অনাবৃষ্টি, প্রচণ্ড খরা ও অসময়ে অতিবৃষ্টির কারণে লোকসান গুণছে পঞ্চগড়ের বাদাম চাষীরা। ফলন বিপর্যয় হওয়ায় পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে অনেক কৃষক। বাজারে বাদামের দাম বেশি হলেও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কৃষকরা।

বাদাম চাষীরা জানিয়েছেন, অন্যান্য ফসলের চেয়ে কম খরচ ও স্বল্প পরিশ্রমে বেশি মুনাফা হওয়ায় জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকরা বাদাম চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠে। কিন্তু প্রচন্ড তাপদাহ আর অনাবৃষ্টির কারণে এবার বাদামের ফলন উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।

প্রথম দিকে অনাবৃষ্টি ও খরায় পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বাদামের পরাগায়ন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। আবার বাদাম উত্তোলনের ঠিক আগ মুহুর্তে অতি বর্ষণের ফলে চাষীরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

কেউ কেউ বাড়তি খরচ করে বাদামে সেচ দিলেও কোন লাভ হয়নি। অপরদিকে বাদাম উত্তোলনের সময় অতিবৃষ্টি হওয়ায় বাদাম পঁচে নষ্ট হয়েছে। ফলে এবার বাদামের বাজার মূল্য ভালো হলেও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন বাদাম চাষীরা।

পঞ্চগড় জেলায় ৮ হাজার হেক্টরের অধিক পরিমাণ জমিতে বাদামের আবাদ করা হয়েছে। জেলার পাঁচ উপজেলাতেই বাদাম চাষ করা হলেও দেবীগঞ্জ ও বোদা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি পরিমাণ জমিতে বাদামের আবাদ করা হয়।

বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার বিস্তৃর্ণ এলাকায় অন্যান্য ফসলের সাথে ব্যাপক আকারে বাদামের আবাদ করেছেন স্থানীয় চাষীরা। প্রতিকূল আবহাওয়ার ফলে এবার বাদামের উৎপাদন কম হয়েছে। ফলে বীজ, কীটনাশক ও উৎপাদন খরচের টাকাই উঠছে না কৃষকের। এর ফলে চলতি মৌসুমে বাদাম চাষ গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে কৃষকের।

পঞ্চগড় দেবীগঞ্জ খোঁচাবাড়ী এলাকায় বাদাম চাষী আবুল কাশেম (৩৫) জানান, অন্যান্য বছরে বাদাম চাষে লাভবান হয়েছি। একারণে এবার দুই বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি। কিন্তু চলতি মৌসুমে বিঘা প্রতি মাত্র ৩ থেকে ৪ মণ বাদাম হয়েছে।

অন্যান্য বছরে প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৮ থেকে ৯ মণ বাদাম পাওয়া যেত। ফলে এবার বাদাম চাষে মূল পুঁজিও পাইনি। একই অবস্থা পামুলী ইউনিয়নের আব্দুর রাজ্জাক, সোলায়মান আলী ও রফিকুল ইসলামেরও।

বোদা উপজেলার মাড়েয়া এলাকার বাদাম চাষী নূর মোহাম্মদ (২৫) জানান, এবার ঋণ করে ৪ বিঘা বাদাম চাষ করে খরচটাই উঠাতে পারিনি। ঋণের টাকা শোধ করবো কিভাবে জানিনা।

বোদা উপজেলার বামনহাট এলাকার শরিফুল ইসলাম, মাঝগ্রামের বাবুল ইসলাম, পাঁচপীর এলাকার সফিউল জানান, বাদাম রোপণের শুরুতে অনাবৃষ্টির কারণে সেচে অতিরিক্ত টাকা খরচ হয়েছে। আবার উত্তোলনের আগে বাদাম ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত খরচ দিয়ে উত্তোলন করতে হয়েছে। বাদামে চাষে এবার আসলও লোকসান হয়েছে। পূঁজি হারিয়েছেন অনেকেই।

পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে তাপমাত্রা ফসলের সহনীয় মাত্রার চাইতে অধিক থাকায় বাদামের পরাগায়ণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আবার অতিবর্ষণে বাদাম পচে নষ্ট হয়েছে। এসব কারণে ফলন বিপর্যয়ের ফলে বাদাম চাষীদের লোকসান গুণতে হয়েছে।

ঢাকা, ১৬ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম), এআর