৬ ডিসেম্বর ১৯৭১। আজকের এইদিনে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় ভারত।বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ায় ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে পাকিস্তান। ভারতে মার্কিন অর্থনৈতিক সাহায্য বন্ধ হয়ে যায়। উত্তর ভিয়েতনামে যুদ্ধরত দক্ষিণ চীন সাগরে অবস্থিত মার্কিন ৭ম নৌবহরকে বঙ্গোপসাগরের দিকে যাত্রার নির্দেশ দেয়া হয়। ততক্ষণে পাকিস্তানি হানাদার বাহীনি এ দেশ থেকে পলায়ন শুরু করে। এর মাধ্যমে একাত্তরের এইদিনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য কূটনৈতিক সাফল্য আসে।

এদিকে সেদিন পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও মুক্ত করে বীরগঞ্জ ও খানসামার পাক অবস্থানের দিকে এগিয়ে চলছিল বাংলার দামাল ছেলেরা। লাকসাম, আখাউড়া, চৌদ্দগ্রাম, হিলিতে মুক্তিবাহিনী দৃঢ় অবস্থান নেয়। পাকিস্তানি বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াইয়ের সঙ্গে টিকতে না পেরে পিছু হটে বিকল্প অবস্থান নেয়। এরপর রাতে আখাউড়া ও সিলেটের শমসের নগর বাংলার অধিকারে আসে।

অন্যদিকে পশ্চিম সেক্টরে ৪-৫ ডিসেম্বর টানা দুইদিন যৌথবাহিনীর আক্রমণ প্রতিরোধ করার পর ৬ ডিসেম্বর পাক ৯ ডিভিশন জেনারেল আনসারি যৌথবাহিনীর প্রচণ্ড যুদ্ধের মুখে পড়ে যশোর ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। এ যুদ্ধে মিত্রবাহিনী ব্রি ঘোরিয়াও আহত হন। পাকিস্তানিরা পালায়ণ করলেও যৌথবাহিনী শহরে প্রবেশ করে ৭ ডিসেম্বর। এদিন যৌথবাহিনী পায়ে হেঁটে ঝিনাইদহ পৌঁছে এবং শহরটি মুক্ত করে বিজয় পতাকা উড়িয়ে উল্লাস করে।

এদিন পাকিস্তান বাহিনীর বিমান তৎপরতা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। যৌথ বাহিনীর বিমান হামলায় ঢাকা সেনানিবাস ও তেজগাঁও বিমানবন্দরের আকাশ থেকে বোমা হামলা চালানো হয়। বিনা প্রতিরোধে পাক, বাহিনীর স্থাপনার ওপর আঘাত হানে মিত্র বাহিনীর যুদ্ধ বিমান। যৌথ বাহিনী মুক্ত করে বাংলাদেশের আকাশ।

এমআর, জেএ