‘বাবা আমাকে বাঁচাও, ওরা আমারে খেতে দেয় না’ থানার দারোগা আবুল কালাম আজাদকে পেয়ে আবেগাপ্লুত প্রবীণ বন্দর আলীর কান্নাজড়িত কণ্ঠে এমনি আকুতি।

‘ছোট একটি দাবি নিয়ে এসেছি তোর দারে, ক্ষুধার জ্বালা পেটের মাঝে শুধুই হাহাকার করে’


বন্দর আলী নামের এ বৃদ্ধ গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লাঠি ভর দিয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানায় এসে দারোগা আবুল কালাম আজাদকে তার এ আকুতি করেন। সূত্র: নয়াদিগন্ত

বন্দর আলীর চার ছেলে ও দুই মেয়ে। এর মধ্যে এক ছেলে মানসিকভাবে অসুস্থ। বাকি তিন ছেলে কর্মঠ। মধ্যবিত্ত বলা চলে। কিন্তু তারা তাদের বৃদ্ধ বাবা বন্দর আলীকে কোনো খাবার দেয় না। ছেলের বউরা তাকে মারধর করে এমন অভিযোগ বন্দর আলীর।

একমুঠ ভাত। ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি' বাস্তববাদী এসব কবিতা। তবে ‘বাবা আমাকে বাঁচাও, ওরা আমারে খেতে দেয় না’ এটা কোন গল্প বা নাটক সিনেমার সংলাপ নয়। এ জেনো এক ১২৮ বছর বয়েশি সোনারগাঁও থানার চরভবনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা বন্দর আলীর জীবন যুদ্ধের সংলাপ। ভাত দে হারামজাদা, তা না হলে মানচিত্র খাবো। কবি রফিক আজাদের এই কবিতার সংলাপ একসময়ের পরিচিত। তবে এর অর্থ কয়জনই বা বুঝে?

বন্দর আলীর অভিযোগ,আমার ছেলে ও ছেলেদের বউরা আমাকে খাবার দেয় না এবং কোনো খোঁজখবরও রাখে না। উল্টো আমাকে ওরা নির্যাতন করে। মারে। আমাকে খেতে দেয় না।

অভিযোগ পেয়ে দারোগা আজাদ তাকে সাথে নিয়ে চরভবনাথপুর গ্রামে গিয়ে দেখেন প্রবীণ বন্দর আলীর জীবনের করুণ দৈন্যদশা।

দারোগা আজাদ গতকাল রাতে জানান, চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন হবে ১২৮ বছরের একজন প্রবীণ মানুষের শেষ জীবনের নিদারুণ কষ্টের দৃশ্য। একটি গোয়ালঘরের মতো ঘরে থাকেন বৃদ্ধ বন্দর আলী। পলিথিন দিয়ে ঘেরা ওই ঘরে তার কাটে দিনরাত।

এ দিকে বন্দর আলীর প্রতি তার সন্তানদের নির্যাতনের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে সবাই সবার মতপ্রকাশ করেন।

একজন ফেসবুকে লিখেন, এরা সন্তান নামের কলঙ্ক। এদের আইনের আওতায় এনে কঠিন বিচার করার দাবি করছি।

দারোগা আজাদ জানান, বন্দর আলীর ছেলে ও ছেলের বউদের কাছে বৃদ্ধ বাবা বোঝা হয়ে গেছেন। তবে আমিই বৃদ্ধ বাবাটির দায়িত্ব নিবো, যত দিন আল্লাহ তাকে বাঁচিয়ে রাখেন। একবার ভাবুনতো, আমরা কতটা অমানুষ হলে এমন বৃদ্ধ বাবাকে কষ্ট দিতে পারি?

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, আমি ফোর্সসহ বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। ঘটনার সত্যতাও মিলে, কিন্তু তার ছেলেদের বাড়িতে না পাওয়ায় তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।


এএস