সব মানুষই কোন না কোন ধর্মের অধীনে থাকে। যে ব্যক্তি কোন ধর্মের বাঁধনে নিজেকে জড়াতে চায় না, ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে থাকতে চায়-সেও প্রকৃতপক্ষে একটি নীতিতে বিশ্বাস করে। আর সেটাকেই সে ধর্মের মতো লালন করে। প্রত্যেকেরই ধর্ম পালন করা বা না করার অধিকার আছে। কিন্তু কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অধিকার কারও নেই।

ডাক-টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর ইসলাম ধর্মের অন্যতম স্তম্ভ পবিত্র হজ্জ্ব, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স:) ও তাবলীগ জামায়াতকে নিয়ে কটাক্ষ করার পর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কোটি কোটি মানুষ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

কিন্তু অত্যন্ত বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করলাম দল-মত-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে কোন মানুষই লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্যকে সমর্থন করেনি। সবাই তাকে নানাভাবে ধিক্কার দিয়েছেন। এমন শত শত মন্তব্য পড়ে মনে হচ্ছে মানুষ ধর্মীয় স্বাধীনতা চায়, কিন্তু ধর্মের ওপর আঘাত চায় না।

টাইম নিউজের পাঠকদের জন্য ফেসবুক থেকে বাছাই করা কিছু মন্তব্য হুবহু তুলে ধরলাম:

মশিউর রহমান

ইসলামের ৫টি স্তম্ভের অন্যতম একটি হজ্ব এবং প্রিয় নবী হযরত মু্হামমদ (সাঃ) কে নিয়ে জনৈক মন্ত্রীর মুরতাদী, কাফেরী কটুক্তি নিয়ে সকল ধর্মপ্রান মুসলমানরা, এমনকি অন্য ধর্মেরও কিছু লোক বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিবাদ করে যাচ্ছেন; কিন্তু তথাকথিত প্র্রগতিশীলতার লেবাসধারী (যারা সবকিছুতেই সোচ্চার থাকেন) লোকজন এই বিষয়ে নীরব। তারা ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে কি ইসলাম বিরোধীতাকেই বুঝান?

অন্য ধর্মের উপর কিছু হলে তখন কলমটা বেশ সক্রিয় হয়ে যায়, তখন জঙ্গী জঙ্গী বলতে বলতে ফেনা তুলেন...অসম্প্রাদিয়কতার শ্লোগান দেন; আবার মরার আগে আগে ঠিকই প্রগতিশীলতার পোষাক পরিবর্তন করে (যেটা এতদিন ধান্দাবাজির জন্য মুখোশ পরেছিলেন) অতি মাত্রায় ধার্মিক হিসেবে প্রদর্শন করার চেষ্টা করেন।

এইসব দ্বিমুখী ভন্ডদের কারনেই পৃথিবীতে কিছু কিছু সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটে, এরাই আমাদের শান্তির ধর্ম ইসলামকে জঙ্গীবাদ, মৌলবাদের তকমা লাগানোকে ফ্যাশন মনে করে। আসুন এইসব দ্বিমুখী ভন্ডদেরকে বর্জন করে আমরা যে যার যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করি, কোন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত নয়। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা মানে ব্যক্তি স্বাধীনতা নয়, আপনার বিশ্বাস আপনি দরজা বন্ধ করে পালন করেন, তাতে আমার কি?

সিরাজুল ইসলাম

মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকিকে মুরতাদ ঘোষণা করেছে হেফাজত.....একইসঙ্গে ২ দিনের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে তারা। .....আবার কি বড় কোনো আন্দোলন হতে যাচ্ছে তাহলে?

মজিবুর রহমান মঞ্জু

হজ্ব রত লক্ষ লক্ষ মানুষ মক্কা-মদীনায় খাওয়া-দাওয়া আর কোটি টাকা খরছ করেন (টাকাটা অবশ্য সবার ব্যক্তিগত)। তাদের কোন প্রডাকশন নাই, শুধু রিডাকশন আছে ....-আ,ল, সিদ্দিকী। জনাব (আ,ল, সিদ্দিকী) আপনি সরকারী টাকা ব্যয় করে যুক্তরাষ্টে্র গিয়ে যা বললেন-তাতে নিজের মন্ত্রীত্ব হারালেন, আজীবনের জন্য কোটি কোটি মানুষের ঘৃণা ও বদ্ দোয়া কামাই করলেন, নিজ জীবন ও সম্পদ কে ঝুঁকির মধ্যে ফেললেন। হয়তো আমৃত্যু আপনাকে যাযাবরের জীবন কাটাতে হবে। দয়া করে বলবেন কি! আপনার এ অর্জন কে কি বলা যায়? প্রডাকশন না রিডাকশন?

শামসুদ্দিন হিরা

ভাবতে ভালই লাগছে, টেলিভিশন টকশোর নতুন নামকরন করলেন,"টকমারানী"। আর আমি সেইটার খাদেম।

প্রভাষ আমীন

লতিফ সিদ্দিকীকে বদ্ধ উন্মাদ বলায় কাল অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন। কেউ কেউ বলছেন, আপনি কি ডাক্তার, যে মানুষের মানসিক সুস্থতার সার্টিফিকেট দিচ্ছেন। প্রতিক্রিয়ায় আমি একটু কনফিউজড হয়ে গিয়েছিলাম।

সকালে উঠে পত্রিকা পড়ে আমার সকল দ্বিধা কেটে গেছে। প্রথম আলো এ ব্যাপারে ক্যাবিনেটে লতিফ সিদ্দিকীর সহকর্মী আসাদুজ্জামান নূরের প্রতিক্রিয়া নিয়েছে। নূর বলেছেন, 'টেলিভিশন চ্যানেলে আমি তাঁর বক্তব্য শুনেছি। এ ধরনের বক্তব্য অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। সুস্থ মস্তিষ্কের কোনো মানুষের পক্ষে এ ধরনের মন্তব্য করা সম্ভব নয়।’

যাক নিশ্চিন্ত হলাম। যার মস্তিষ্ক সুস্থ নয়, তাকে মনে হয় উন্মাদ বলাই যায়। অনেকে সাইবার আইনের কথা মনে করিয়ে আমাকে সতর্ক করেছেন। মন্ত্রী যেটা বলতে পারেন, আশা করি আমিও সেটা বলতে পারি।

এবি মালেক

সংযুক্ত আরব আমিরাত সৌদি আরবের থেকে বেশি ধনী দেশ। শুধু তাই নয় আইএমএফ এর জরিপ মতে বিশ্বের তৃতীয় ধনী দেশ আরব আমিরাত। টকমারানিরা কি আলোচকদের কাছে জিজ্ঞেস করবেন- আরব আমিরাতে কেউ হজ্ব করতে যায় না, তারপরও কি ভাবে এই আরব ডাকাতরা এতো ধনী হলো?

মামুন মাহফুজ

মন্ত্রীরা আলোচিত হবার রাস্তা খুঁজে পেয়েছেন....কিন্তু অত্যন্ত সস্তামানের এই রাস্তা বেশিক্ষণ টিকবে না। প্রথমে ধরুন নৌ পরিবহণমন্ত্রী শাজাহান খান; তিনি বললেন গরু ছাগল চিনতে পারলেই তাকে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া উচিত।...

বেশ আলোচিত হয়ে গেলেন....স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মখা বললো ধাক্কা দিয়া নয়তলা ভবন ফালাইয়া দিছে বিরোধীদলের নেতাকর্মীরা। তিনিও বিখ্যাত হয়ে গেলেন।...

ফটকা আর রাবিশ বলে বিখ্যাত হয়ে গেলেন আবুল মাল আব্দুল মুহিত। এখন তাকে যে ক’জন অর্থমন্ত্রী হিসেবে চেনে তারাও ব্রেকেডে ‘রাবিশ’ বলেই জানেন।...

সম্প্রতি খবিশ বলে আর মাতাল গান পরিবেশন করে বিখ্যাত হলেন নামটা ভুলে গেছি খবিশ মন্ত্রী ...কী যেন নাম?...যাকগে...

এরপর সদা সফেদ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদও পরীক্ষার আগে ছাত্রছাত্রীদের হাতে প্রশ্নপত্র পৌঁছে দিয়ে বিশেষ খ্যাতির পাশাপাশি এবার ঢাবিতে তার এ প্লাস পাওয়া সোনার ছেলেরা ফেল মারায় তিনি বললেন ঢাবির পরীক্ষা পদ্ধতিতে ত্রুটি আছে। এই কথায় ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে গেলেন শিক্ষামন্ত্রী।...

হঠাৎ করে লতিফ সিদ্দিকিরও খুব শখ হলো....বাংলাদেশে সাহস না হওয়ায় নিউইয়র্কে গিয়ে তিনি তার মনের কথা ফাঁস করলেন...কিন্তু মুসলমান অধ্যুষিত এই বাংলাদেশের মানুষ তার এই কথা কি মেনে নেবে? যদিও তিনি সস্তা আলোচনার পাত্র হতে চেয়ে এসব উল্টা পাল্টা বক্তব্যকে বেছে নিয়েছেন। তবে মনে হয় না তার শেষরক্ষা হবে। কারণ এর আগে তার চেয়ে বড় বড় ক্ষমতার মানুষেরা ইসলামের অবমাননা করে টিকতে পারেনি।

সালমান রুশদি, তসলিমা নাসরিন, স্যাম বাসিলির পরিণতি আমরা দেখেছি। ...অতিএব লতিফি সিদ্দিকী যতোই বাঘা বাঘা ডায়লগ দেননা কেন এবার এমন একটা ঢিলই তিনি ছুঁড়লেন জানি না তার কী দশা হয়। পুরো মুসলিম বিশ্ব হয়তো তার জন্য, তার মাথার জন্য এনাম ঘোষণা করবে....কী হবে তার? সালমান রুশদির মাথার মূল্য যেভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যদি লতিফের মাথার মূল্যও সেভাবে নির্ধারণ হয়? ধর্মীয় উগ্রতাকে উস্কানি দিয়ে দেশকে জঙ্গীবাদের আকর প্রমাণের চেষ্টা যারা করছেন তারা হয়তো এবার নিজেদের বিষে নিজেরাই মরবেন।

সীমান্ত বাধন চৌধুরী

উনি তসলিমা নাসরিন এর কাতারের মানুষ । তসলিমা কে যে কারনে দেশ ত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল, উনাকেও তাই করা উচিৎ । তসলিমা কে যদি এমন শাস্তি দেয়া হয় তবে তাকে নয় কেন?

মাকসুদ উন নবী

লতিফ সিদ্দিকী, মহসিন আলী, মখা আলমগীর, হাছান মাহমুদ, কামরুল ইসলাম......... এই লোকগুলান খুব ভালো! জাতির মেধাবী সন্তানস্!

শঙ্কর মিত্র

১.ধর্মটা বিশ্বাসের ব্যাপার। আর বিশ্বাসটা ব্যক্তিগত। একজন মানুষ মন্দিরে যাবে না মসজিদে যাবে সেটা তার সিদ্ধান্ত। সেখানে আপনি বাধা দিতে পারেন না। আপনার পছন্দ না হলে আপনি যাবেন না। মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে যা বলেছেন তা শুধু অপরাধই নয়,ঘৃণ্য অপরাধ। রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদে থেকে তিনি এটা বলতে পারেন না। এ জন্য তাকে শুধু মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ ই নয়,প্রচলিত আইনে তার বিচার হতে হবে।

২.ফেবুতেই দেখলাম মজা করে(কষ্টে) একজন কুইজ লিখেছেন,বলুন তো দেখি দুর্গা পূজা আসছে কেমন করে বুঝবেন? উত্তর: যখন দেখবেন চারদিকে মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর হচ্ছে তখন বুঝবেন পূজা আসছে। আমার কাছেও তাই মনে হলো।একটা ধর্মের অনুসারিরা পূজা করেন। সেটা তার বিশ্বাস থেকে। কিন্তু আপনি যে ভাবে প্রতিমা ভেঙ্গে দিচ্ছেন সেটা কী কোনো ধর্মীয় কাজের মধ্যে পড়ে? মুর্তি ভাঙ্গা আর মন্দির ভাঙ্গার জন্য মনে রাখার মতো কাউকে কী শাস্তি দিয়েছেন? বিচার হয় বা হয়েছে? আমার মনে হয়,বাংলাদেশে গাছ কাটলে বিচার হয়,কিন্তু মন্দির পুড়ালে,মুর্তি ভাঙলে কোনো বিচার হয়না। প্রধানমন্ত্রীকে কুটুক্তি করায় সাত বছরের জেল হয়,কিন্তু প্রতিমা ভাঙলে তো কিছুই হয় না। কেনো বাপু!!!!

৩.ইনু সাহেব আর মেনন সাহেব এবার হজে গেছেন। আর এ নিয়ে দেখলাম তথাকথিত প্রগতিশীলরা প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে নিন্দায় ছি ছি করছেন। তারা যেনো মস্ত অপরাধ করে বসেছেন। কেনো? ইনু- মেননরা কি কখনো বলেছেন যে তারা হজে যাবেন না,ধর্মকর্ম করবেন না?তারা যে বিশ্বাস নিয়ে রাজনীতি করেন তাতে কোথাও কি বলা আছে ধর্মকর্ম করা যাবে না? আমারতো মনে হয় বকধার্মীকদের চেয়ে তারা উন্নত মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। জীবনের একটা প্রান্তে পৌঁছে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করছেন। এরশাদের মতো পাপিষ্ঠ ধর্মকর্ম করলে সেটা ধর্মের অবমাননাই হয়। চোর,লুচ্চা,বদমাইশ,রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনকারিরা ধর্মকর্ম করলে সেটাই বরং ধর্মের অবমাননা হয়। হজ,ধর্মকর্ম কী শুধু জামাতিরাই করবে? এ সুযোগ কেনো করে দিচ্ছেন তাদের?

কেবি