শীত আর পিঠা বলা চলে একটা আরেকটার পরিপূরক।পিঠা আমাদের নান্দনিক সাংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ।

শীতের পিঠাকে আমরা মুখরোচক বা রসনাজাতীয় খাবার বলতে পারি। আবার আমাদের পল্লীগ্রামে উৎসবের মাধ্যম হিসেবে পিঠা ব্যবহৃত হয়।

এছাড়া কিছু কিছু জায়গায় পিঠাকে অতিথি আপ্যায়ণ ও আত্মীয়তার সম্পর্ককে সুদৃঢ় করার মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার করা হয়।

আর সেটা যদি হয় ক্যাম্পাসে তাহলে তো কথাই নেই। কি হয় না ক্যাম্পাসে। সব সাংস্কৃতির চর্চা হয় এখানে আর এ নান্দনিক সাংস্কতির চর্চা হবে না তা কি হয়। আর পিঠা তো আমাদের সকলের জীবনের সাথে মিশে।

আমরা বাড়ি থাকি না তো কী হয়েছে। শীতের পিঠা ক্যাম্পাসের সর্বত্রই পাওয়া যায়। তাই শীতের পিঠার স্বাদ আমরাও পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারি ক্যাম্পাসে থেকে।

হেমন্তের প্রথমে নতুন ধান এলেই পিঠা তৈরী করা হয়। আর ধানটা ঘরে আসে শীতের প্রথম দিকেই। ধানের চালের গুড়া,গুড় ও নারিকেল দিয়ে পিঠা তৈরী করা হয়। আবার তেলে ভেজেও অনেক পিঠা তৈরী করা হয়।

ক্যম্পাসে সাধারণত ভাঁপা পিঠা,অন্থন, চিতই পিঠা,পুলি পিঠা, পাটিসাপটা ,পাকান পিঠা ,নকশি পিঠা, নারকেল পিঠা এছাড়াও ছাচে তৈরী বিভিন্ন পিঠা পাওয়া যায়। ঢাকা শহরে রাস্তার পাশে একটু স্থানের ব্যতিক্রমে কম বেশি এই পিঠাগুলো পাওয়া যায়। আমাদের গ্রামগুলোতে অবশ্য আরো অনেক ধরণের পিঠা পাওয়া যায়।

বর্তমানে পিঠার সাথে বর্তমানে বিভিন্ন প্রকার সবজি,মাংস, ব্যবহারও করা হয়। এ ধরনের কয়েকটি পিঠা হলো সবজি পুলি,সবজি ভাপা ও ঝাল বা মাংস পাটিসাপটা। তবে বর্তমানে ময়দা বা চিনি দিয়েও পিঠা তৈরি করা হচ্ছে।

আর রস পিঠাগুলিতে খেজুরের রস ও দুধের ব্যবহারে স্বাদ বাড়িয়ে দেয় বহু গুন। তাছাড়া বিভিন্ন ধরণে চপও ক্যম্পাসে পিঠার সাথে বানানো জয় এবং সেটা পিঠা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।সবজি চপ,মাংস পিঠা ইত্যাদি।

সারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকম পিঠা পাওয়া যায়।বিকাল হলে তো আমরা দল বেধে বেরিয়ে পড়ি পিঠা খাওয়ার জন্য। বিশেষ করে যে সব জায়গায় আড্ডা হয় তার সব জায়গাতেই কোন খালা অথবা মামা আমাদের জন্য পিঠা বানিয়ে অপেক্ষায় থাকে।

ক্যাম্পাসে সবাই মিলে পিঠা খাওয়া হলেও সাধারণত মূল্য পরিশোধ করে একজনই এ জন্য আমরা পিঠাকে আন্তরিকতা বাড়ানোর মাধ্যমও বলতে পারি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টিএসসি,পলাশী সহ বিভিন্ন জায়গায় পিঠা পাওয়া যায়।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্ট চত্তরের পাশে,প্রীতিলতা হলের সামনে,অমর একুশের পাদদেশে,উঁচু বটে,মীর মশাররফ হলের সামনে,খালেদা জিয়া হলের পাশে বিভিন্ন রকমের পিঠা পাওয়া যায়।

ইংরেজি কেক শব্দের অর্থ বাংলায় পিঠা করা হলেও ইংরেজি পিঠার সাথে আমাদের পিঠার অনেক পার্থক্য রয়েছে।ইংরেজি পিঠা আমাদের পিঠার স্বাদ, গন্ধ থেকে একেবারেই আলাদা। মেক্সিকোতে প্যানকেকে ময়দার পরিবর্তে ভুট্টার আটা ব্যবহার করা হয়

জার্মানির প্যানকেকগুলি ব্রিটেনের মতোই।ইউরোপ আমেরিকা ও বিশ্বের অন্যান্য কিছু দেশের খাবারকেও পিঠা হিসেবে চিহ্নিত করা চলে।এ হিসেবে পিঠা আমাদের দেশের প্রাচীন এক ঐতিহ্য হলেও পিঠা খাওয়ার এই রেওয়াজ শুধু আমাদের নয়। এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ভারত, নেপাল, ভুটান, তিব্বত ও ইউরোপ ও আমেরিকার অনেক দেশেই এই ধরনের খাবারের প্রচলন রয়েছে ।

শুধুমাত্র শীতেই নয়, সারাবছর পিঠা খাবার সুযোগ রয়েছে। শহুরে ব্যস্ত জীবনে পিঠা তৈরী করা বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তাই, বেশ কিছু জায়গায় গড়ে উঠেছে পিঠাঘর। সেখানে পিঠা বিক্রী করা হয়। সাধারণত অধিকাংশ পিঠাই সংখ্যা বা পিস হিসেবে বিক্রী হয়।

এছাড়াও,খাবার ব্যবস্থাও রয়েছে খাদ্যরশিকদের জন্য। তবে শীতে দিকে পিঠার ব্যবসা অনেক ভালো হয় এজন্য পিঠার দোকানের সংখ্যাও অনেক বেড়ে যায় শহগেুলোতে।তাছাড়া এ সময় ক্রেতার সংখ্যাও অনেক বেশি থাকে।শীতকাল মানেই যেন পিঠা। তাই শীতকালকে আমরা পিঠাকালও বলতে পারি।

এসএইচ