রানা প্লাজা ধসের দুই বছর পূর্ণ হলো। এখনো শাহিনুর বেগম, কবির হেসেন, জসিমুদ্দিনদের মা-বাবা, ছেলে-মেয়ে স্বজনদের চোখের জল শুকায়নি। অনেক শ্রমিকের স্বজনরা পাইনি প্রধানমন্ত্রীর গঠিত ত্রাণ তহবিলের একাউন্ট, সরকারি- বেসরকারি ও বিভিন্ন মহলের দেওয়া অর্থিক সহযোগিতা। মানবেতর জীবনযাপন করছে নিহত ও আহতদের পরিবার।
বুধবার রানা প্লাজা এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় অনেক লোকের ভীড়। টেলিভিশনের সংবাদিকরা ফুটেজ নিতে ব্যস্ত, অনেক নিহত শ্রমিকের স্বজনরা আসছে স্বজনদের স্বরণ করতে, আবার অনেকই আসছে সরকার কর্তৃক গঠিত রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য গঠিত ত্রাণ তহবিলের একাউন্ট করতে।
তেমনি একজন বাবা হাবি মাতুব্বর। তার মেয়ে শাহিনুর বেগম রানা প্লাজার চতুর্থ তলায় কাজ করতো। তিনি টাইমনিউজবিডি.কমকে বলছিলেন, শাহিনুর আমার ছোট মেয়ে ও আমাকে খুব ভালোবসতো। গ্রামে গেলে আমার জন্য অনেক কিছু নিয়ে যেতো। ঈদে আমার জন্য, ওর মার জন্য কাপড় কিনে নিয়ে যেতো। আমাদের বয়স হয়েছে তাই সে প্রতি মাসে আমাদের খাবারের জন্য টাকা দিত। আমরা তার লাশ সনাক্ত করতে পারিনি। এটুকু বলতেই আবেগে কেঁদে ফেলেন তিনি।
হাবি মাতুব্বর বলেন, শাহিনুরের মৃত্যুর পর তার স্বামী নতুন একটি বিয়ে করেছে। তার সুবর্ণা (৭) নামে একটি মেয়ে আছে। তার ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি চিন্তিত। আমাদের এখন বয়স হয়েছে, আমরা মারা গেলে তাকে কে দেখবে?
রানা প্লাজার তৃতীয় তলায় কাজ করতো জসিম। তার বাবা মোসলেমকে মৃত্যুর দুইদিন আগে ফোনে বলেছিলো, বাবা আমি এইমাসের বেতন পেলেই বাড়ি যাবো। গ্রামের বাড়ি ভোলার সে ঠিকই গিয়েছিলো কিন্তু জীবিত নয় লাশ হয়ে।
সরকারি সহযোগিতার সব টাকা পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে জসিমের বাবা মোসলেম উদ্দিন বলেন, আমরা দুই বারে ৭০ হাজার টাকা পেয়েছি। কিন্তু তহবিল একাউন্টের টাকা অনেকেই পেলেও আমরা পাইনি।
চতুর্থ তলায় কাজ করতো খুশি আক্তারের পরিবার। খুশি আক্তারের মামা হোসেন আলী টাইমনিউজবিডি.কমকে বলেন, আমি তেমন বুঝিনা। প্রায় দুই বছর থেকে এ অফিস ও অফিস ঘুরছি কিন্তু এখন পর্যন্ত একাউন্ট করতে পারিনি।
এমনিভাবে কবিরসহ অনেকের পরিবারই ক্ষতিপূরণের টাকা ও একাউন্ট করতে পারেনি।
এ বিষয়ে কথা হয় গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশাররেফা মিশুর সংঙ্গে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি মহল এটাকে নিয়ে রাজনীতি করছে। সাধারণ শ্রমিকের ক্ষতিপূরণের টাকা পর্যন্ত এখনো দেয়নি। আমরা এ বিষয়ে কথা বললেই মামলা দিচ্ছে। আমার নিজের উপর ৭টি মামলা দিয়েছে এবং জেলেও পাঠিয়েছিলো।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের সকল টাকা বুঝিয়ে না দেওয়া দোষীদের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের যে আন্দোলন চলছে তা চলবেই।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৮টায় সাভারে যুবলীগ নেতা সোহেল রানার ভবন রানা প্লাজা ধসে ১১৪০ জন নিহত, প্রায় ২৫০০ আহত এবং অসংখ্য শ্রমিক নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল গঠন করেন।
কেএইচ





