গত জুলাই মাসে কিডনি জটিলতায় হাসপাতালে ভর্তি হন মহিতুল ইসলাম। দীর্ঘদিন কিডনীর সমস্যায় ভূগছিলেন তিনি।ফুসফুসের সংক্রামকও মারাত্মক আকার ধারণ করেছিলো। মস্তিষ্কের কার্যকারিতাও ভালোভাবে কাজ করছিলো না বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বাদী মহিতুলের।শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশেই পাড়ি জমান মহিতুল ইসলাম। 

প্রশঙ্গত, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকাকালে তার রিসিপসনিস্ট কাম রেসিডেন্ট পিএ ছিলেন মহিতুল ইসলাম। ১৯৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সময় ধানমণ্ডির ওই বাড়িতেই ছিলেন তিনি।

দীর্ঘদিন বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারে বাঁধা থাকলেও ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে সে বাঁধা কেটে যায়। এর পর সে বছরের ২ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে মামলা করেন মহিতুল।

ওই মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষে এরমধ্যে পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। তবে এখনও পলাতক রয়েছে দণ্ডিত বেশ কয়েকজন। শেষ পর্যন্ত দেখে যেতে পারলেননা বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় দন্ড প্রাপ্তদের রায় কার্যকর। পাড়ি জমান পরপারে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর।

তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

মহিতুল ইসলামের মৃত্যুর বিষয়ে হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রশান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, গত মাসে কিডনি জটিলতায় হাসপাতালে ভর্তি হন মহিতুল ইসলাম। ২৬ জুলাই থেকে তার অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

মুহিতুল ইসলাম কিডনীর সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর নয় সদস্যের মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়। কিডনির কার্যকারিতা প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে আসায় মেডিক্যাল বোর্ড ভরসা পাচ্ছিলেন না।

তাঁকে একদিন পর পর ডায়ালাইসিস দেয়া হচ্ছিল। তাঁর ফুসফুসের সংক্রামক (নিউমোনিয়া) মারাত্মক আকার ধারণ করেছিলো। যা কোনো জীবাণুনাশকেই ভালোভাবে কাজ করছিলো না।

তাঁর মস্তিষ্কের কার্যকারিতাও ভালোভাবে কাজ করছিলো না। মস্তিষ্কের কার্যকারিতা অনেকটাই ডায়ালাইসিস-এর উপর নির্ভরশীল ছিলো।

কিডনীর সমস্যা নিয়ে মুহিতুল ইসলাম বিএসএমএমইউ’র নেফ্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলমের অধীনে ভর্তি হয়েছিলন। তাঁকে কেবিন ব্লকের আইসিউতে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিলো। সেখানে তাঁর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে কেবিনে নেয়া হয়।

এরপর তাঁর অবস্থার অবনতি হলে কেবিন থেকে গত ২৬ জুলাই তাঁকে পুনরায় আইসিইউতে নেয়া হয়। আর আজ (বৃহস্পতিবার) তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

এসএম