বা দেখে মনে হতো বাগানগুলোর উজাড় হলেও পরিবেশের প্রয়োজনে নতুন করে বাঁশ বাগান সৃষ্টিতে বন বিভাগ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যা এখন পুর্ণাঙ্গ বাঁশ বাগানে রুপ নিচ্ছে।

পরিবেশবিদদের মতে প্রকৃতিক ও পরিবেশের প্রয়োজনে বাঁশ চাষ অত্যন্ত জরুরি আর উজাড় হওয়া জায়গায়গুলো পরিণত হচ্ছে কৃষি জমি বা বসত বাড়িতে।

ইআর