সুন্দর বিদায় হলো ক্ষতি না করে বিদায় নেয়া, সুন্দর ক্ষমা হলো বকা না দিয়ে ক্ষমা করা, সুন্দর ধৈর্য হলো অভিযোগ না রেখে ধৈর্য্ধারণ করা।
সৃষ্টিকর্তার এক আজব সৃষ্টি আমরা- মানুষ। দৈনন্দিন জীবনে আমাদের অনেকের সঙ্গে চলতে হয়। কাউকে বন্ধু মেনে ও কাউকে শত্রু মনে করে। তাও চলতে হয়।
এটিই পৃথিবীর নিয়ম। কিন্তু এই চলার মধ্যে আমরা অনেকের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে ফেলি, নিজের অজান্তেই। হয়তো পরে সেটি বুঝি যে, সেটি ভুল ছিল। তখন হয়তো আর ক্ষমা চাওয়ার মুখ থাকে না বা ইগোর কারণে চাইতেও ইচ্ছা হয় না।
ক্ষমাই যদি করতে না পারো, তবে তাকে ভালোবাসো কেন?
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
যারা নিজেদের রাগকে সংবরণ করে আর মানুষকে ক্ষমা করে,বস্তুত আল্লাহ তাদেরকেই ভালোবাসেন। আল-ইমরান,১৩৪
এভাবেই একটি সুন্দর সম্পর্ক ভেঙে যায়। চলুন আজ আমরা জেনে নিই ক্ষমা চাওয়ার কিছু কৌশল-
আপনার ভুল স্বীকার করুন
‘আমি তোমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছি, আমাকে মাফ করে দাও’- এভাবে বলুন। ক্ষমা চাওয়ার সময় অজুহাত দেখাবেন না যে, এ জন্য করিনি বা এ জন্য ভুল হয়েছে। সরাসরিভাবে বিনয়ের সঙ্গে ক্ষমা চান।
আপনার সরলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটান
আপনি যে তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে মন থেকে অনুতপ্ত, সেটি আপনার কথায় তাকে বুঝিয়ে দিন। কথা বলুন বিনয়ী সুরে ও নরম ভাষায়। আপনার বিনয়ের সম্পূর্ণটুকু উপস্থাপন করুন।
আর কখনও এমন হবে না
আমার কাছ থেকে তুমি আর এমন খারাপ ব্যবহার পাবে না- এটি তাকে বলুন। আপনার জীবনে তার ভূমিকা তুলে ধরুন। আপনার চলার পথে তাকে আপনার কতটুকু প্রয়োজন সেটি বোঝান।
আমি নিশ্চয়ই তোমাকে ভুলতে পারব না
যখন ক্ষমা চাইবেন, তখন তাকে বুঝিয়ে দিন- আপনি তাকে কত গুরুত্ব দেন আপনার জীবনে।আপনার জীবনের একটি অংশজুড়ে যে, সে আছে সেটি তাকে বুঝতে দিন।
মন থেকে ক্ষমা করুন
কাউকে কষ্ট দিয়ে কেউ সুখী হয় না। এই কথাটি যদি মানেন, তা হলে অবশ্যই তাকে আপনার মন থেকে ক্ষমা করতে হবে। আর তা না হলে বরং আপনি নিজেই কষ্ট পাবেন। দরকার কী কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজে কষ্ট পাওয়া।
তার কথা মন দিয়ে শুনুন
নিশ্চয়ই তিনি আপনার নামে কড়া অভিযোগের ঝুলি নিয়ে বসে আছেন। তার কথা মন দিয়ে শুনবেন। এর পর তার যা যা অভিযোগ সেসবের সমাধান দিন ঠাণ্ডা মাথায়।
সাহায্য করুন
যদিও তিনি আপনাকে শত্রু মনে করে, তাও তার ক্ষতির চিন্তা মাথায় আনবেন না। পাওয়ার আশা না করে দিয়ে যান। দেখবেন একদিন তিনি মন থেকে বুঝতে পারবেন, আপনি তার জীবনে কত দামি একজন ব্যক্তি।
এএস





