জামায়াতের নায়েবে আমীর আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর চূড়ান্ত রায় দেয়া হবে-এই মর্মে খবর প্রকাশের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে মন্তব্য জানাতে শুরু করেন সাধারণ মানুষ।

গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেলে যখন থেকে জানা যায় যে বুধবার সকালে আপিল বিভাগে সাঈদীর চূড়ান্ত রায় ঘোষণা হবে, তখন থেকেই রায় কী হতে পারে তা নিয়ে নানা ধারনা দিতে থাকেন সচেতন মানুষ।

মাওলানা সাঈদীর পক্ষে-বিপক্ষে নানা যুক্তি পাল্টা-যুক্তিতে রীতিমতো ঝড় বয়ে যায় ফেসবুকের পাতায়।

টাইমনিউজবিডির পাঠকদের জন্য এর আগে আমরা সাঈদীর রায়কে ঘিরে মানুষের আগাম প্রতিক্রিয়া নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলাম। এবার রায় প্রকাশের পরে মানুষের যেই প্রতিক্রিয়া দেখা গেল তা নিয়ে প্রকাশিত হলো আরেকটি প্রতিবেদন।

দেশের রাজনীতি ও বিচার-ব্যবস্থা নিয়ে দেশ-বিদেশের সচেতন লাখো-কোটি বাংলাদেশীদেরা সাঈদীর রায়কে কিভাবে দেখছেন তারই খানিকটা তুলে ধরা হলো তাদেরই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে:

বাশার ইবনে হাদিস

ইতিমধ্যে দেখতে পাচ্ছি অনলাইন এবং অনলাইনের বাইরে সর্বত্রে একটি রিউমার রটে গেছে যে জামায়াত আওয়ামীলীগ আঁতাত হয়েছে। পৃথিবীর সমস্ত ঘৃন্য ভাষায় তাদের এই মন্তব্যের প্রতি নিন্দা ও ধিক্ষার জানাচ্ছি, যারা এই ধরনের মিথ্যা, বানোয়াট, ভূয়া, ভিত্তিহীন রিউমার রটানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে নিজেদেরকে সীমালঙ্ঘনকারী হিসেবে জাহির করছেন।

জুলফিকার হোসেন

এই রায়ে খুশী বা সন্তুষ্ট হওয়ার কিছু নেই। এই রায়ের মাধ্যমে সরকারের অনেক লাভ হলো: ০১. আপাতত গণবিষ্ফোরন থেকে রক্ষা পেল, ০২. একজন নির্দোষ ব্যাক্তিকে আমৃত্যু কারাগারে বন্দী করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করলো, ০৩. শহীদ কাদের মোল্লার ফাঁসি এবং আগামীতে আরো কয়েকজনকে ফাঁসিতে ঝোলানোরপরিকল্পনাকে বৈধতা দেয়ার অপচেষ্টা এবং ০৪. বিএনপির কিছু আবাল শ্রেণীর নেতা-কর্মীকে বোঝানো যে, জামায়াতের সাথেআওয়ামী লীগের আঁতাত হয়ে গেছে।

ইসা খান রাশেদ   

এইটা তো মনে হয় একটা প্রসেস করা হলো ভবিষ্যতে খালাস পাওয়ার জন্য. পরবর্তীযে কোন সরকর ক্ষমতায় আসলেই বেকসুর খালাস. পূর্ববর্তী সরকারের রাজনৈতিকপ্রতিহিংসার কারণে তাদেরকে জেল খাটতে হয়েছে (!) তাদের চরিত্র ফুলের মতপবিত্র (!)

ফুট নোট: হা হা হা (!) এখন আর বাংলাদেশের পলিটিক্স বোঝারজন্য খুব বেশি পলিটিক্স শেখার বা জানার দরকার নেই ! এই সব পলিটিক্স দুধেরবাচ্চাও জানে।

মো: ফায়সুল আলম ভুইয়া

রায়, না তামশা, না আওয়ামী জাতীয় পার্টির মত আওয়ামী জামাত? এখন বাকী আওয়ামী বিএনপি?যদিও ফকরুল আছে তাই নো টেনশন হাসিনার সব মেনেজ। এবারে ভিশন ২০৪১ সার্থক !!! বিক্রীত, বিকৃত এবং ধিকৃত!

মো: গোলাম সরোয়ার হোসাইন

অদৃশ্যশক্তির আদলে ইমরান সরকার কোন একদিন ছিল- দেশের প্রখ্যাত ব্যাক্তি। যারকথায় দেশের সরকার প্রধান মোমবাতি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত এবং পতাকা উত্তোলনেরজন্য সময়ের অপেক্ষায় পুরো মন্ত্রী পরিষদ অধীর আগ্রহে ঘড়ির কাটার দিক তাকিয়েথাকত। কপালের কি ফের আজ একই অদৃশ্য শক্তির আদলে ইমরান সরকার আজ রাস্তা -ঘাটে লাঠি-পেটা খাচ্ছে! এ কেমন অভিনয় শিল্পী কিছুদিন আগেও , যার কদর ছিল রাজ দরবারে। এখন কেন , রাস্তায়ও তার ঠাই মেলে না?

বিনু মাহবুবা

রায়তো কারোই মনপুত হয়নি। জামাতেরও না, মাননীয় আওয়ামী লীগ মন্ত্রীমহোদয়দেরও না। আমাদেরও না। তবে,এমন কেনো হলো?

ইব্রাহিম মোল্লা রব্বানী

আজব এক মঞ্চের নাম- গণজাগরণ মঞ্চ! তাদের দাবিগুলোকে সবার মানতে হবে, হোক সেটা আদালত বা সরকার। যদি তাদের দাবি গুলো না মানে, তাহলে তারা বলে উঠবে তুই রাজাকার, তুই রাজাকার!

আওয়ামী লীগের আশ্রয়ে এতো দিন গণজাগরণ মঞ্চ থেকে, জামায়াতকে বলা হতো রাজাকার...আর এখন তারা আওয়ামী লীগকে বলতেছে রাজাকার!

আ-তে=আওয়ামীলীগ
তুই রাজাকার, তুই রাজাকার............!!

মাহমুদুল আলম তুহিন

প্রসঙ্গ : সাঈদীর আপিলের রায় প্রেক্ষিত তিনটা প্রশ্নের উত্তরচাই- প্রশ্ন,এক: সুখরঞ্জন বালী ভারতের কারাগারে কেন? ( টীকা; যে দুইজনকেহত্যার অভিযোগে সাঈদীর ফাঁসির রায় দেয়া হয়েছে তারা ছিলেন- বিশাবালী এবংইব্রাহিম কুট্টি। সেই বিশাবালীর আপন ভাই সুখরঞ্জনবালী সাঈদীর 'পক্ষে' সাক্ষ্য দিতে এলে ২০১২ সালের ৫ই নভেম্বর তাকে আদালত চত্বর থেকেঅপহরণ করে সরকার পক্ষ । পরে নিউ এজ পত্রিকার অনুসন্ধানে তাকে ভারতের দমদমাকারাগারে পাওয়া যায়। গুম হওয়ার আগে সুখরঞ্জন বালি বলেন তার ভাইয়ের হত্যায়আল্লামা সাঈদী জড়িত ছিলেননা।)

প্রশ্ন,দুই: ইব্রাহিম কুট্টির স্ত্রীর দায়েরকরা মামলায় কোথাও সাঈদীর নাম নেই কেন? (টীকা; পাকি বাহিনীর হাতেনিহত ইব্রাহিম কুট্টির স্ত্রী ১৯৭২ সালে একটি হত্যা মামলা করেন পিরোজপুর আদালতে। সেই মামলার কোথাও সাঈদীর নাম ছিল না। আদালতে উপস্থাপিত ডকুমেন্টের বরাতেপত্রিকার সংবাদ। উল্টো বর্তমান পিরোজপুরের ওলামা লীগ নেতা মোসলেম মওলানার নাম রয়েছে।)

প্রশ্ন,তিন: দেলু শিকদার আর দেলাওয়ার হোসাইনসাঈদী একই লোক হলেদুইজনের বাপ আলাদা (রসুল শিকদার ও ইউসুফ সাঈদী)হলো কীভাবে?( টীকা; তদন্তকর্মকর্তার উল্লেখিত স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পিরোজপুরে মুক্তিযুদ্ধাদের করারাজাকারদের তালিকায় ৪৬ নাম্বারে একজন রাজাকার ছিলো। তার নাম দেলু শিকদাররাজাকার। দেলু শিকদার যুদ্ধের পরই মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে মারা পরে বলে জানাযায়।)

আইনের আপ্তবাক্যঃ হাজার অপরাধী ছাড়া পেয়ে যাক,কিন্তু একজনও নিরপরাধযেন শাস্তি না পায়...আদালত চলুক যুক্তি-প্রমাণ, তথ্য উপাত্তের চুলচেরাবিশ্লেষণ, নিরপেক্ষতার মাপকাঠিতে,কোন প্রকারের অবেগ তথা 'চেতনা'দিয়েনয়...

প্রভাষ আমীন: আগের বার সাঈদীকে চাঁদে দেখা গিয়েছিল। এবার আশা করি সূর্যে দেখা যাবে।

ফখরুল আলম: চাঁদে দেখা যায়নি - তবে জনগণের টাকায় সরকার তার সমস্ত জীবনের থাকা খাওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে।

মিঠু আনোয়ার: সাঈদীকে দ্যাখা যাচ্ছে, পুলিশের লাঠির ডগায়

সাইয়েদ মাহদী

শাহবাগ চত্বরে সমবে হওয়া প্রতিবাদকারীদের উপর পুলিশী নাটকীয় হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন (IHL) বলে, যেকোন হামলা অবশ্যই প্রপোরশনেট হতেহবে।লক্ষ্য অর্জনের জন্য যতটুকু শক্তি প্রয়োগ করা দরকার, এর বেশি শক্তিপ্রয়োগ করা যাবে না। উক্ত চত্বরে সমবেত হওয়া ৫-৭ জন মানুষের জন্যপুরো দুই দুইটি জলকামান ব্যবহার করা হয়েছে। মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগকরার কারণে এই হামলাটি প্রপোরশনেট হয়নি।

উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদন লেখার সময়ও ফেসবুকে একের পর এক কমেন্ট আসতে ছিল। তাদের প্রায় সবার মধ্যেই যে বিষয়টি লক্ষ্য করার মতো তা হলো একাত্তরে মানবতাবিরোধীদের কিছুতেই ক্ষমা করতে পারবে না নতুন প্রজন্ম। তবে, এই ইস্যুকে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের যন্ত্র হিসেবে কেউ ব্যবহার করবে এটাও নতুন প্রজন্ম মেনে নেবে না। বিষয়টির সমাধান আসলে কোথায়? বোদ্ধা মহল কোন পথ বাতলে দিতে পারবে কি?

ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, কেবি