রাজধানীতে সিটিং সার্ভিসের নামে চলছে বাড়তি ভাড়া আদায়। ফিটনেস বিহীন এসব গাড়ীতে হাপ পাশ নাই, সিটিং সার্ভিস এইটুকু লিখা থাকলেই হয়।

এদিকে, রাস্তায় যাত্রীদের চাপ দেখলেই লোকাল সার্ভিসগুলোরও ভাড়া বেড়ে যায় দ্বিগুণ। হেলপারদের অশ্লীল বাক্য বিনিময় আর বাকবিতণ্ডা এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে।

যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, গুলিস্থান,শাহাবাগ, মানিকনগর ও মগবাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাগুরে দেখা গেল এসব চিত্র।

গুলিস্তান-কালিয়াকৈর, যাত্রাবাড়ী- মিরপুর, যাত্রাবাড়ী-গাজীপুর,সাভারসহ রাজধানীর বিভিন্নরুটে চালিত নামে-বেনামে পরিবহনের কিছু বাস কোন রকম অনুমোদন ছাড়াই সিটিং সার্ভিস হিসেবে চলাচল শুরু করেছে।

82402_1

১০ টাকার ভাড়া ২৫টাকা, ২৫ টাকার ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ টাকা। বাসের গায়ে লেখা হয়েছে ‘সিটিং সার্ভিস’।

অথচ সিটিংয়ের নামে প্রায় সব বাসেই দাঁড়িয়ে যাত্রী নেয়া হয়। টিকেট দেয়ার বালাই নেই। থামানো হয় ইচ্ছামতো। সব মিলিয়ে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের এ রকম কারসাজির কাছে যাত্রীরা অসহায়।

তারা বাধ্য হয়েই বাড়তি টাকা দিচ্ছেন। বাস্তবচিত্র হলো কোন গণপরিবহনের রুট পারমিটে সিটিং সার্ভিস করার অনুমোদন নেই।

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতারাতি সাধারণ বাসগুলো সিটিং সার্ভিস হিসেবে চালানো হচ্ছে। যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলছে, সিটিং সার্ভিসের নামে রাজধানীতে ৮৭ ভাগ পরিবহন যাত্রীদের থেকে বাড়তি অর্থ আদায় করছে।

সিটিং সার্ভিসের নামে রাজধানীজুড়েই চলছে এ রকম অরাজকতার আর প্রতারণা। ‘কম স্টপেজ’ বা ‘সিটিং সার্ভিস’ লিখে যে যার ইচ্ছামতো বাড়তি ভাড়া আদায় করছে। কারও কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। নেই জবাবদিহিতা।

Biluni-1469229475-2929e51_xlarge

নামমাত্র মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেই দায় সারতে চায় বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।

খোদ সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নিজেও সন্তুষ্ট নন এমন বাস্তবতায়। বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ বলছে, কেউ যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা করলে তাদের অভিযানের আওতায় আনা হবে। নেয়া হবে আইনানুগ ব্যবস্থা।

সরেজমিন দেখা গেছে, গুলিস্থানে 'শিকড় পরিবহন' ঠাসাঠাসি করে যাত্রী উঠালো, নিয়মিত ভাড়া ৫ টাকা। রাস্তায় যাত্রীর চাপ থাকায় হটাৎ করেই বাড়া বাড়িয়ে দিল হেলপার, বাসে উঠতেই হেলপার ১০ টাকা চাইলো ভাড়া বাবদ। শুরু হল বাকবিতণ্ডা। সম্মান বাঁচাতে গিয়ে দিতে হল পুরোটাই। এভাবেই চলছে, মানুষ লজ্জায় পড়ে অসহায়ত্বকে মেনে নিয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়েই গাড়ী থেকে নামতে হচ্ছে।

23529-sitingamar

এদিকে, পোস্তাগোলা ব্রিজ থেকে নতুন-বাজার রুটে চলা নতুন সার্ভিস রাইদা। সিটিং হিসেবে শুরু থেকেই বাসটি চলছে। এতে সর্বনিম্ন ভাড়া ধরা হয়েছে ১৫ টাকা।

অর্থাৎ মালিবাগ রেলগেট থেকে বাসাবো পর্যন্ত ২.৫ কি:মিটারের পথেও সমান টাকাই গুনতে হয় যাত্রীদের।

যেখানে মিনিবাসে প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৬০ পয়সা সরকারীভাবে নির্ধারণ করা আছে। সে হিসেবে ১৫ টাকায় অন্তত ১০ কিলোমিটার রাস্তা যাওয়া সম্ভব। এই পরিবহনে সর্বনিম্ন ভাড়া ৫ টাকারও বালাই নেই।

ভাড়া ডাকাতির আরেকটি সার্ভিসের নাম লাব্বায়েক পরিবহন। শুরু থেকেই এই পরিবহনটি যাত্রীদের পকেট কাটছে। যাত্রাবাড়ী থেকে গাবতলী ও সাভার পর্যন্ত এই পরিবহনটি চলাচল করে। তাদেরও সর্বনিম্ন ভাড়া ১৫ টাকা!

মগবাজার মোড়ে বাসের জন্য অপেক্ষারত এক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, যাবো বাংলামোটর, লাব্বায়েক/আয়াত পরিবহনের বাসে উঠলেই ১০ টাকা গুণতে হবে। ১ মাইল রাস্তায় ১০ টাকা করে ভাড়া আদায় করছে। কিছু বল্লেই বলে গাড়ী থেকে নেমে যান, তখন মানসম্মানের দিকে তাকিয়ে ১০ টাকা দিতে হয়।

যেখানে রিক্সা দিয়ে গেলে লাগে ১০ টাকা, সেখানে বাসে কিভাবে ১০ টাকা ভাড়া আদায় করে বুঝিনা ভাই। সবি যেন মগের মুল্লক। দেখারতো কেউ নেই।

লাব্বায়েক পরিবহনের ভাড়া নিয়ে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী রাজিন আহমেদ (ফখর) অভিযোগ করে বলেন, ভাই এইসব গাড়ীতে উঠে ছাত্র/ছাত্রীরা হাফ ভাড়া দিতে ছাইলে তারা গাড়ীতে লাগানো 'হাফ পাস নাই' লেখাটা পড়তে বলে। মনে হয় হেলপার আমারে পড়াচ্ছে। কি করমু আর ভাড়া দিতে হয়।

লাব্বায়েক পরিবহনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চালক জানালেন, বাড়তি ভাড়া নেয়ার অভিযোগ সত্য নয়। আমাদের সার্ভিস ভাল।

মতিঝিল থেকে মিরপুর রোডে নতুন সিটিং সার্ভিস ‘র‌্যাম্প পরিবহন’। এই গাড়িটির বিরুদ্ধেও বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ যাত্রীদের। ফার্মগেট থেকে মতিঝিলের ভাড়া নেয়া হচ্ছে ১৫ টাকা।

খিলক্ষেত থেকে নিউ মার্কেট পর্যন্ত উইনার ট্রান্সপোর্ট, দ্বিপ বাংলা পরিবহন সিটিং সার্ভিস হিসেবে জনপ্রতি ভাড়া আদায় করছে ৬০ টাকা।

সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ছাত্র/ছাত্রীদের থেকে হাপ ভাড়া নেয়া না হলে কঠোর ব্যাবস্থা গ্রহন করার নির্দেশ দিলেও মানছেনা বাসগুলো/মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ। এভাবেই নিরবে- নিবৃত্তে বাড়তি ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করছেন ছাত্র/ছাত্রীসহ সাধারণ যাত্রীরা।

এসএম