বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য কমলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে যৌক্তিক হারে এর দাম কমেনি, বরং বেড়েছে । আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নামলেও স্থানীয় বাজারে একেবারেই কমেনি । সরকার নিজে থেকেই মূল্য ধরে রেখেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অব্যাহতভাবে কমলেও এর সুফল পাচ্ছেন না দেশের ভোক্তারা । অবশ্য জ্বালানি তেলে দেওয়া সরকারের ভর্তুকি নেমে এসেছে একেবারে শূন্যে। উল্টো সরকার এখন তেল বিক্রি করে মোটা অঙ্কের মুনাফা করছে।

এদিকে তেলের উৎপাদন সীমিত করতে কাতারের দোহায় বৈঠকে বসার কথা আন্তর্জাতিক তেল রপ্তানিকারকদের সংগঠন ওপেক ও এর বাইরের উত্তোলক দেশগুলোর ।

কিন্তু বৈঠকে সত্যিকারে তেল উৎপাদন কমবে কি না বা এর প্রভাব পুরোপুরি ইতিবাচক হবে কি না তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি এজেন্সি (আইইএ)।

সংস্থাটির এপ্রিল মাসের মাসিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তেলের সরবরাহ কমানোর চেয়ে উৎপাদক দেশগুলো যদি উৎপাদন সীমিত করার বিষয়ে একমতে পৌঁছে, তবে সরবরাহের ওপর তেমন একটা প্রভাব পড়বে না।

আর এমনটি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর খুব শিগগির বাড়বে না। ৫০ ডলারের মধ্যেই ঘুরপাক খেতে পারে।

এর আগেও সৌদি আরব, রাশিয়া ও কাতার তেলের উৎপাদন সীমিত করার ব্যাপারে একমতে পৌঁছে। কিন্তু তার প্রভাব বাজারে লক্ষ্য করা যায়নি। বাজার পড়ছিল তো পড়ছিলই।

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার তুলনায় তেলের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় গত ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে পণ্যটির দাম কমতে থাকে। ওই সময় এক ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রি হয়েছে ১১৭ ডলার।

এরপরই নড়েচড়ে বসতে শুরু করেছে এর উৎপাদক দেশগুলো।

তেলসমৃদ্ধ সৌদি আবর ও রাশিয়ার কথা উল্লেখ করে আইইএ বলেছেন, দেশটিতে রেকর্ড পরিমাণ তেল রয়েছে। তাছাড়া ইরানও তেলের উৎপাদন কমাবে না বলে জানিয়েছে।

দেশটি বলেছে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে যে ক্ষতি হয়েছে তা না উঠানো পর্যন্ত তারা উৎপাদন বাড়াবে।

সুতরাং দোহার এই বৈঠক খুব একটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে না আইইএ।

অর্থনীতিবিদিরা বলছেন, তেলের দাম কমালে সার্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ায় উৎপাদনকারী দেশগুলো সমস্যায় পড়লেও বাংলাদেশের মতো আমদানিকারক দেশগুলো স্বস্তিতেই আছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) গবেষক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, যদিও গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অব্যাহতভাবে কমতে থাকলেও বাংলাদেশে কমানো হয়নি। ঘোষণা এসেছে সাম্প্রতিক সময়ে। এক্ষেত্রে বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য অবশ্যই সরকারকে দু’এক মাস অপেক্ষা করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘দরপতনের সবচে বড় কারণ হচ্ছে বাজারে তেলের অতিরিক্ত সরবরাহ। এই মুহূর্তে বাজারে তেলের প্রচুর যোগান রয়েছে। আমেরিকার শেল অয়েলের উৎপাদন বৃদ্ধি যেমন এর একটি কারণ আবার সৌদি আরবসহ ওপেকভুক্ত দেশগুলো উৎপাদন কমায়নি’।

দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করে কমানোর পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। একই সঙ্গে তারা টাকার সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের সমন্বয় করতে বলেছিলেন। বিশ্বব্যাংক থেকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ পরামর্শ দেওয়া হয়।

সর্বশেষ ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয় যখন বিশ্ব বাজারে ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ১১০ ডলার। গত দেড় বছরে এই দর কমতে কমতে ২৬ ডলারে এসে ঠেকে।

এমবি