ফিলিস্তিন, ইসরাইল ও ইহুদিদের নিয়ে আমাদের ধারাবাহিক প্রতিবেদন 'ফিলিস্তিন: এক অন্তহীন কান্নার প্রস্রবণ'-এর চতুর্থ পর্বের আজ তৃতীয় পর্ব প্রকাশিত হলো।
বিভক্ত ফিলিস্তিনিদের ভাগ্য বিড়ম্বনা :
অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে আজ ভাগ্যবিড়ম্বিত ফিলিস্তিন জাতি দুইভাগে বিভক্ত- হামাস (গাজা) বনাম ফাতাহ (পশ্চিম তীর)। মিশরের ‘ইখওয়ানুল মুসলিমীন’ (মুসলিম ব্রাদারহুড)-এর আদর্শে গঠিত হয় হামাস। মিশরে ইখওয়ানুল মুসলিমীনের উৎপত্তি হয় ১৯২৬ সালে। এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন হাসান আল-বান্না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই দল মিশরে খুবই শক্তিশালী হয়ে উঠে। মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট জামাল আব্দুন নাসের দলটিকে নিষিদ্ধ করেন। দলটিকে এখন আবারও নিষিদ্ধ করেছে সেনাশাসক সিসি।
গাজায় হামাস দল হিসাবে প্রথম আত্মপ্রকাশ করে ১৯৮৭ সালের ১৪ই ডিসেম্বর। এরপর থেকেই জনসমর্থন সঞ্চয় করে চলেছে এ সমাজসেবামূলক রাজনৈতিক দলটি। পাশাপাশি ফিলিস্তিনকে ইসরাঈলের করাল গ্রাস থেকে উদ্ধার করার জন্য তারা সশস্ত্র সংগ্রামেও যুক্ত রয়েছে। ফিলিস্তিনের মুক্তি সংগ্রামে আশা-ভরসার প্রতীক হয়ে ওঠায় সংগঠনটি ২০০৬ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয় লাভ করে। কিন্তু হামাসকে তথাকথিত 'সন্ত্রাসী' দল আখ্যা দিয়ে আমেরিকা-ব্রিটেনসহ বিশ্ব মোড়লরা তাদেরকে ফিলিস্তিনের শাসনভার গ্রহণে স্বীকৃতি দেয়নি। বরং তাদেরকে নির্বাচিত করার অপরাধে (?) শাস্তিস্বরূপ গাজার অধিবাসীদের উপর চাপিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক অবরোধ। ফলে এক অঘোষিত কারাগারে পরিণত হয়েছে গাজা। বিশ্ববাসীর চোখের সামনে আজ এক বুক শূন্যতা নিয়ে খাদ্যসহ জীবনোপকরণের অভাবে ধুঁকে ধুঁকে দিনাতিপাত করছে সেখানকার কয়েক লক্ষ অধিবাসী।
অথচ হামাস কোন সন্ত্রাসী দল নয়। এটা জনসমর্থিত বিপ্লবী রাজনৈতিক দল। সন্ত্রাসবাদ ও বিপ্লববাদ সমার্থক নয়। সন্ত্রাসীদের সাথে বৃহত্তর সমাজের যোগাযোগ থাকে না, কিন্তু বিপ্লবীদের থাকে। জাতিসংঘ চার্টারের ৫১ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে- ‘কোন দেশ যদি শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হয় এবং তার নাগরিকরা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে, তখন সেই দেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠানের এবং সমস্ত নাগরিকের এককভাবে বা সংঘবদ্ধভাবে থেকে তাদের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। সেই হিসাবে হামাসের পূর্ণ অধিকার রয়েছে ইসরাঈলের বিরুদ্ধে লড়াই করার। কেননা তারা হলো অত্যাচারিত ফিলিস্তিনি জাতির মুক্তিকামী সংগঠন। অন্যদিকে Palestine Liberation Organization (PLO)-এর একটি অংশ হচ্ছে আল-ফাতাহ, যা ১০ অক্টোবর ১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি ইয়াসির আরাফাতের আপোষহীন সাহসী নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও তাদের লেজুড়দের বিরুদ্ধে তুমুল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। এই আল-ফাতাহর সংগ্রামের ফসল হিসাবে ১৯৮৮ সালের ১৫ নভেম্বর স্বাধীন ফিলিস্তিনের ঘোষণা আসে।
সর্বশেষ ২০০১ সালে অসলো শান্তি প্রক্রিয়ার সকল চড়াই-উৎরাই পেরোনোর শেষ পর্যায়ে বিল ক্লিনটনের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দিকে দ্বিতীয় ক্যাম্প ডেভিড চুক্তিতে ইসরাঈল-ফিলিস্তিন উভয়পক্ষকেই স্বাক্ষর করানোর জন্য একত্রিত করা হয়েছিল। কিন্তু আরাফাত ঐ প্রতারণামূলক চুক্তির কতগুলো Volted line-এ স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে আমেরিকা-ইসরাঈলের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় ইয়াসিরকে দৃশ্যপট থেকে সরানো। তাই তারা তাকে আল-ফাতাহ-র সদর দপ্তর রামাল্লায় টানা দুই বছর বন্দী করে রাখে। অতঃপর রহস্যজনকভাবে ১১ নভেম্বর ২০০৪ সালে প্যারিসের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এভাবে বিদায় ঘটে এককালের ফিলিস্তিনের মজলুম জনতার প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর আরাফাতের। এরপর দলটির হাল ধরেন তাঁরই ডেপুটি আপোষকামী মাহমুদ আব্বাস। নেতৃত্বের পরিবর্তনে এক সময়ের বিপ্লবী আপোষহীন দলটি এখন মার্কিন-ইসরাঈল চক্রের আজ্ঞাবহ হয়ে পড়েছে। ফলে মার্কিন-ইসরাঈলী ষড়যন্ত্রকে বাস্তবে রূপদান করতে আরাফাতের আল-ফাতাহ এখন আর কোন বাধা নয়।
জরাজীর্ণ এই সংগঠনটি এখন দুর্বলচিত্ত আব্বাসের পরিচালনায় একটি জনসমর্থনহীন দলে পরিণত হয়েছে। এমতাবস্থায় ফিলিস্তিনি জনগণ আরাফাতের ফাতাহ-এর বিকল্প খুঁজতে থাকে এবং পেয়ে যায় আরাফাতের জীবদ্দশায় নিষ্ক্রিয় থাকা সংগঠন হামাসকে। এভাবেই দৃশ্যপটে আগমন হামাসের। ইসরাঈলের জন্য স্পর্শকাতর ইস্যুগুলো যেমন ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুদের প্রত্যাবর্তন, প্রস্তাবিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রে জেরুজালেমের অন্তর্ভুক্তি ইত্যাদি দাবীতে হামাস আপোষহীন ও অটল। ফলশ্রুতিতে হামাস একদিকে যেমন ইসরাঈলের চক্ষুশূলে পরিণত হয়, অন্যদিকে পরিণত হয় ফিলিস্তিনিদের নয়নমণিতে, যা প্রতিফলিত হয় ২০০৬ সালের ২৫ জানুয়ারির নির্বাচনে। নির্বাচনে মাহমুদ আববাস নেতৃত্বাধীন দল পরাজিত হলেও সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় ফাতাহ ও হামাস উভয়ের অংশগ্রহণে কোয়ালিশন সরকার গঠন করা হয়। এরপর থেকে এই কোয়ালিশন সরকারকে ভেঙ্গে দেয়ার জন্য ইসরাঈল তার সর্বশক্তি নিয়োগ করে। অবশেষে পশ্চিমাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আববাস কোয়ালিশন সরকার ভেঙ্গে দেন। এহেন মুহূর্তে আসন্ন বিপদ বুঝতে পেরে হামাস দারিদ্র্যপীড়িত গাজার অধিকার গ্রহণ করে এবং ফাতাহ পশ্চিম তীরের অধিকার গ্রহণ করে। এইভাবে একটি জাতি হিসাবে ফিলিস্তিন বিভক্ত হয়ে পড়ে। ফলশ্রুতিতে ফিলিস্তিন জাতির একতাবদ্ধ শক্তিও ভেঙ্গে দু’টুকরো হয়ে যায়।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি হামাস ও ফাতাহর মধ্যে আবারও মধ্যস্ততা ও বন্ধুত্বের সম্ভাবনা দেখা দেয়। হামাস নেতৃবৃন্দ পশ্চিম তীরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসসহ ফাতাহ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তাদের মধ্যে এক ঐতিহাসিক সমঝোতা হয়। এই সমঝোতার মাত্র কয়েকদিন পরই গাজায় হামলা শুরু করে ইসরাইল।
বর্তমান ফিলিস্তিনের অবস্থা :
বর্তমানে ইসরাঈল পশ্চিম তীরের চারিদিকে আন্তর্জাতিক আইন পরিপন্থী একটি নিরাপত্তা প্রাচীর তৈরী করেছে, যা সেখানে বসবাসরত ২০ লাখ ফিলিস্তিনিকে মূলত খাঁচাবন্দী করে রেখেছে। এ ছাড়া প্রতিমাসে বসবাসরত হাজার হাজার ইহুদির সঙ্গে যোগ হচ্ছে আরো অগণিত ইহুদি। অন্যদিকে ইসরাঈল সরকার পশ্চিম তীরের ইফরাত এলাকার ৪২৫ একর (১৭২ হেক্টর) ভূখন্ড দখল করে নিয়েছে। এই ভূখন্ডে অন্তত ২ হাজার ৫০০ নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে। এই ভবনগুলোতে অন্তত ৩০ হাজার ইসরাঈলির থাকার ব্যবস্থা করা হবে (নয়া দিগন্ত, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৯, পৃষ্ঠা-৫)।
পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতিগুলোতে বর্তমান প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার ইসরাঈলি বসবাস করে। ২০০১ সালে এই সংখ্যা ছিল ২ লাখের নিচে। অন্যদিকে গাজা থেকে রকেট ছোঁড়া হলেও পশ্চিম তীর থেকে কোন রকেট ছোড়া হয়নি। তারপরও গত বছর সেখানে ইসরাঈলি হামলায় ৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন (খালেদ মিশাল, কোন বর্বরতাই মুক্তির সংকল্প দমাতে পারবে না, অনুবাদ: ফারুক ওয়াসিফ, প্রথম আলো, ৭ জানুয়ারি, ২০০৯, পৃঃ ১১)।
অন্যদিকে গাজা মূলত একটি বড় আকারের শরণার্থী শিবির, যার ৮৩ ভাগ মানুষ দরিদ্র। গাজার ফিলিস্তীনীদের সাথে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তীনীদের বৈবাহিক সম্পর্কও নেই। এমনকি গাজার ছাত্র পশ্চিম তীরের কোন প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনারও সুযোগ পায় না। এইভাবে একটি জাতিকে অত্যন্ত নিষ্ঠুরতার সাথে একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে ইসরাঈল। ১৯৬৭ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত গাজা এলাকা ইসরাঈলের দখলে ছিল। ফিলিস্তিনিদের অবিরাম প্রতিরোধ-আন্দোলনে অপদস্থ ইসরাঈলিরা ২০০৫ সালে গাজা ছেড়ে গেলেও অত্যাচারী প্রতারক ইসরাঈল গাজার উপর অবরোধ চাপিয়ে দেয়। তারা গাজায় ঢোকার ও বেরুনোর সব পথ বন্ধ করে দেয়। দক্ষিণ মিসরের সিনাইয়ের দিকে একটা প্রবেশ পথ আছে। কিন্তু মার্কিন-ইসরাঈলের চাপের মুখে মিশর সে পথটিও বন্ধ করে দেয়।
এই অবরুদ্ধ গাজার উপর তারা ২০০৬ সালে বিমান হামলা চালিয়ে ২৯০ জন নিরীহ গাজাবাসীকে হত্যা করে। তারপর ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে গাজায় বিমান হামলা চালিয়ে ১৪০ জনকে হত্যা করে। এরপর ২০০৮ সালের জুন মাসে ৬ মাসের যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে গাজায় ইসরাঈলের অবরোধ প্রত্যাহার এবং গাজা থেকে রকেট নিক্ষেপ বন্ধে সম্মত হয় হামাস।
কিন্তু ইসরাঈল ৪ ও ১৭ নভেম্বর আকাশ ও স্থলপথে গাজায় হামলা চালিয়ে যুদ্ধ বিরতি ভঙ্গ করলেও ওবামার নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত মিডিয়ায় তা ধামাচাপা পড়ে যায়। ১৯ ডিসেম্বর ২০০৮ সালে ইসরাঈল-হামাস ৬ মাসের যুদ্ধ বিরতির মেয়াদ শেষ হয়। এরপর ২৭ ডিসেম্বর যুদ্ধ বিরতি ভঙ্গকারী ইসরাঈল গাজায় নির্বিচারে গণহত্যা শুরু করে। বিনা উসকানিতে ঠান্ডা মাথায় গাজার ঘুমন্ত, নিরীহ মানব সমাজের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ইসরাঈল। ইসরাঈলি জঙ্গী বিমানগুলো আকাশ পথে, যুদ্ধ জাহাজগুলো নৌপথে এবং ট্যাংক বহরের দুর্ভেদ্য নিরাপত্তাবূহ্য নিয়ে ইসরাঈলি পদাতিক বাহিনী প্রায় ২২ দিন যাবত মানবতার বিরুদ্ধে সভ্য দুনিয়ার এক নজীরবিহীন নৃশংস তান্ডব চালায়। নব আবিষ্কৃত ফসফরাস বোমায় মানবহত্যার নিষ্ঠুর পরীক্ষা চালায়। এমনিতেই দীর্ঘ অবরোধের কারণে গাজাবাসী নিঃস্ব, অসহায় ও সম্বলহারা। নেই তাদের পর্যাপ্ত খাদ্য-পানীয়। তার উপর নিষ্ঠুর ইসরাঈল বাহিনীর বর্বর আক্রমণে গাজাবাসী অসহায় হয়ে পড়ে। টানা ২২ দিনের মর্মন্তুদ হত্যাকাণ্ডে গাজা পরিণত হয় সাক্ষাৎ বধ্যভূমিতে। ফিলিস্তিনের সরকারী পরিসংখ্যান মতে এই হামলায় ৪১০ শিশু ও ১০০ নারীসহ ১৩০০'র বেশী লোক নিহত হন, আহত হন ৫ হাজার ৩০০ জন। ৪ হাজার ১০০ বাড়ীঘর পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। অন্যদিকে ইসরাঈলী সেনা মারা যায় মাত্র ১৩ জন।
এই নৃশংস হামলার কারণ হিসাবে ইসরাঈল অজুহাত দেয় হামাস গাজা থেকে রকেট ছুঁড়লে তার জবাবে আমরা এই হামলা চালিয়েছি। অথচ হামাসের রকেট হামলায় ইসরাঈলে মারা যায় ১৩ জন, আর তার জবাবে ইসরাঈল হত্যা করে ১৩০০ জন। এরপরেও কারো মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, শক্তির ব্যবধানে বহুগুণ পিছিয়ে থেকেও খামাখা রকেট হামলা চালিয়ে ইসরাঈলকে উস্কানি দেয়ার পিছনে হামাসের যুক্তি কি? হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান খালিদ মিশেল এর উত্তরে লেখেন, ‘আমাদের ঘরে বানানো রকেটগুলো আর কিছুই নয়, দুনিয়ার কাছে আমাদের ফরিয়াদ। যেন তারা শুনতে পায় যে, আমরা এখনো বেঁচে আছি মরে যাইনি। ইসরাঈল ও মার্কিন শক্তি চাচ্ছে আমরা মরবো কিন্তু আওয়াজ করবো না। আমরা বলছি আমরা মরবো তবু নীরব হবো না (প্রথম আলো, জানুয়ারি ২০০৯, পৃঃ ১১)।
শান্তির ললিতবাণী প্রচারকরা কোথায়?
সন্ধ্যার মৃদুমন্দ হাওয়ায় ঘুমাতে যাওয়া আর পাখির কোলাহলে আনন্দঘন পরিবেশে ঘুম জাগা শিশুটি যখন নিমিষেই হচ্ছে পিতৃহারা, মায়েরা হচ্ছে সন্তানহারা, স্ত্রীরা হচ্ছে স্বামীহারা। পিতৃহারা সন্তানের বুকফাটা আর্তনাদ, স্বামীহারা বিধবার গগণবিদারী চিৎকার, সন্তানহারা পিতার শোকের মাতম যখন পৃথিবীর আকাশ-বাতাসকে কাপিয়ে তুলেছে; সকলের অলক্ষ্যে নির্যাতিত বান্দার আর্তচিৎকারে আল্লাহর আরশটিও যেন কেঁপে উঠেছে। সমগ্র পৃথিবী যখন এ গণহত্যায় শোকে মুহ্যমান। সেই মুহূর্তেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুশ নির্লজ্জভাবে উল্টো সহায়হীন ফিলিস্তিনিদের দায়ী করে বিষোদগার করেন। অন্যদিকে শপথ না নেয়ার ঠুনকো অজুহাতে চুপটি মেরে ঠিকই বসে ছিলেন তথাকথিত ‘পরিবর্তন’-এর বার্তা নিয়ে হাজির হবু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা। অথচ ক’দিন আগেই তিনি মুম্বাই বোমা হামলার নিন্দা করতে ভুলেননি। দ্বিমুখী আচরণের পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে শপথ নেয়ার পূর্বেই ওবামা তার আসল চেহারা উন্মোচন করে দেন।
শান্তির বার্তাবাহক (!) তকমা লাগিয়ে এই আমেরিকাই আবার পৃথিবীব্যাপী শান্তি ও নিরাপত্তার দরস দিয়ে যাচ্ছে। শিশু ও নারীর অধিকারের পক্ষে অবিরাম বুলি আওড়াচ্ছে। অথচ দীর্ঘ ৬২ বছর যাবৎ ফিলিস্তিনের বুকে যে অন্তহীন কান্নার প্রস্রবণ বয়ে চলেছে তা তাদেরকে বিন্দুমাত্র আঁচড় কাটে না। পশ্চিমা মিডিয়াগুলোতে সবসময় সোচ্চারভাবে প্রচারিত হচ্ছে মুসলিম দেশগুলোতে তথাকথিত নারী নির্যাতনের কাহিনী। কিন্তু ইসরাঈলের প্রকাশ্য লোমহর্ষক নারকীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তারা মুখে কুলুপ এঁটে আছে।
হাজারো মানবাধিকারবাদী, নারীবাদী, প্রাণীবাদী সংস্থা যারা দেশে দেশে মানব-প্রাণীকুল নির্যাতনের চিত্র সন্ধানে হয়রান হয়ে বেড়াচ্ছে তাদের কাছেও ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুর বুকফাটা আর্তনাদ কোনই প্রভাব ফেলে না। তবে কি মুসলিম নারী ধর্ষণ মানবতাবিরোধী কাজ নয়? মুসলিমদের উপাসনাস্থল ধ্বংস করা কি ধর্মীয় অধিকার ক্ষুণ্ণ করা নয়? নিরীহ মুসলিমদের হত্যা করা কি গণহত্যা নয়? কেন শান্তির ললিতবাণী প্রচারকরা এ বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটে থাকে? কেন তাদের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের হুংকার সেখানে স্তব্ধ হয়ে যায়? এভাবেই কেবল আপন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরগরম গণতন্ত্র, শান্তি ও নিরাপত্তার ভড়ংধারী এই রাষ্ট্রগুলো মুসলিম বিশ্বের উপর চালিয়ে যাচ্ছে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক নীরব গণহত্যা। মূল লেখক: আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রাযযাক
ঢাকা, ১৬ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) এসএমএ





