বিচ্ছিন্নতাবাদিদের অপর টার্গেট হচ্ছে পাহাড়ের আকর্ষণীয় পর্যটন শিল্প। তাদের প্রধান টার্গেট হল পর্যটন শিল্পকে নিয়ন্ত্রনে নেওয়া। পর্যটন কেন্দ্রে মানুষের আগমন সন্ত্রাসীদের আধিপত্য বিস্তারে বিঘ্ন ঘটায়। এ জন্য পার্বত্য এলাকায় পর্যটন শিল্পের বিরুদ্ধে পাহাড়ী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো নানাভাবে ষড়যন্ত্র করছে।
পর্যটকদের ভয়ভীতি দেখানো হয়, বিভিন্ন হোস্টেল ও রিসোর্ট মালিকদের কাছ থেকে উচ্চহারে চাঁদা আদায় করা হয়। এমন কী বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়। গত বছর ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে বান্দবানের অন্যতম দর্শনীয় স্থান স্বর্ণ মন্দিরে দর্শনার্থীদের প্রবেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এছাড়া রাঙামাটির অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র সাজেকের রুইলুই পর্যটন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার লক্ষ্য করা গেছে। এ নিয়ে পোস্টারও করেছে সন্ত্রাসীরা।
সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণা ও পাহাড়ে বাঙালি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে ভুয়া প্রতিবেদন তৈরিতে কাজ করছে উপজাতিদের বিভিন্ন সংগঠন।
এছাড়া কলেজ, ইউনিভার্সিটি পর্যায়ে বাঙালি ও সেনাবাহিনী বিদ্বেষী অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে পাহাড়িদের ছাত্র সংগঠনগুলো। পাহাড়িদের হাতে পাহাড়িরা প্রাণঘাতি অপরাধের শিকার হলেও প্রতিবাদ করতে দেখা যায় না তাদের।
কিন্তু বাঙালির হাতে পাহাড়ির সামান্য নির্যাতনের কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেই হৈচৈ ফেলে দেয় এ সংগঠনগুলো। এদের প্রকাশ্যে সেনা বিদ্বেষী ও দেশ বিরোধী বক্তব্যও চোখে পড়ার মত।
অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও প্রপাগান্ডা চালাতে পিছিয়ে নেই তারা। ইংরেজি ও বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় সরকার ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মিথ্যা তথ্য ছাড়ানো হচ্ছে।
শান্তি চুক্তিতে নিজেদের উপজাতি হিসেবে উল্লেখ করে চুক্তি সম্পাদন করলেও বর্তমানে ‘আদিবাসী’ দাবির জন্য তৎপর সন্তু লারমার জেএসএসসহ আঞ্চলিক দলগুলো। আদিবাসী স্বীকৃতির আড়ালে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করার অপপ্রয়াস চলছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। আর এ কাজে তাদের মদদ দিচ্ছে স্বয়ং জাতিসংঘ, ইউরোপিয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরাম।
২০১৪ সালের ২২ নভেম্বর ‘দ্যা রিপোর্ট টুয়েন্টিফোরে’‘বৌদ্ধধর্মীয় নেতা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পৌরোহিত্যের আড়ালে ভূমি দখল, অস্ত্র ব্যবসা ও দেশ বিরোধী গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বান্দরবানের স্বর্ণমন্দিরের গুরু উচ হ্লা ভান্তে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও একাধিক গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, বিদেশীদের কাছ থেকে নেওয়া সুযোগ সুবিধা ও উপহার সামগ্রীর বিনিময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন গোপন তথ্য পাচার করেন মিয়ানমারের কাছে।
উচ হ্লা ভান্তে প্রায়ই বিদেশে গিয়ে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী তথ্য আদান-প্রদান করেন। এ ছাড়াও তিনি বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানসহ বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সখ্য রেখে বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি এলাকার আঞ্চলিক সহিংসতা সৃষ্টি করেন।
উচ হ্লা ভান্তে পরোক্ষভাবে জেএসএসের সঙ্গে জড়িত বলে জানা যায়। বান্দরবান এলাকায় ২৫-৩০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি পরিবেষ্টিত থাকে সে। সম্প্রতি এ মন্দিরে মিয়ানমারের পাঁচ গোয়েন্দা ভান্তে বেশে এসে গোপন বৈঠক করেছেন বলে জানিয়েছে সূত্র।
গত বছরের শুরুর দিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদ্যমান অস্থিতিশীলতা, নৈরাজ্য, সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্র বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেয়। এতে পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় বিদেশী দাতা সংস্থা ইউএনডিপি’র কার্যক্রম মনিটরিং ও জবাবদিহিতার আওতায় আনা, বিদেশী অতিথি ও কূটনীতিকদের পার্বত্য চট্টগ্রামে ভ্রমণ ও স্থানীয় পর্যায়ে বৈঠক নিয়ন্ত্রণ এবং পুলিশ ও আনসারদের যোগ দেয়া শান্তিবাহিনীর সাবেক সদস্যদের তিন পার্বত্য জেলা থেকে অন্য জেলায় বদলীর মতো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
পাশাপাশি সন্ত্রাস চাঁদাবাজ বন্ধে পাহাড়ে সেনাবাহিনীর অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের সিদ্ধান্ত হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।
মাহমুদ





