ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ১০টি প্রাইমারি স্কুল। চার মাসেও স্কুলগুলো মেরামত না করায় শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
কিছু দিন আগে টানা বৃষ্টিতে অস্থায়ীভাবে বানানো টিনের চালাঘরে পানি ঢোকায় সেখানেও ক্লাস বন্ধ হয়ে গেছে। এখন তাদের ক্লাস করতে হয় স্কুলের মাঠে।
জানা গেছে, গত ২৫ এপ্রিল ভূমিকম্পে ফাটল দেখা দেয় বিদ্যালয়গুলোর ভবনে। ২৬ এপ্রিল বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শনে গিয়ে ওই শ্রেণীক্ষগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বাইরে ক্লাস নেয়ার নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার।
গত সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পীরগঞ্জ উপজেলার খামার সেনুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির অফিস কক্ষে চতুর্থ শ্রেণীর, খোলা আকাশের নিচে পঞ্চম শ্রেণীর ও অফিস ভবনের বারান্দায় তৃতীয় শ্রেণির ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা।
পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া আতিকা সুলতানা জানায়, সমাপনী পরীক্ষা কাছাকাছি আর এই সময়ে খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টির জন্য ক্লাস নিতে পারছেন না স্যাররা। পরীক্ষার প্রস্ততি ভালো হচ্ছে না।
অভিভাবক মোস্তফা আলম টাইমনিউজবিডিকে বলেন,এভাবে কতদিন বাচ্চারা খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করবে।বিদ্যালয়ের কক্ষগুলো জরুরিভাবে মেরামত করা উচিৎ। তিনি জানান, তার মেয়ে এবার সমাপনী পরীক্ষা দেবে। কিন্তু ঠিকমত ক্লাস না হওয়ায় ওরা পিছিয়ে যাচ্ছে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাজমুন নাহার জানান, খোলা মাঠে ক্লাস নেয়ার ফলে শিক্ষার্থীরা পড়ায় মনোযোগী হতে পারছে না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জুয়েল টাইমনিউজবিডিকে জানান, সমাপনী পরীক্ষায় এই বিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর চার-পাঁচ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পায়। কিন্তু বছরের প্রায় শুরু থেকেই স্কুলে অবকাঠামোগত ঝামেলার জন্য প্রস্তুতি ভালো হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম জানান, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি স্কুলের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
এএইচ/ এআর





