নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার তোলপাড় সৃষ্টিকারী ফোনালাপ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

ফোনালাপের বিষয়টি স্বীকার করেছেন মান্না। তবে, তার দাবি তার বক্তব্য বিকৃত করে মিডিয়ায় প্রচার করা হয়েছে।

‘কথোপকথন ফাঁস: বিশ্ববিদ্যালয়ে লাশ চান মান্না’, ‘বিএনপির জন্য লাশ চান মান্না’, ‘লাশ চান মান্না’-এমন নানা ধরনের শীরোনামে দেশের শীর্ষ স্থানীয় প্রায় সব গণমাধ্যমেই মান্না-খোকার টেলিফোন আলাপের খবর ছাপা হয়।

এদিকে, এই খবর প্রকাশ হওয়ার পর পরই মান্নার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন সরকারের একাধিক মন্ত্রী। এমনকী ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমূল আলম এই ঘোষণাও দেন যে, যেখানেই মাহমুদুর রহমান মান্নাকে পাওয়া যাবে সেখানেই তাকে গণপিটুনি দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, মাহমুদুর রহমান মান্না তার ফোনালাপ বিকৃতভাবে প্রচার করাকে ব্যক্তি স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হামলা হিসেবে আখ্যায়িত করে যারা এটা করেছেন তাদের বিচার দাবি করেছেন।

এই পরিস্থিতিতে অনেকেরই মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, মান্নার বক্তব্য সঠিক নাকি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর সঠিক? আসলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে কী কথা হয়েছিল মান্না ও খোকার মধ্যে? টাইম নিউজবিডির পাঠকদের জন্য সেই ফোনালাপটি তুলে ধরা হলো:

মান্না: আগেই বলেছিলাম এখন যেভাবেই পারেন দু তিনটা হল দখল করেন। আগে এরম ছিল তো। আমাদের সময় যে, এই পাচটা হল আমাদের, ওই তিনটা হল ওদের –এরকম তো ছিল।

খোকা: হু হু…

মান্না: এখন হয়তো আমাকে বলবেন যে না আমাদের ছাত্রদলের ওই রকম স্ট্রন্থ (শক্তি) এখন নেই।

খোকা: নাই-তা না-ছাত্ররা হয়তো ছাত্র-ছাত্রের লড়াইটা কুলাতে পারবে। পুলিশ-টুলিশ আইসা ঢুইকা যদি ইয়া টিয়া করে। পরে ওই একটা বড় ধরনের একটা কিছু ইয়া হবে।

মান্না: একটা বড় ধরনের কিছু হলেই গভ:মেন্ট পাল্টে যাবে। গভ:মেন্ট সুতার ওপর ঝুলছে এখন। আমি যেভাবে যে টোনে কথা বলতে দেখছি আমার কাছে মনে হচ্ছে গভ:মেন্ট রিয়েলি একটা শেকির মধ্যে। আমি জানিনা যে কেরির সাথে ওখানে কী কথা হচ্ছে বা হবে।

খোকা: এখানে তো বিভিন্নভাবে আমরা কিছু ইনফ্লুয়েন্স করার চেষ্টা করছি।

ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় প্রসঙ্গে মান্না ও খোকার মধ্যে ফোনালাপে মূলত এসব কথাই হয়েছে। টাইম নিউজের পাঠকের জন্য ফোনালাপের অডিও নিচে দেয়া হলো।

উল্লেখ্য, ২৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিকালে রাজধানীতে মান্না নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্য আয়োজিত গণমিছিলের পরিকল্পনা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে কথার সূত্রপাত হয়। পরে দেশের সার্বিক রাজনীতি, পেট্রোল বোমায় মানুষ হতাহত এবং ক্রস ফায়ারের নামে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয় দুজনের মধ্যে।

প্রসঙ্গত, মান্না-খোকার ফোনালাপ ফাঁসের খবর মিডিয়ায় প্রচার হওয়ার পর নাগরিক ঐক্য ঘোষিত সোমবারের গণমিছিল আর হয়নি। প্রেসক্লাবে সামনে ছোট পরিসরে সমাবেশ হয়েছে এবং সেখানে মান্না উপস্থিত ছিলেন না। আর সমাবেশ চলাকালে প্রেসক্লাব এলাকায় মোতায়েন ছিল বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য।

কেবি