আজ ৭০তম নাগাসাকি দিবস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে ১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট জাপানের নাগাসাকি শহরে ফেলা হয় পরমাণু বোমা ফ্যাটম্যান। ফ্যাটম্যান নামের নিউক্লিয় বোমার বিস্ফোরণের মর্মান্তিক ঘটনা সারা বিশ্বকে হতবাক করে দেয়।
আণবিক বোমার ভয়াবহ তেজস্বক্রিয়তায় মারা যায় প্রায় ৮০ হাজার জাপানি। কেন চালানো হল এই হামলা ?
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানের আত্মসমর্পণের আহ্বানে জাপান সাড়া না দেওয়ায় তাঁর নির্দেশেই ঠান্ডা মাথায় হিরোশিমায় চালানো হয় নারকীয় এই হামলা। এর উদ্দেশ্যে ছিল দু'টি।
এক হল জাপানিদের জব্দ করা, আরেক হল যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে জাপানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা।
ওই দিন তিনিয়ন দ্বীপ থেকে বি-২০ নামে একটি প্লেন বোমাটি নিয়ে নাগাসাকির উদ্দেশে রওনা হয়।

এ বোমাটির নাম দেয়া হয়েছিল ফ্যাটম্যান। বোমাটি ছিল গোলাকার প্লুটোনাম মিসাইল, যা লম্বায় ছিল ৪ মিটার এবং ব্যাস ছিল ২ মিটার।
নাগাসাকি শহরে ৯ আগস্ট বেলা ১১টা ২ মিনিটে বোমাটি মাটি থেকে ৫০০ মিটার উপরে বিস্ফোরিত হয়।

নিমেষে ঝরে গিয়েছিল প্রায় ৮০,০০০ প্রাণ। আহত হয় ৭৪,৯০৯ জন। আর এর জন্য ভোগান্তির শিকার হয় প্রায় ১,২০,৮২০ জন।
শুধু তাই নয় এর তিন দিন আগে (৬ আগস্ট) জাপানের রাজধানী টোকিও থেকে ৫০০ মাইল দূরের হিরোশিমায় বিশাল আকৃতির বি-২৯ ইনোলা গে বিমান লিটল বয় নামে একটি ইউরেনিয়াম পারমাণবিক বোমা নিয়ে হিরোশিমার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। বোমাটি লম্বায় ছিল ৩ মিটার এবং ব্যাস ছিল ৬০ মিটার।

ওই দিন সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে প্লেন থেকে বোমাটি নিচের দিকে নিক্ষেপ করা হলে হিরোশিমা শহরের মাটি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার ওপরে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের মুহূর্তকালের মধ্যে সব দৃশ্যপট পাল্টে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল শহরটি।
সেদিন প্রায় ১৪০,০০০ লোক নিহত হয়েছিলেন। আর তার প্রায় সমান সংখ্যক মানুষ অগ্নিদগ্ধ কিংবা আহত হয়ে পরে পারমাণবিক তেজষ্ক্রিয়তায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেছিলেন।
আণবিক বোমা হামলার এত বছর পরও শহরে জন্ম নিচ্ছে বিকলাংগ শিশু, ক্যনসারসহ দুরারোগ্য ব্যধিতে ভুগছে বহু মানুষ।
জানা যায়, পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয় ১৯৪৫ সালের ১৬ জুলাই। পরে ২৫ জুলাই জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহরে এটি ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের আলোকেই চালানো হয় এ হামলা।
আণবিক বোমা জাতির জন্য অভিশাপ। জাপানের হিরোশিমা-নাগাসাকির এই ধ্বংসযজ্ঞ বিশ্ব ইতিহাসে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।

হিরোশিমা-নাগাসাকি দিবস এলে প্রতিবছর জাপানিরা নানা উপাসনায় শামিল হয়। প্রদীপ জ্বালিয়ে তারা মৃত্যুবরণকারীদের পারলৌকিক সদগতি কামনা করে। পঙ্গুত্ব বরণকারীদের জানায় সমবেদনা।
এ দিবস এলেই তাই পৃথিবীর শান্তিকামী মানুষের প্রত্যাশা আর নয় যুদ্ধের নামে মারণাস্ত্রের ঝনঝনানি আর নয় কোনও ঠান্ডা মাথার হত্যাযজ্ঞ।
যদিও পরিহাস এটাই যে , এখনও যখন যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে কোনও আলোচনা হয়, তখন মনে করা হয়, আগামী বিশ্বযুদ্ধ হবে আণবিক যুদ্ধ। যদিও সেই যুদ্ধের বিপদ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল সব পক্ষই।
হিরোশিমা-নাগাসাকির অভিজ্ঞতার আলোকে পৃথিবী থেকে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা স্থায়ীভাবে বন্ধ হোক- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
নিশ্চিত হোক বারুদের গন্ধমুক্ত সুন্দর পৃথিবী, যেখানে নতুন প্রজন্মের জন্য থাকবে নিশ্চিত নিঃশ্বাস এবং সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার অধিকার।
এমকে





