খাজা ফরিদ উদ্দিন আক্তার বালক রুমীর দিকে দৃষ্টিপাত করে তার পিতাকে বলেছিলেন, আপনার সন্তানের প্রতি লক্ষ্য রাখবেন। অদূর ভবিষ্যতে সে প্রেমদগ্ধ হৃদয়ে, প্রেমের বহ্নি শিখা প্রজ্বলিত করবে।
বালক বয়সে রুমি সেই সময়ের বিখ্যাত কামেল দরবেশ খাজা ফরিদ উদ্দিন আক্তারের নিকট গমন করলে তাকে দেখে খাজা ফরিদ উদ্দিন আক্তার একথা বলেন। খাজা সাহেব বালক রূমীকে স্বরচিত একখানা কিতাব ‘গাওহার নামা’ উপহার দিয়েছিলেন। উক্ত কিতাব খানা পাঠ করে, রুমি কাব্য জগতে প্রবেশের অনুপ্রেরনা লাভ করেন।
রূমিও কখনও আত্তারকে ভুলতে পারেনি। রূমি আত্তার সম্পর্কে বলেছেন ”আত্তার ভালবাসার সাতটি নগরই ভ্রমন করেছেন আর আমি এখনও একটি গলির প্রান্তে অবস্তান করছি। ”
বলছি সেই জগতবিখ্যাত দার্শনিক আল্লামা জালাল উদ্দীন রুমি (রহ.) এর কথা। আজ তার জন্মদিন। তিনি ৬০৪ হিজরী সনের৬ই রবিউল আউয়াল তারিখে খোরাসানের (বর্তমান আফগানিস্তান ) বলখ শহরে জন্মগ্রহন করেন। মোঙ্গলীয় আক্রমণের আশংকায় মাত্র বার বছর বয়সে জালাল উদ্দিন মুহাম্মাদ রূমী(র) তার পিতাসহ বলখ ত্যাগ করেন।
আল্লামা রুমির পরিবার ছিল বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও ধর্মতত্তবিদ পরিবার। তার পিতা বাহাউদ্দিন ওয়ালাদকে সমসাময়িক “পন্ডিতদের সুলতান”বলে আখ্যায়িত করেছিল। রুমীর পিতা ছিলেন একজন বিখ্যাত ধর্মতত্তবিদ।
আল্লামা জালাল উদ্দীন রুমি (রহ.) প্রাথমিক শিক্ষা দীক্ষার দায়িত্ব ন্যস্ত হয়তৎকালীন সময়ের প্রখ্যাত বুযুর্গ্যসৈয়দ বুরহান উদ্দিন (রহ.) এর নিকট। এছাড়া তিনি শিক্ষা নেন সেই সময়ের বিখ্যাত কামেল দরবেশ খাজা ফরিদ উদ্দিন আক্তারের নিকট।
আঠারো বছর বয়সে জালাল উদ্দিন মুহাম্মাদ রূমী(র) সমরখন্দের এক অমাত্যের কন্যা গওহর খাতুনকে বিবাহ করেন এবং কিছুদিনের মধ্যে দুই পুত্র সুলতান ওয়ালদ ও আলাউদ্দিন তিলবির পিতা হন।
রূমির জিবনে আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল যখন তিনি তার পিতার সাথে দামেস্ক যান । সেখানে সে যুগের শ্রেষ্ট দার্শনিক ইবনুল আরাবীর সাথে দেখা হয় তার। শোনা যায় ইবনুল আরাবী যখন জালাল উদ্দিন মুহাম্মাদ রূমীকে(র) তার পিতার পিছনে হাঁটতে দেখেন তখন ইবনুল আরাবী বলেছিলেন ”আল্লাহর কি মহিমা , একটি হ্রদের পিছনে একসমুদ্র যাচ্ছে।
মাওলানা রুমি রচিত সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ “মসনবী”। ফার্সি সাহিত্য সম্পদ ছয় খন্ডে বিভক্ত মসনবীতে প্রায় ২৬ হাজার ছন্দবদ্ধ দ্বিপদী কবিতা আছে। রুমীর কবিতায় ভাব-ভাষা ও আবেদন সরাসরি পাঠককে এমনভাবে আকর্ষণ করে যা তার নিকট মনে হয় অপ্রতিরোধ্যঃ- মোহাম্মদ (সা:) বোরাকে আরোহন করলেন। এগিয়ে চললেন রাত্রির আসমানে পথ কেটে কেটে দিন সেতো র্কম ব্যস্ততার, আর রাত্রি হল প্রেমের। না, কখনো সন্মোহিত হতে দিওনা নিজেকে; অনেকে রয়েছে, যারা রাত্রিতে ঘুমায় বিভোর। কিন্তু প্রেমিকেরা নয় তারা অন্ধকারে, সিঁড়িতে বসে আল্লাহর সাথে আলাপনে মগ্ন। আর তিনি (আল্লাহ) বলেছিলেন দাউদকেঃ যারা বিভোর ঘুমে কাটায়, সারারাত, সকল রাত আর দাবী জানায় সম্পর্ক রয়েছে, আমার সাথে তারা মিথ্যুক।
মাওলানা রুনী ১২৭৩ সালের ১৬ই ডিসেম্বর মোতাবেক ৬৭২ হিজরির ৫ জমাদিউস সানি ৬৮ বছর বয়সে ইস্তেকাল করেন। পাঁচ ধর্মের অনুসারী এক বিরাট জনতা কবর পর্যন্ত তার শবযাত্রায় অংশ গ্রহন করে। তার ইন্তেকালের রাতটিকে শাবে আরুস বা মিলনের রাত বলে আখ্যায়িত করা হয়।
ইআর





