শিশু রাহফ তখনো সে মায়ের পেটে। তার দেশ সিরিয়ায় চলছে যুদ্ধ। বাবা মা ইউসুফ ও আনোয়ার তাই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেদের দেশ ছেড়ে তুরস্ক‚ গ্রিস‚ এবং ম্যাসিডোনিয়া হয়ে সার্বিয়ায় পৌছলেন। এদিকে রাহফও মায়ের পেট থেকে দুনিয়ায় পা রাখল।

বাস্তুচ্যুত এই দম্পতি তার মধ্যে সদ্য জন্ম নেওয়া শিশু রাহফ। তাদের ডুবে যেতে হল চরম হতাশায়। কারণ‚ তাঁদের চোখের সামনে বন্ধ সার্বিয়া-হাঙ্গেরি সীমান্ত। সিরিয়া থেকে সার্বিয়া‚ এই দীর্ঘ পথে তারা দু'জন থেকে বেড়ে হয়েছেন আড়াইজন। পথে‚ গ্রিসের সামোসা দ্বীপে আনওয়ারের কোলজুড়ে এসেছে ফুটফুটে কন্যাসন্তান রাহফ। কিন্তু তাকে তোয়ালেতে জড়িয়ে সার্বিয়া-হাঙ্গেরি সীমান্তে দিন গুনছে ইউসুফ-আনওয়ার।

দীর্ঘদিন ধরে সার্বিয়া হয়ে হাঙ্গেরিতে ঢোকে শরণার্থীরা। কিন্তু এ বার কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাঙ্গেরি। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দেশের দক্ষিণে সার্বিয়ার সঙ্গে সীমান্ত। জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে হাঙ্গেরির দক্ষিণ প্রান্তে দুটি কাউন্টিতে। ইতিমধ্যেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে অন্তত ১০ হাজার শরণার্থীকে। মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী।

ফলে আরো অনেকের মতো সীমান্তে কাঁটাতারের বাইরেই অপেক্ষা করছে ৯ দিন বয়সী রাহফ। সে কি ইউরোপে প্রবেশাধিকার পাবে? এখনো ঠিক করে উঠতে পারেনি বিশ্বরাজনীতি। জন্মেই শরণার্থী তকমা পেয়ে গেল এই শিশু। সেই পরিচয় নিয়েই অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়ে রয়েছে এই নবজাতিকা।

এআই