ঢাকায় নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট বলেছেন, তার মাতামহ (নানা) প্রাপ্ত বয়স্ক অবস্থায় মুক্তি পাওয়ার আগ পর্যন্ত চুক্তিভিত্তিক দাস ছিলেন।
আজ (বুধবার) ঢাকায় আমেরিকান ক্লাবে দিনব্যাপী মানবপাচারবিরোধী এক সেমিনারে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অফিস অব প্রসিকিউটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেইনিং (অপড্যাট), দ্য অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেটিভ ট্রেইনিং আসিস্ট্যান্ট (ইসিট্যাপ) এবং রিজিওনাল সিকিউরিটি ওফিস-এর ওভার্সিস ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন (ওসিআই) শাখা যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সহযোগিতায় এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, তার মাতামহ (মায়ের বাবা) মানবপাচারের স্বীকার হয়েছিলেন। ১৯শতকে মিশ্রজাতীর শিশু হিসাবে তিনি শিনেকক ইন্ডিয়ান গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। এটি নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের পূর্বদিকের একটি ইন্ডিয়ান গোত্র। তাকে শিশু অবস্থায় একটি শ্বেতাঙ্গ পরিবারে চুক্তিভিত্তিক দাস হিসাবে দিয়ে দেওয়া হয়, যেখানে তিনি প্রাপ্ত বয়স্ক অবস্থায় মুক্তি পাওয়ার আগে পর্যন্ত অনেক বছর ধরে পরিচ্ছন্নতা কর্মী এবং গৃহ পরিচারিকা হিসেবে কাজ করেন।
মানবপাচারকে বিশ্বব্যাপী একটি ভয়াবহ সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আধুনিক যুগের এই ভয়াবহ সমস্যা দূরীকরণে বাংলাদেশের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তার দেশ।
তিনি বলেন, ১৫০ বছরেরও বেশী আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দাসত্ব দূর করতে একটি ভয়ঙ্কর গৃহযুদ্ধ সংগঠিত হয়, কিন্তু আজও শ্রমিক পাচার, যৌনতার উদ্দেশ্যে মানব পাচার, ভিক্ষুক পাচার, শিশু যোদ্ধা ও অন্যান্য নিগৃহীত শ্রমের মাধ্যমে দাসত্ব চলছে।
বার্নিকাট বলেন, বহুজাতিক অপরাধ যেমন, সুসংগঠিত অপরাধ, মাদক পাচার ও অবৈধ অস্ত্র বিক্রির মতই কোন দেশ মানবপাচার রোধ একা বন্ধ করতে পারবে না। বিভিন্ন দেশের অপরাধীরা যেভাবে অপরাধ করার জন্য একসাথে কাজ করে, আমাদেরকেও একসাথে কাজ করতে হবে এবং বহুজাতিক অপরাধ প্রতিরোধে সহযোগী হিসেবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, এই অপরাধীদের বিচার করতে এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশের মত দেশ, যারা প্রাথমিকভাবে মানবপাচারের ভুক্তভোগী এবং যুক্তরাষ্ট্রের মত দেশ, যারা উৎস, পথ এবং গন্তব্য দেশ – তাদেরকে অবশ্যই একসাথে কাজ করতে হবে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, গত এক দশকে আমরা একটি শক্তিশালি বার্তা শিখেছি। তা হলো- “সমগ্র গ্রাম” দৃষ্টিভঙ্গি। আমাদের উপলব্ধি হচ্ছে, সব সমাজকেই পাচার রোধে, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা করতে এবং পাচারকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি সংস্থাগুলো মানবাপাচার রোধে একসাথে কাজ করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আইনজীবীদের সাথেও কাজ করে।
মানবপাচার রোধে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা সমাজে এই আতঙ্ক রোধ এবং জনগণকে পাচারের ভুক্তভোগী হওয়াদের শনাক্ত করতে ও উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সাথে তথ্য বিনিময় করতে সাহায্য করবে বলেও মন্তব্য করেন বার্নিকাট।
তিনি বলেন, ভুক্তভোগীদের অধিকার ও সাহায্য নিশ্চিতকরণের জন্য শক্তিশালী উপদেষ্টা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও ভুক্তভোগীদের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এনজিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এই সংস্থাগুলো ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনীয় মনস্তাত্বিক ও মানসিক সহায়তা, সুরক্ষা, তাদের সুস্থ হওয়া ও নিরাপদ আবাসস্থল প্রদান করতে পারে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, এই সেমিনারটি আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানাবপাচারবিরোধী যে অনুষ্ঠানগুলো আয়োজন করতে যাচ্ছে তারই প্রথম উদ্যোগ।
কেবি





