প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়েছিল এক বসনীয় সার্ব কিশোরের কারণে। প্রতিবেশী দেশ অস্ট্রিয়ার আর্চডিউক ও তার স্ত্রীকে গুলি করে হত্যা করে ওই কিশোর। আর এই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়েই সূচনা ঘটে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের। অস্ট্রিয়ার ডিউক ও তার স্ত্রীকে গুলি করে হত্যার শততম বার্ষিক আজ শনিবার। খবর বিবিসি'র।  

আজকের এই দিনটিকে গভীরভাবে স্মরণ করছেন ইউরোপের মুসলিম দেশ বসনিয়া হার্জেগোভিনিয়ার অধিবাসীরা। সেই কালো দিনের উত্তরাধিকার এখনো বলকান অঞ্চলের মানুষকে গভীরভাবে বিভক্ত করে রেখেছে।

১৯১৪ সালের ২৮ জুনের ওই হত্যাকাণ্ড অনেক ঘটনার জন্ম দেয় এবং ইউরোপের বৃহৎ শক্তিগুলো চার বছরব্যাপী নজিরবিহীন সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে, যা আমরা প্রথম বিশ্বযুদ্ধ হিসেবে জানি।

অনেক সাবেক শত্রু দেশ বৃহস্পতিবার বেলজিয়ামের ইপ্রেসে ইইউ শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ওই দিনটির শতবর্ষ পূর্তি পালন করে। ইপ্রেসে জার্মান বাহিনী প্রথমবারের মতো মাস্টার্ড গ্যাস ব্যবহার করেছিল।

এই দিবসটি পালনের ক্ষেত্রে বলকান অঞ্চলে ব্যাপক মতপার্থক্যের কারণে বসনিয়ার রাজধানী সারায়েভোতে হত্যাকাণ্ডের স্থলে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের আগমন অসম্ভব করে তুলেছে। এ অঞ্চলে বিংশ শতাব্দীর ইতিহাসের ব্যাখ্যা নিয়ে ব্যাপক মতভেদ রয়েছে।

এ ঘটনার ক্ষেত্রে বিশেষ বিভাজন সৃষ্টিকারী ব্যক্তি হলেন আর্চডিউকের হত্যাকারী ১৯ বছর বয়সী সার্ব জাতীয়তাবাদী গাভরিলো প্রিন্সিপ। বসনিয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠী প্রিন্সিপকে একজন সন্ত্রাসবাদী হিসেবে দেখে যার কারণে বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছিলো।

অপরপক্ষে সার্বরা তাকে একজন বীর হিসেবেই দেখে থাকে, যিনি অস্ট্রিয়ান-হাঙ্গেরিয়ান দখলদারদের হাত থেকে স্লাভদের মুক্ত করতে চেয়েছিলেন। এ কারণে তাকে নিয়ে তার নিষ্ঠুরতার পরিবর্তে বীরত্বেরই প্রচারণা করে থাকে সার্বরা।

সারায়েভোতে যে মূল অনুষ্ঠান হচ্ছে, বসনিয়ার সার্ব নেতারা তাকে যোগ দিতে অস্বীকার করেছেন। তারা মনে করেন না যে, সার্ব জাতীয়তাবাদের কারণেই প্রথম বিশ্বযুদ্ধ বেধেছিলো। সার্বরা বিকেলে পৃথক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। তারা সারায়েভোর সার্ব অঞ্চলে এবং পূর্ব বসনিয়া ও বেলগ্রেডে প্রিন্সিপের স্মারক স্তম্ভ উদ্বোধন করবেন।

প্রিন্সিপের সেদিনের সেই হত্যাকাণ্ডের কারণে বিশ্বের তৎকালীন জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক এক নজিরবিহীন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিলো। গোটা বিশ্বজুড়ে সৃষ্টি হয়েছিল এক মহা বিভীষিকা।

৫২ মাসের সেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ১ কোটি লোক নিহত ও ২ কোটি আহত ও পঙ্গু হয়ে পড়ে। এ ছাড়া আরো কোটি কোটি মানুষ দখলদারিত্বের অধীনে রোগ-ব্যাধি ও ক্ষুধায় নিদারুণ দুর্ভোগে নিপতিত হয়। দেশত্যাগে বাধ্য হয় অসংখ্য মানুষ। সূত্র: বিবিসি ও বাসস

ঢাকা, ২৮ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) //এমএ