ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেছেন, এই মাত্র তিনি যেন তার নব্বই বছর বয়স্কা মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হলেন।

আজ (রোববার) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিপ্লমেটিক করেসপন্ডেন্ট’স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশের (ডিক্যাব) মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে মজিনা এমন মন্তব্য করেন।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারকে সরিয়ে নতুন কাউকে ক্ষমতায় বসানোর একটি পরিকল্পনা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে যাচ্ছে-এমন একটি গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে-এই ব্যাপারে আপনার মতামত কি-সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমনই এক প্রশ্নের জবাবে মজীনা বলেন এমন তথ্য শুনে যেন মনে হচ্ছে এইমাত্র ভূমিষ্ঠ হলাম।

যুক্তরাষ্ট্র কোন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়েই এ ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন মজীনা।

তবে এই মুহুর্তে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি পুরো বিশ্বের জন্য হুমকী হয়ে আছে বলেও মন্তব্য করেছেন ড্যান ডব্লিউ মজীনা।

বাংলাদেশের ৬৪ জেলা গতকাল (শনিবার) ভিজিট সম্পন্ন করেছেন এমন তথ্য দিয়ে মজীনা বলেন, তার জীবনের জন্য এটা একটা অত্যন্ত স্মরণীয় ঘটনা।

বাংলাদেশের সর্বত্র ছড়িয়ে আছ সৌন্দর্য যা দেশটিকে পর্যটন শিল্পের বিকাশে একটি আদর্শ স্থানে পরিণত করেছে এমন মন্তব্য করে মজীনা বলেন, অচিরেই একটি উদীয়মান বাঘে (এমারজিং টাইগার) পরিণত হবে এই দেশ।

তবে, নদী ভাঙ্গন, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, বিদ্যুত ঘাটতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা বাংলাদেশের উন্নতির পথে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করে মজীনা বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব।

বাংলাদেশ বিদ্যুত ঘাটতি মোকাবেলায় ভুটান ও নেপাল থেকে বিদ্যুত আমদানী করতে পারে বলেও পরামর্শ দেন তিনি। এই দুই দেশে বিপুল পরিমানে বাড়তি বিদ্যুত উৎপাদন হয় বলেও জানান মজীনা।

বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ১৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ দরকার-সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কতটা সহযোগিতা করতে পারবে-এমন এক প্রশ্নের জবাবে মজীনা বলেন, বাংলাদেশের জন্য অর্থ কোন সমস্যা নয়। কারণ বহু দেশ এদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। প্রাইভেট সেক্টরকে এক্ষেত্রে এগিয়ে আসারও আহবান জানান মজীনা।

একদিকে কোরবানীর ঈদের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের নতুন নির্বাচনের দাবিতে বড় ধরনের আন্দোলনের ঘোষণা, অন্যদিকে নির্বাচনের প্রশ্নই আসে না প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণায় দেশের পরিস্থিতি কোন দিকে যেতে পারে-জানতে চাইলে মজীনা বলেন, সংলাপের কোন বিকল্প নেই। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান করা হবে।

দেশের ৬৪ জেলা পরিদর্শনের সময় যেসব মাদ্রাসা ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন তাতে সেখানে উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠীর উত্থানের কোন আলামত দেখতে পেয়েছেন কীনা-জানতে চাইলে মজীনা বলেন, তাদের কথায় আমার মনে হয়েছে তারা অত্যন্ত শান্তিকামী এবং কোন ধরনের উগ্রবাদকে পছন্দ করেন না।

বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য যেই জিএসপি সুবিধা বন্ধ রাখা হয়েছে তা আবার চালু করবে কীনা-এমন প্রশ্নের জবাবে মজীনা বলেন, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থার উন্নয়ন, কাজের পরিবেশের মানোন্নয়নসহ গার্মেন্টস খাতে আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে যেসব শর্ত দেয়া হয়েছে তা পূরণ হলেই জিএসপি সুবিধা ফেরত দেয়া হবে।

মাত্র বছর খানেক আগে ঘটে যাওয়া রানা প্লাজায় ভয়াবহ ধ্বস ও প্রানহানীর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মজীনা বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই চাইবেন না এমন কোন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হোক।

ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, কেবি