ময়মনসিংহের গৌরীপুরে চলছে সরকারদলীয় এক এমপির শাসন। নানা কারণে তিনি আলোচিত সমালোচিত এবং বিতর্কিত।

গত প্রায় ২ যুগের নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার তিনি খেয়ে ফেলেছেন তার সন্ত্রাসী রাম রাজত্বে। খোদ দলীয় হাই কমান্ডও তাকে নিয়ে বিব্রত। দলের জন্য গলার কাটা হয়ে উঠা এই এমপির নাম ক্যাপ্টেন (অবঃ) মজিবুর রহমান ফকির।

৫ জানুয়ারীর বহুল বিতর্কিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই রীতিমত দানবের ভূমিকায় আবির্ভূত হন এমপি ফকির। তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় কখনো নিজ দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মাথা ন্যাড়া করে দেয়া, প্রকাশ্যে দিগম্বর করা, নাকে খত দেয়া, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজীসহ নানা অভিযোগের পাহাড়ে চাপা পড়েছেন এই সাংসদ। তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই তিনি মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ায় গৌরীপুরবাসী টিপ্পনী কেটে তার নাম দিয়েছেন “ন্যাড়া ফকির”।

৫ জানুয়ারী নির্বাচনের আগেই শুরু হয় তার এই ন্যাড়া তত্ত¡। শিকার হন স্থানীয় যুবলীগ নেতা কামরুজ্জামান। পরে কমপক্ষে ৭/৮ জন তার এ তত্তে¡র শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।

উপজেলায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে ৩০-৩৫ জন যুবককে কিনে দেন ৮০ সিসি মোটরসাইকেল। পরিণত হয় এক ক্যাডার বাহিনীর। যার নাম এইট্টি বাহিনী। এ বাহিনীর কাজ হলো কেউ সাংসদের বিরুদ্ধে কথা বললে ও সন্ত্রাসী-চাদাবাজীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই তাকে ধরে এনে বেদম মারপিট করা।

আর এ এইট্টি বাহিনীর সবাই আওয়ামীলীগ-যুবলীগের পদধারী ক্যাডার। যারা সবসময় সাংসদের সন্তুষ্টির পথ খুঁজে বেড়ান।

গৌরপুরবাসীর মুখে মুখে এখন এই বাহিনীর নাম। শক্তিশালী এ ক্যাডারবাহিনীর কমান্ডার ভিপি শহীদ। তার নেতৃতে অসংখ্য মানুষকে করেছে লাঞ্ছিত, নির্যাতিত। রেহায় পায়নি স্থানীয় অচিন্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই। লাঞ্ছনার শিকার হন এ বাহিনীর।

কয়েকদিন আগেই ঘটেছে এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনা। ছোট্ট ছেলে এসেছে মা-বাবার হাত ধরে সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে সাংসদ ফকিরের বিরুদ্ধে বিচার দিতে। তিন মাস এ স্কুল থেকে ও স্কুল ঘুরেও ভর্তি হতে পারে না কোন স্কুলেই। এ সাংসদের কথায় দেওয়া হয় স্কুল থেকে টিসি, তার নির্দেশ ছাড়া কোন স্কুলেও ভর্তি হতে পারছিল না ছোট্ট শিশু রাফিদ।

রাফিদের বাবা উপজেলার ধরুয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এ একে এম মাজহারুল আনোয়ার এ সাংসদের অনুমতি ছাড়াই বদলি হওয়ার কারণে গত ৫ জুন বিকালে শ্যামগঞ্জ বাজার থেকে এইট্টি বাহিনীর ক্যাডাররা ধরে নিয়ে সেবালয়ের বাথরুমে আটকে রাখেন ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন। পরে সন্ধ্যার পর শিক্ষক সমিতির কার্যালয়ে তাকে বেদম মারপিট করা হয় খোদ সাংসদের নেতৃত্বেই।

এ ঘটনারই বলির পাঠা হতে হয় শিশু সন্তান রাফিদকে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সংবাদ প্রচার হওয়ার পর তোলপাড় সৃষ্টি হলে গত ১৬ আগষ্ট প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে রাফিদ আবার ফিরে পায় তার পুরনো স্কুল ও তার বাবা সুযোগ পায় আগের কর্মস্থলে যোগদানের।

কাউকে সন্দেহ হলেই করেন যার তার মোবাইল ট্রেকিং । তার বিরুদ্ধে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন জনের মোবাইল ট্রেকিং ও ফোনে হুমকী দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

নিজেকে সার্বক্ষণিক বেষ্টিত করে রাখতে তৈরী করেছেন নিজস্ব পুলিশ বাহিনী। স্থানীয়রা এ নাম দিয়েছে মোর‌্যাল পুলিশ বাহিনী।

এ বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ১০-১৫ জন। এ বাহিনীর ওসি হিসাবে পরিচিত সাংসদের খুব ঘনিষ্ঠতম ব্যক্তি সোমনাথ সাহা।

এসব বাহিনী দিয়ে শাসন করে যাচ্ছেন গৌরীপুর উপজেলা। গড়ে তোলেছেন একনায়কতন্ত্র শাসন। উপজেলায় নজরদারি রাখতে ৮ টি পয়েন্টে বসিয়েছেন সিসি ক্যামেরা। খুলেছেন নিয়ন্ত্রণ কক্ষও।

তার নির্যাতিত একনায়কতন্ত্র শাসনে অতিষ্ঠ ভীত সন্ত্রস্ত সাধারণ মানুষ। উদ্বেগ উৎকন্ঠায় কাটে তাদের দিন যাপন। এসব সন্ত্রাস নৈরাজ্য বন্ধে উপজেলাবাসী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সরকারের নিকট দাবি জানান।

এসএইচ