বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ভয়ঙ্কর মিথ্যাচার করেছেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা।  

তিনি ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ বাংলাদেশ থেকে ৩৭ মিলিয়ন (৩ কোটি ৭০ লাখ) হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান নিখোঁজ রয়েছেন। এজন্য তিনি ট্রাম্পের কাছে সাহায্য চেয়েছেন।

ধর্মীয় নীপিড়নের শিকার হওয়া ১৯টি দেশের ২৭ জন ব্যক্তির সঙ্গে ট্রাম্পের সাক্ষাৎকালে প্রিয়া সাহা নিজেকে বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে এইসব ভয়ঙ্কর মিথ্যাচার করেন। বুধবার (১৭ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউজে ওই সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রিয়া সাহা বলেন, “স্যার, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। সেখানে ৩৭ মিলিয়ন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান নিখোঁজ রয়েছেন। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা বাংলাদেশেই থাকতে চাই। সেখানে এখনো ১৮ মিলিয়ন সংখ্যালঘু মানুষ রয়েছে। আমার অনুরোধ দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশ ছাড়তে চাই না। শুধু থাকার জন্য সাহায্য করুন।”  

তিনি আরও বলেন, “আমি আমার বাড়ি-ঘর হারিয়েছি, তারা আমার বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। তারা আমার জমিজমা দখল করে নিয়েছে। কিন্তু তারা (সরকার) কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এখন পর্যন্ত।”

এসময় ট্রাম্প ওই নারীকে প্রশ্ন করেন, “কারা জমি দখল করেছে, করা বাড়ি-ঘর দখল করেছে?”

ট্রাম্পের প্রশ্নের উত্তরে ওই নারী বলেন, “তারা মুসলিম মৌলবাদী গ্রুপ এবং তারা সব সময় রাজনৈতিক আশ্রয় পায়। সব সময়ই পায়।”

তবে প্রিয়া সাহা কোন সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং কীসের ভিত্তিতে এইসব অভিযোগ করেছেন সে সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি।

এ খবর সম্প্রচার করে মার্কিন টিভি চ্যানেল এবিসি নেটওয়ার্কের চ্যানেল এবিসি ফোর ইউটাহ। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

প্রিয়া সাহা বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সাংগঠনিক সম্পাদক। পাশাপাশি তিনি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ‘শারি’-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবেও দায়িত্বরত আছেন। এছাড়া, বাংলাদেশ মহিলা ঐক্য পরিষদেরও একজন সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

এমবি