আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস আজ। প্রতি বছর ৯ ডিসেম্বর সারা বিশ্বে দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালন করা হয়। জাতিসংঘ ২০০৩ সালে ৯ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। বারতম আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবসটির বাংলাদেশে এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘দেশ প্রেমের শপথ নিন, দুর্নীতিকে বিদায় দিন’।

এ শ্লোগানকে সামনে রেখে বুধবার (৯ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালন করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এ উপলক্ষে উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল সোয়া ৯টায় কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য ল্যালি বের হবে। র‌্যালিটি কাকরাইল মোড়-বিজয়নগর-তোপখানা রোড হয়ে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে।

মানববন্ধন শেষে র‌্যালিটি মৎস্য ভবন হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে এসে শেষ হবে।

কমিশনের চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান, কমিশনার (তদন্ত) মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ও কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে কমিশনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী, দুদকের প্যানেল আইনজীবী ও দুদক বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স এগেইনেস্ট করাপশন (র‌্যাক) এর সদস্যরা এ র‌্যালিতে অংশ নেবেন।

র‌্যালি শেষে বেলা ১১টায় দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

কমিশনের চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় আলোচনা সভায় দৈনিক সমকাল পত্রিকার সম্পাদক গোলাম সারওয়ার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখবেন।

সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকার শাহাবাগ শিশু পার্কে দুর্নীতিবিরোধী গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি দেশের সব উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে দুর্নীতিবিরোধী র‌্যালি, মানববন্ধন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের ৭টি বিভাগীয় কার্যালয়, ২২টি সমন্বিত জেলা কার্যালয়, উপজেলা/জেলা/নগর/মহানগর দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি এবং সততা সংঘের সদস্যরা তৃণমূল পর্যায়ের এ সব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ে দেশের ৯টি আঞ্চলিক মহানগর, ৬২ টি জেলা ও ৪২১টি উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি গঠন করেছে।

এ সব কমিটির তত্ত্বাবধানে দেশের প্রায় ২২ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘সততা সংঘ’ গঠন করা হয়েছে। ‘সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা’ এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সততা চর্চার প্রসারের লক্ষ্যেই সততা সংঘ গঠন করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দুর্নীতি দমন কমিশনের উদ্যোগে দুর্নীতিমুক্ত সরকারি সেবার লক্ষ্যে ‘গণশুনানি’ অনুষ্ঠিত হবে।

গণশুনানিতে ঢাকার তেজগাঁও, গুলশান ও সূত্রাপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিস এবং গুলশান, তেজগাঁও ও কোতয়ালি অঞ্চলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস থেকে সেবা গ্রহণে যে সব নাগরিক হয়রানি বা দুর্নীতির শিকার হয়েছেন তারা অংশ নিতে পারবেন।

প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালে ৯ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে জাতিসংঘ। ২০০৪ সাল থেকে বিশ্বে প্রতি বছর এ দিবসটি পালিত হচ্ছে।

আর ২০০৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী সনদে স্বাক্ষর করার পর ২০০৮ সাল থেকে এ দিবসটি পালন করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতায় প্রকাশনা :

দুর্নীতি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর অন্যতম হচ্ছে জনগণের মধ্যে নৈতিকতা বোধ জাগিয়ে তোলা। এ ব্যাপারে সমাজের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

ইমাম এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য কমিশন ২০১১ সালে এপ্রিল মাসে ‘দুর্র্নীতি চরম পরিণতি’ শীর্ষক ধর্মোপদেশ সম্বলিত একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

দুর্নীতির নিন্দা জানিয়ে পবিত্র কুরআন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অন্যান্য বাণী-বক্তব্য সম্বলিত এই পুস্তিকা থেকে শুক্রবার নামাজের সময় ধর্মোপদেশ বয়ান করা হয়। এই পুস্তিকাটি দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় এবং ইসলামী ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ এ মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন মসজিদ এবং দর্শীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।

২০১২ সালের মার্চ মাস থেকে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক দর্পণ শীর্ষক একটি ত্রৈমাসিক প্রকাশনা শুরু করে । দুদক দর্পণ এর প্রথম সংখ্যা ২০১২ সালের ২৬ মার্চ প্রকাশিত হয়।

২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দুর্নীতি দমন সম্বলিত বিভিন্ন শ্লোগান ব্যবহার করে দুদকের সদরদপ্তরে একটি ডাকটিকেট উন্মোচন করা হয়।

প্রচারণামূলক কর্মকান্ড :

জনগণকে সংগঠিত করা এবং বিভিন্ন উপকরণ প্রকাশনার বাইরেও দুদক কিছু প্রচারণামূলক কর্মকান্ডও গ্রহণ করে। তারা শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিকগুলোতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিজ্ঞাপন প্রচার করে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিআরটিসি) সহায়তায় মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদেরকে দুর্নীতি থেকে বিরত থাকার জন্য ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়।

পথচারীদের মনোযোগ আকর্ষণের মাধ্যমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই জোরদারের লক্ষ্যে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের উদ্যোগে কয়েকটি বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়।

দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহ এবং আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস উপলক্ষে শ্রমিকদের মধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শ্লোগান সম্বলিত টি-শার্ট বিতরণ করা হয়।

রাজধানীসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার পোস্টার ছাপিয়ে সেগুলো দেয়ালে লাগানো হয়। এসব পোস্টারে দুর্নীতিকে না বলুন, ঘুষ দাতা ও গ্রহীতা উভয়েই জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে এবং দেশ রক্ষায় দুর্নীতি প্রতিরোধ করুন লেখা থাকে।

সকল নাগরিকের অধিকার সম্পর্কে তথ্য প্রদান এবং কর্তব্যরত কর্মকর্তাগণ জনগণকে কী ধরণের সেবা প্রদানে বাধ্য তা স্মারণ করিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের সকল থানায় দুর্নীতি বিরোধী পোস্টার পাঠানো হয়।

এমকে