মিশরের রাজধানী কায়রো থেকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হওয়ার খবর গাজা উপত্যকায় পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে উল্লাস প্রকাশ করেছেন।
অনেকে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে এবং গাড়ির হর্ন বাজিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন।
গাজা উপত্যকার খান ইউনুস, জাবালিয়া ও রাফাহসহ সব শহরের রাস্তায় ফিলিস্তিনিদেরকে মিষ্টি বিতরণ করতে দেখা যায়। বিভিন্ন শহরের মসজিদ থেকে মাইকে 'আল্লাহু আকবার' ধ্বনি দিয়ে যুদ্ধবিরতির খবরকে স্বাগত জানানো হয়।
"আমরা গর্বিত"
গাজার বাসিন্দা আহমেদ আওফ পেশায় একজন শিক্ষক। যুদ্ধবিরতির খবর শোনার পর হাজার হাজার মানুষের সাথে তিনিও রাস্তায় উল্লাস প্রকাশ করার জন্য বেরিয়ে আসেন। বিজয়ের এই স্মরণীয় মুহূর্তের আনন্দ থেকে নিজের ২ বছর বয়সী শিশু সন্তানকেও তিনি বঞ্চিত করলেন না। কোলে তুলে নিয়ে আসেন ছেলেকে।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, " আমাদের (মনে) মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। আমাদের (স্বজন, বাড়িঘর) হারানোর বেদনা আছে। কিন্তু আমরা গর্বিত, আমরা এই যুদ্ধে একা লড়াই করেছি এবং আমরা ভেঙে পড়িনি।"
এদিকে হামাস নেতা মুহাম্মদ আল-জাহার গাজার জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, "আমরা কারো কাছে অনুমতি চাইব না, আমরা আমাদের সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করব...আমরা আমাদের বিমানবন্দর নির্মাণ করব।"
শক্তিশালী আর্মির নাক ভেঙে গেছে
গাজাবাসীর বিজয়ে আনন্দিত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের মানুষেরাও। যুদ্ধবিরতির সংবাদ শোনার পর নিজেদের আনন্দ প্রকাশ করার জন্য শত শত মানুষ পশ্চিম তীরের রামাল্লা শহরের আল-মানারাহ স্কয়ারে সমবেত হন। তাদের হাতে ছিল হামাসের পতাকা।
এদেরই একজন হলেন আজম গুমা। পেশায় তিনি একজন ইঞ্জিনিয়ার। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, " আজ প্রতিরোধ জয় লাভ করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিশালী সেনাবাহিনীর নাক ভেঙে দিয়েছে।"

আজম গুমার সাথে একমত পোষণ করে মাথা নাড়েন একটি গবেষণাগারের টেকনিশিয়ান ইয়াদ সালুম। তিনি বলেন, " এই প্রতিরোধ প্রমাণ করেছে যে, অন্য আরব রাষ্ট্রগুলো যে কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে, অল্প অস্ত্র নিয়ে তারা (হামাস) সেটা করতে পারে।" তিনি আরো বলেন, দখলদারদের উপর যুদ্ধবিরতি চুক্তি আরোপ করেছে প্রতিরোধকারীদের প্রতিরোধ।
গত ৮ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় ২,১৪২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়। এদের মধ্যে ৪৯০ জনেরও বেশি শিশু রয়েছে। এছাড়া অন্তত ৮৯টি ফিলিস্তিনি পরিবারের সবাই নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও ১০,৯১৫ জন।
ইসরাইলি হামলায় হাজার হাজার ঘর-বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। পেলেস্টাইন সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস নামের একটি সংগঠন জানিয়েছে, হামলার কারণে ৫৪০,০০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। অন্যদিকে, হামাসের প্রতিরোধে ৬৯ ইসরাইলি সেনা ও নাগরিক নিহত হয়েছে। সূত্র: ওয়ার্ল্ডবুলেটিন
ঢাকা, ২৭ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, টিআই





